Logo
Logo
×

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

হতাশা কাটানোর ৬টি কার্যকরী আমল!

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৩০ পিএম

হতাশা কাটানোর ৬টি কার্যকরী আমল!

Advertisement

জীবনের পথে কখনো কখনো মানুষ হতাশা, দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ ও বিষণ্নতার সম্মুখীন হয়। এমন সময় অনেকেই প্রশান্তি খুঁজে ফিরেন বিভিন্ন উপায়ে। কিন্তু একজন মুমিনের জন্য প্রকৃত প্রশান্তির উৎস হলো আল্লাহর স্মরণ, কুরআনের সান্নিধ্য এবং ইবাদতের মাধ্যমে রবের সঙ্গে সম্পর্ককে দৃঢ় করা। ইসলাম শুধু আখিরাতের সফলতার পথই দেখায় না, বরং অন্তরের অশান্তি দূর করে হৃদয়ে প্রশান্তি ও আশার আলো জ্বালানোর দিকনির্দেশনাও দেয়।

আসুন, কুরআন ও হাদিসের আলোকে এমন ৬টি কার্যকর আমল সম্পর্কে জানি, যা হতাশা ও দুশ্চিন্তা দূর করে হৃদয়কে আলোকিত করতে সাহায্য করে। তাহলো—

১. প্রতিদিন কিছু সময় কুরআন তিলাওয়াত করুন

প্রতিদিন অন্তত ১৫-২০ মিনিট বিশুদ্ধভাবে কুরআন তিলাওয়াত করার চেষ্টা করুন। কুরআন শুধু একটি গ্রন্থ নয়; এটি মুমিনের হৃদয়ের জন্য শিফা (আরোগ্য), রহমত ও পথনির্দেশনা। কুরআনের বাণী—

وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ

‘আমি কুরআনে এমন বিষয় নাজিল করি যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত।’ (সুরা আল-ইসরা: আয়াত ৮২)

হাদিসে পাকে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ

‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়।’ (বুখারি ৫০২৭)

২. বেশি বেশি ইস্তিগফার ও দোয়া ইউনুস পাঠ করুন

অবিরত ইস্তিগফার করা এবং দোয়া ইউনুস পাঠ করা অন্তরের ভার লাঘব করে এবং আল্লাহর রহমত লাভের অন্যতম মাধ্যম। দোয়া ইউনুস—

لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ

উচ্চারণ: ‘লা ইলাহা ইল্লা আংতা সুবহানাকা ইন্নি কুংতু মিনাজ জ্বলিমিন।’

অর্থ: ‘আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম।’ (সুরা আল-আম্বিয়া: আয়াত ৮৭)

হাদিসে পাকে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَا دَعَا بِهَا مُسْلِمٌ فِي شَيْءٍ قَطُّ إِلَّا اسْتَجَابَ اللَّهُ لَهُ

‘কোনো মুসলিম এ দোয়া দ্বারা প্রার্থনা করলে আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন।’ (তিরমিজি ৩৫০৫)

৩. রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করুন

দরুদ শরিফ শুধু একটি ইবাদত নয়; এটি হৃদয়ের প্রশান্তি ও বরকতের উৎস। মনোযোগ ও ভালোবাসার সঙ্গে দরুদ পাঠ করলে অন্তরে প্রশান্তি অনুভূত হয়। কুরআনের বাণী—

إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا

‘নিশ্চয় আল্লাহ ও তার ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরুদ প্রেরণ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তার প্রতি দরুদ ও সালাম প্রেরণ কর।’ (সুরা আল-আহযাব: ৫৬)

হাদিসে পাকে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَنْ صَلَّى عَلَيَّ وَاحِدَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْرًا

‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশবার রহমত বর্ষণ করেন।’ (মুসলিম ৪০৮)

৪. ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বেশি বেশি পড়ুন

এই মহামূল্যবান জিকির বান্দাকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি ও ক্ষমতা নেই। এটি হৃদয়ের উদ্বেগ কমাতে সহায়ক। জিকিরটি হলো—

لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ

উচ্চারণ: ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ’

অর্থ: ‘আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই।’

হাদিসে পাকে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

أَلَا أَدُلُّكَ عَلَى كَنْزٍ مِنْ كُنُوزِ الْجَنَّةِ؟ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ

‘আমি কি তোমাকে জান্নাতের ধনভাণ্ডারসমূহের একটি ধনের কথা বলব না? তা হলো— ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’ (বুখারি ৬৩৮৪, মুসলিম ২৭০৪)

