আইন অমান্য করে নফল তাওয়াফ করা কি জায়েজ?
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ০৯:০১ পিএম
নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নফল তাওয়াফের জন্য মাতাফে ঢোকা কি জায়েজ? ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সৌদি সরকারের বর্তমান নতুন নিয়ম অনুযায়ী কয়েক বছর ধরে মাতাফে অর্থাৎ কাবার চার পাশের খোলা জায়গায় শুধু ইহরাম অবস্থায় থাকা ব্যক্তি যারা ওমরাহ বা হজের তাওয়াফ করবেন, তাদেরকেই ঢুকতে দেওয়া হয়। ইহরামের কাপড় পরিহিত না থাকলে নফল তাওয়াফ করার জন্য নিরাপত্তারক্ষীরা কাউকে মাতাফে (তাওয়াফে) যেতে দেন না। হজ বা ওমরাহকারীদের ফরজ তাওয়াফের সুবিধার্থে ভিড় এড়ানোর জন্য সাধারণ নফল তাওয়াফকারীদের ভিড় কমানো এবং মাতাফের শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সৌদি সরকার এই নিয়ম করেছে।
এই নিয়ম ভাঙার জন্য অনেকে কৌশলের আশ্রয় নেন। তারা ওমরাহ করে হালাল হয়ে যাওয়ার পরও নফল তাওয়াফের জন্য ইহরামের পোশাক পরিধান করে মসজিদুল হারামে যান। নিরাপত্তারক্ষীরা তাদেরকে ওমরাহকারী মনে করে মাতাফে যেতে দেয়।
প্রশ্ন হলো— এভাবে কৌশলের আশ্রয় নিয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের ধোঁকা দিয়ে মাতাফে ঢোকা, নফল তাওয়াফ করা কি ঠিক? এ ব্যাপারে ইসলাম কী বলে?
নিরাপত্তারক্ষীদের ধোঁকা দিয়ে মাতাফে ঢোকা, নফল তাওয়াফ করা সম্পর্কে ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহসহ নির্ভরযোগ্য ওলামায়ে কেরামের মত হলো— সৌদি সরকার ওমরাহ ও হজ পালনকারীদের সুবিধার জন্য যে নিয়ম করেছে, সবার তা মেনে চলা কর্তব্য। মক্কার স্থানীয় বাসিন্দাদের যেমন এই নিয়ম মেনে চলা কর্তব্য, তেমনি ওমরাহ-হজ বা অন্য যে কোনো কাজে অন্যান্য দেশ থেকে যারা মক্কায় গিয়েছেন, তাদেরও এই নিয়ম মেনে চলা কর্তব্য।
এই নিয়ম ভাঙার জন্য ইহরামের কাপড় পরিধান করে নিরাপত্তারক্ষীদের ধোঁকা দিয়ে মাতাফে ঢোকা কোনোভাবেই একজন মুসলমানের জন্য সমীচীন, শোভনীয় ও বৈধ কাজ হতে পারে না।
যদিও ইসলামে ওমরাহর নিয়ত ছাড়াও ইহরামের কাপড় পরিধান করে নফল তাওয়াফ করা জায়েজ। কিন্তু এটাকে রাষ্ট্রীয় নিয়ম ভাঙা ও ধোঁকা দেওয়ার মাধ্যম বানানো কোনোভাবেই ঠিক নয়।

