মসজিদুল হারামে এক জামাতে নামাজের ১০০ বছর
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে একজন ইমামের নেতৃত্বে এক জামাতে নামাজ আদায়ের প্রচলন ১০০ বছর পূর্ণ করেছে।
১৯২৬ সালের ২৭ অক্টোবর তৎকালীন সৌদি শাসক বাদশাহ আবদুল আজিজের উদ্যোগে দীর্ঘদিনের পৃথক জামাতের প্রথা বন্ধ করে মুসল্লিদের এক ইমামের পেছনে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা চালু করা হয়।
ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, এর আগে মসজিদুল হারামে সুন্নি ইসলামের চার মাজহাব—শাফেয়ি, হানাফি, মালিকি ও হাম্বলি—এর অনুসারীরা পৃথক স্থানে নিজ নিজ ইমামের পেছনে নামাজ আদায় করতেন। সাধারণত শাফেয়ি মাজহাবের অনুসারীরা প্রথমে নামাজ পড়তেন।
এরপর অন্য মাজহাবের অনুসারীরা পর্যায়ক্রমে জামাতে অংশ নিতেন। ফলে একই ওয়াক্তের নামাজ একাধিকবার অনুষ্ঠিত হতো।
১৯২৬ সালের ২৭ অক্টোবর বাদশাহ আবদুল আজিজের নির্দেশনা এবং হিজাজ ও নজদের আলেমদের সঙ্গে আলোচনার পর পৃথক জামাতের পরিবর্তে সবাইকে একজন ইমামের পেছনে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয় বলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।
এরপর থেকে মসজিদুল হারামে প্রতিটি ওয়াক্তের নামাজের জন্য একটি জামাতের প্রচলন অব্যাহত রয়েছে। একাধিক যোগ্য ইমাম পালাক্রমে ইমামতির দায়িত্ব পালন করলেও একই ওয়াক্তে পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হয় না।
ইসলামের প্রাথমিক যুগে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নেতৃত্বে মুসল্লিদের এক জামাতে নামাজ আদায়ের যে ঐতিহ্য ছিল, এই ব্যবস্থাকে তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখ লাখ মুসল্লি মসজিদুল হারামে একই জামাতে নামাজ আদায় করেন। মুসল্লিদের এই সম্মিলিত ইবাদত পবিত্র কাবাকে কেন্দ্র করে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