৫. দীর্ঘ সময় মনোযোগ সহকারে দোয়া করুন

অন্তরের সব কথা আল্লাহর কাছে খুলে বলুন। দোয়ার আগে সামর্থ্য অনুযায়ী সদকা করলে তা কল্যাণ ও বরকতের একটি উত্তম মাধ্যম হতে পারে। কুরআনের বাণী—

وَقَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ

‘তোমাদের রব বলেছেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’ (সুরা গাফির: আয়াত ৬০)

হাদিসে পাকে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

الدُّعَاءُ هُوَ الْعِبَادَةُ

‘দোয়াই হলো ইবাদত।’ (তিরমিজি ২৯৬৯)

৬. অধিক পরিমাণে জিকির করুন

আল্লাহর জিকির হৃদয়ের খাদ্য। যে হৃদয় জিকিরে সজীব থাকে, সেখানে হতাশা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। কুরআনের বাণী—

أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

‘জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই হৃদয়সমূহ প্রশান্তি লাভ করে।’ (সুরা আর-রা‘দ: আয়াত ২৮)

হাদিসে পাকে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

مَثَلُ الَّذِي يَذْكُرُ رَبَّهُ وَالَّذِي لَا يَذْكُرُ رَبَّهُ مَثَلُ الْحَيِّ وَالْمَيِّتِ

‘যে ব্যক্তি তার রবকে স্মরণ করে এবং যে স্মরণ করে না— তাদের উদাহরণ জীবিত ও মৃত ব্যক্তির মতো।’ (বুখারি ৬৪০৭)

হতাশা, দুশ্চিন্তা ও মানসিক কষ্ট মানুষের জীবনের স্বাভাবিক পরীক্ষা। তবে একজন মুমিন জানেন, প্রতিটি অন্ধকারের পরই আলো রয়েছে এবং প্রতিটি কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি। কুরআন তিলাওয়াত, ইস্তিগফার, দরুদ, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করলে হৃদয় প্রশান্ত হয়, মন শক্তি পায় এবং জীবনের প্রতি নতুন আশা জাগে। আসুন, আমরা দুশ্চিন্তার কাছে হার না মেনে আল্লাহর দিকে ফিরে যাই; কারণ প্রকৃত প্রশান্তি কেবল তারই স্মরণে। কারণ তিনি বলেছেন—

رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي

‘হে আমার রব! আমার বক্ষকে প্রশস্ত করে দিন।’ (সুরা ত্বহা: আয়াত ২৫)

আল্লাহ আমাদের সকলকে অন্তরের প্রশান্তি, দৃঢ় ঈমান এবং তাঁর স্মরণে পরিপূর্ণ জীবন দান করুন। আমিন।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

অবৈধ সম্পর্ক কি রিজিকে বরকত কমিয়ে দেয়?

অবৈধ সম্পর্ক কি রিজিকে বরকত কমিয়ে দেয়?

১০ বছর বয়সের পর দুই ভাই-বোন কি একই বিছানায় ঘুমাতে পারবে?

১০ বছর বয়সের পর দুই ভাই-বোন কি একই বিছানায় ঘুমাতে পারবে?

নিজের প্রতি জুলুম— যে ১২টি গুনাহে নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করি

নিজের প্রতি জুলুম— যে ১২টি গুনাহে নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করি

হাতা গুটিয়ে নামাজ পড়া কি জায়েজ?

হাতা গুটিয়ে নামাজ পড়া কি জায়েজ?

‘চোখের জিনা’ থেকে নিজেকে বাঁচাবেন যেভাবে

‘চোখের জিনা’ থেকে নিজেকে বাঁচাবেন যেভাবে

নবীজিকে (সা.) ভালোবাসার উপায়, যাতে পূর্ণতা পায় ইমান

নবীজিকে (সা.) ভালোবাসার উপায়, যাতে পূর্ণতা পায় ইমান

আরও পড়ুন

নামাজের সময়সূচি: ২৯ অক্টোবর ২০২৬

নামাজের সময়সূচি: ২৯ অক্টোবর ২০২৬

অবৈধ সম্পর্ক কি রিজিকে বরকত কমিয়ে দেয়?

অবৈধ সম্পর্ক কি রিজিকে বরকত কমিয়ে দেয়?

মসজিদুল হারামে এক জামাতে নামাজের ১০০ বছর

মসজিদুল হারামে এক জামাতে নামাজের ১০০ বছর

১০ বছর বয়সের পর দুই ভাই-বোন কি একই বিছানায় ঘুমাতে পারবে?

১০ বছর বয়সের পর দুই ভাই-বোন কি একই বিছানায় ঘুমাতে পারবে?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম