Logo
Logo
×

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

রোজা রেখে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করলে কি রোজা ভেঙে যাবে?

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪২ পিএম

রোজা রেখে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করলে কি রোজা ভেঙে যাবে?

রোজা রেখে ডায়াবেটিস পরীক্ষা। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

রমজান মাস ইবাদত ও সংযমের মাস। এ সময় অনেক ডায়াবেটিস রোগীর নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয়। তাই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে— রোজা রেখে আঙুলে সূঁচ ফোটিয়ে রক্ত নিয়ে ডায়াবেটিস মাপলে রোজা নষ্ট হবে কি না। ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে।

রমজানের রোজা আল্লাহ তাআলা ফরজ করেছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَىٰ وَالْفُرْقَانِ ۚ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ ۖ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۗ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ...

অর্থ: “রমজান হলো সেই মাস, যাতে কোরআন নাজিল করা হয়েছে— মানুষের জন্য হেদায়েত, সৎপথের সুস্পষ্ট নির্দেশনা এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী হিসেবে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে রোজা রাখে। আর যে অসুস্থ বা সফরে থাকবে, সে অন্য দিনে তা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, কঠিন করতে চান না...”। (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৮৫)

শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, রোজা অবস্থায় শরীর থেকে রক্ত বের হলে রোজা ভেঙে যায় না। তাই চিকিৎসা বা পরীক্ষার প্রয়োজনে রক্ত দেওয়া বৈধ। তবে এত বেশি রক্ত দেওয়া মাকরুহ— যার ফলে শরীর অত্যধিক দুর্বল হয়ে যায় এবং রোজা রাখা কষ্টকর হয়ে পড়ে। এ কারণে দুর্বল ব্যক্তির জন্য রোজা অবস্থায় রক্তদান করা উচিত নয়।

অন্যদিকে, এমন সবল ব্যক্তি যার ক্ষেত্রে রক্ত দিলে রোজা রাখতে অসুবিধা হবে না, সে প্রয়োজনে রক্ত দিতে পারে— এতে কোনো সমস্যা নেই।

এ বিষয়ে হাদিসে এসেছে—

احْتَجَمَ النَّبِيُّ ﷺ وَهُوَ صَائِمٌ

‘নবী (সা.) রোজা অবস্থায় শিঙ্গা (হিজামা) করেছেন।’ (বুখারি ১৯৩৮, ১৯৪০)

সতর্কতার বিষয়—

ইনসুলিন এবং ডায়াবেটিস চিকিৎসার কিছু ওষুধ রক্তে চিনির মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে। রক্তে বিদ্যমান চিনির মাত্রা নির্দেশ করবে আপনার পরবর্তী করণীয়। আজকাল বাসায় বসে রোগী খুব সহজেই গ্লুকোমিটার দিয়ে এই পরীক্ষা করতে পারেন। রক্তে চিনির মাত্রা কমে গেলে শরীরে ব্যাপক বিপত্তি দেখা দিতে পারে, এমনকি রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন। দীর্ঘসময় চিনির মাত্রা কমে গিয়ে স্থায়ী স্নায়ুবৈকল্য হতে পারে। মৃত্যু পর্যন্ত নেমে আসতে পারে। তাই রক্তে চিনির মাত্রা ৩.৯ মি. মোল/লিটার এর নিচে নেমে গেলে রোজা ভেঙে ফেলতে হবে। এছাড়া ডায়াবেটিস বেড়ে গেলেও ভীষণ জটিলতা তৈরি হতে পারে।  ডায়াবেটিক কিটো এসিডোসিস পর্যন্ত হতে পারে। এ কারণে নিয়মিত চিনির মাত্রা পরীক্ষা করা জরুরি। 

যেহেতু ডায়াবেটিস পরীক্ষার জন্য সূঁচ ফুটিয়ে আঙুল থেকে মাত্র একফোঁটা রক্ত নেওয়া হয়, তাই এতে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না— ইনশাআল্লাহ।

তথ্যসূত্র: বুখারি ১৯৩৬, ১৯৪০; আল-বাহরুর রায়েক ২/২৭৩; কিতাবুল আসল ২/১৬৮; মাজমাউল আনহুর ১/৩৬০।

রোজা রেখে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ এবং এতে রোজা ভেঙে যায় না। তবে নিজের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করা উত্তম। ইসলামের বিধান মানুষের জন্য সহজতা নিশ্চিত করে— তাই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া রোজার পরিপন্থি নয়।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

চুপ থাকা কি সব সময় মহৎ গুণ, নাকি কথা বলাও জরুরি

চুপ থাকা কি সব সময় মহৎ গুণ, নাকি কথা বলাও জরুরি

প্রিয় মানুষের সঙ্গে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে!

প্রিয় মানুষের সঙ্গে খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে!

মেহেদি দিয়ে চুল-দাড়ি কালো করার শরয়ি বিধান কী?

মেহেদি দিয়ে চুল-দাড়ি কালো করার শরয়ি বিধান কী?

যে ৫ ক্ষেত্রে মানুষের দোষ গোপন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

যে ৫ ক্ষেত্রে মানুষের দোষ গোপন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

ল্যাবরেটরিতে তৈরি কৃত্রিম গোশত খাওয়া কি হালাল?

ল্যাবরেটরিতে তৈরি কৃত্রিম গোশত খাওয়া কি হালাল?

ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি কি একদম স্থির রাখতে হবে?

নামাজে অপ্রয়োজনীয় শরীর নড়াচড়া ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি কি একদম স্থির রাখতে হবে?

আরও পড়ুন

চুপ থাকা কি সব সময় মহৎ গুণ, নাকি কথা বলাও জরুরি

চুপ থাকা কি সব সময় মহৎ গুণ, নাকি কথা বলাও জরুরি

মেহেদি দিয়ে চুল-দাড়ি কালো করার শরয়ি বিধান কী?

মেহেদি দিয়ে চুল-দাড়ি কালো করার শরয়ি বিধান কী?

যে ৫ ক্ষেত্রে মানুষের দোষ গোপন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

যে ৫ ক্ষেত্রে মানুষের দোষ গোপন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

ল্যাবরেটরিতে তৈরি কৃত্রিম গোশত খাওয়া কি হালাল?

ল্যাবরেটরিতে তৈরি কৃত্রিম গোশত খাওয়া কি হালাল?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম