Logo
Logo
×

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

আকিকার পরিবর্তে টাকা দান করলে কি আকিকা আদায় হবে?

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০৮:০০ পিএম

আকিকার পরিবর্তে টাকা দান করলে কি আকিকা আদায় হবে?

পশু কুরবানির পরিবর্তে টাকা দান করলে কি আকিকা আদায় হবে?

Advertisement

সন্তান জন্ম নেওয়ার পর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় ও সন্তানের কল্যাণ কামনায় ইসলাম যে সুন্দর আমলগুলোর শিক্ষা দিয়েছে, তার অন্যতম হলো আকিকা। এটি মুসলিম সমাজে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি সুন্নত আমল। তবে বর্তমান সময়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে— আকিকার জন্য পশু জবাই না করে যদি সেই অর্থ কোনো দরিদ্র ব্যক্তি, মাদরাসা বা জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে দান করে দেওয়া হয়, তাহলে কি আকিকার সওয়াব পাওয়া যাবে?

এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গি হলো— আকিকা কোনো ফরজ বা ওয়াজিব ইবাদত নয়; বরং এটি মুস্তাহাব বা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি আমল। তবে এই ইবাদতের নির্ধারিত পদ্ধতি রয়েছে, আর সেই পদ্ধতি অনুসরণ করেই আকিকার পূর্ণ সওয়াব অর্জিত হয়।

আলেমদের মতে, আকিকার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু জবাই করা এবং তার রক্ত প্রবাহিত করা। তাই পশু কুরবানি না করে সমপরিমাণ অর্থ দান করে দিলে সাধারণ সদকা বা দানের সওয়াব পাওয়া যাবে বটে, কিন্তু তা আকিকা হিসেবে গণ্য হবে না। অর্থাৎ, আকিকার বিশেষ ফজিলত ও বরকত কেবল শরিয়ত নির্ধারিত পদ্ধতিতে পশু জবাই করার মাধ্যমেই অর্জিত হয়।

বিশেষজ্ঞ আলেমরা আরও বলেন, ইবাদতের ধরন মানুষের ইচ্ছামতো পরিবর্তন করার সুযোগ নেই। ইসলামে যে ইবাদত যেভাবে আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা সেভাবেই পালন করতে হয়। তাই সন্তানের কল্যাণ ও আকিকার সুন্নত আদায়ের উদ্দেশ্যে পশু জবাই করাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। আর দান-সদকা চাইলে অতিরিক্ত নেক আমল হিসেবে আলাদাভাবে করা যেতে পারে।

আকিকা করার উত্তম সময়

সন্তান জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা করা উত্তম। এ বিষয়ে একাধিক হাদিসে নির্দেশনা এসেছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) তার দৌহিত্রদ্বয় হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর আকিকা সপ্তম দিনে করেছেন। হাদিসে এসেছে—

عَقَّ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَنِ الْحَسَنِ وَالْحُسَيْنِ يَوْمَ السَّابِعِ

‘রাসুলুল্লাহ (সা.) হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে আকিকা করেছেন।’ (আবু দাউদ ২৮৩৪)

তাই সম্ভব হলে সন্তানের জন্মের সপ্তম দিনেই আকিকা করা উত্তম। তবে কোনো কারণে সপ্তম দিনে সম্ভব না হলে ১৪তম দিন বা ২১তম দিনে করাও ভালো। হাদিসে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত—

الْعَقِيقَةُ تُذْبَحُ لِسَبْعٍ أَوْ لِأَرْبَعَ عَشْرَةَ أَوْ لِإِحْدَى وَعِشْرِينَ

‘আকিকা সপ্তম দিনে করা হবে। তা সম্ভব না হলে চৌদ্দতম দিনে, আর তাও সম্ভব না হলে একুশতম দিনে।’ (মুসতাদরাকে হাকেম ৭৬৬৯)

আকিকা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ও ফজিলতপূর্ণ আমল, যার মাধ্যমে সন্তানের জন্য দোয়া, কল্যাণ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করা হয়। যদিও দান-সদকা অত্যন্ত মহৎ কাজ, তবুও তা আকিকার বিকল্প হতে পারে না। কারণ শরিয়তে আকিকার জন্য নির্ধারিত পদ্ধতি হলো পশু জবাই করা। তাই সামর্থ্য থাকলে সন্তানের জন্মের পর সুন্নত অনুযায়ী আকিকা আদায় করা উচিত। পাশাপাশি দরিদ্রদের সহযোগিতা ও দান-সদকার আমলও অব্যাহত রাখা একজন মুমিনের উত্তম গুণ।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

কেউ একজন থাকুক, যে ভালোবাসার ছায়ায় জান্নাতের পথে এগিয়ে নেবে

কেউ একজন থাকুক, যে ভালোবাসার ছায়ায় জান্নাতের পথে এগিয়ে নেবে

স্বামী-স্ত্রী একে অপর থেকে কতদিন দূরে থাকতে পারবে?

স্বামী-স্ত্রী একে অপর থেকে কতদিন দূরে থাকতে পারবে?

নারী-পুরুষের পর্দার ধরন কি এক, নাকি ভিন্নতা আছে?

নারী-পুরুষের পর্দার ধরন কি এক, নাকি ভিন্নতা আছে?

গালিগালাজ করলে কি অজু ভেঙে যায়?

গালিগালাজ করলে কি অজু ভেঙে যায়?

রাস্তায় চলার পথে মুমিনের শিষ্টাচার কী?: রাসুলুল্লাহর (সা.) সুন্নাহ ও দিকনির্দেশনা

রাস্তায় চলার পথে মুমিনের শিষ্টাচার কী?: রাসুলুল্লাহর (সা.) সুন্নাহ ও দিকনির্দেশনা

চুপ থাকা কি সব সময় মহৎ গুণ, নাকি কথা বলাও জরুরি

চুপ থাকা কি সব সময় মহৎ গুণ, নাকি কথা বলাও জরুরি

আরও পড়ুন

কেউ একজন থাকুক, যে ভালোবাসার ছায়ায় জান্নাতের পথে এগিয়ে নেবে

কেউ একজন থাকুক, যে ভালোবাসার ছায়ায় জান্নাতের পথে এগিয়ে নেবে

স্বামী-স্ত্রী একে অপর থেকে কতদিন দূরে থাকতে পারবে?

স্বামী-স্ত্রী একে অপর থেকে কতদিন দূরে থাকতে পারবে?

নারী-পুরুষের পর্দার ধরন কি এক, নাকি ভিন্নতা আছে?

নারী-পুরুষের পর্দার ধরন কি এক, নাকি ভিন্নতা আছে?

গালিগালাজ করলে কি অজু ভেঙে যায়?

গালিগালাজ করলে কি অজু ভেঙে যায়?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম