কুরবানির পশু কেনার আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ মে ২০২৬, ১০:৪২ এএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র দুই দিন বাকি । এটি মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব। ধর্মপ্রাণ মুসলমান এই দিনটি উদযাপনে পরম আনন্দে অপেক্ষা করছে। সারা বিশ্বের মুসলমানরা ঈদুল আজহায় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় কুরবানি দিয়ে থাকেন। সেই কুরবানির লক্ষ্যে পশুরহাটে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা তাদের পছন্দের পশু কিনতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কুরবানির সম্পর্কে হজরত মিখজাফ ইবনে সালিম (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহকে (সা.) আরাফার ময়দানে দাঁড়িয়ে সমবেত লোকদেরকে সম্বোধন করে একথা বলতে শুনেছি, ‘হে লোক সকল! তোমরা জেনে রাখ, প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তির ওপর প্রত্যেক বছরই কুরবানি করা কর্তব্য। আর যার সামর্থ্য নেই তাদের ওপর কুরবানি কর্তব্য নয়। কারণ আল্লাহ কারও ওপর এমন কোনো কাজের দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না, যা তার সাধ্যের বাইরে।’ (তিরমিজি)
রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতিবছরই কুরবানি করেছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনার ১০ বছর জীবনের প্রতিবছরই কুরবানি করেছেন।’ (তিরমিজি : ১৫০৭)
কুরবানির সঙ্গে জড়িয়ে আছে হজরত ইবরাহীম (আ.)-এর স্মৃতি। হজরত ইবরাহীম (আ.) ত্যাগের পরীক্ষার চূড়ান্ত পর্বে নিজের সন্তানের গলায় ধারালো খঞ্জর চালিয়েছিলেন। তার এ আত্মত্যাগ আল্লাহর কাছে এতই প্রিয় হয়ে উঠেছিল যে, কেয়ামত পর্যন্ত সব সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর সেই ইবরাহীম (আ.)-এর স্মৃতির অনুশীলনে কুরবানি করা ওয়াজিব।
একবার সাহাবায়ে-কেরাম (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! কুরবানির তাৎপর্য কী? রাসুল (সা.) বললেন, কুরবানি করা এটা তোমাদের ধর্মীয় পিতা হজরত ইবরাহীম (আ.)-এর সুন্নত। সাহাবায়ে-কেরাম আবার জিজ্ঞাসা করলেন, এতে আমাদের জন্য কী সওয়াব রয়েছে? নবী করিম (সা.) বললেন, প্রত্যেকটি পশমের বিনিময়ে একটি করে সওয়াব হবে এবং কুরবানির দিন আল্লাহ তায়ালার নিকট পশু জবাই অপেক্ষা অন্য কোনো আমল বেশি পছন্দনীয় নয়। (মুসনাদে আহমাদ : ২৬০)
কুরবানি ওয়াজিব হলে না করার ক্ষতি
সামর্থ্য থাকার পরও কেউ যদি এই মহৎ ইবাদত পালন করে না, তাকে হাদিসে নিন্দা করা হয়েছে। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যার কুরবানির সামর্থ্য রয়েছে, কিন্তু কুরবানি করে না—সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদিস: ৩৫১৯; আত্তারগিব ওয়াত্তারহিব: ২/১৫৫)
কুরবানির পশু কেনার আগে যা জানা জরুরি
সাধারণত সুস্থ্, স্বাভাবিক, সবল পশু কুরবানি করার নিয়ম। কুরবানি দেয়ার জন্য পশু কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।
কুরবানি করার জন্য শরিয়তে কয়েক ধরনের পশু নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। গরু, মহিষ, উট, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দিয়ে কুরবানির করা জায়েজ। অন্য কোন পশু দিয়ে কুরবানি করার বিধান নেই।
আর বয়সের ক্ষেত্রে ছাগল, ভেড়া, দুম্বা অন্তত এক বছর । গরু, মহিষ অন্তত দুই বছর ও উট অন্তত ৫ বছর হতে হবে। তবে ভেড়া ও দুম্বা যদি এমন হৃষ্টপুষ্ট হয় যে ছয় মাসেরটি দেখতে এক বছরের মতো লাগে, তাহলে সেটি দিয়ে কুরবানি হবে।
কুরবানির পশু কেনার আগে খেয়াল রাখতে হবে- এমন দুর্বল পশু কেনা যাবে না যার হাড়ের মজ্জা শুকিয়ে গেছে বা কুরবানির স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারবে না। এরকম পশু দিয়ে কুরবানি জায়েজ হবে না। আর মোটা-তাজা পশু দিয়ে কুরবানি করা মুস্তাহাব।
কোন পশুর একটি পা যদি এমন ভাবে নষ্ট হয়ে যায় যে, চলার সময় সেটি দিয়ে কোন সাহায্য নিতে পারে না তবে ওই পশু দিয়ে কুরবানি হবে না।

