ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রুকয়া কী, কখন তা করা প্রয়োজন এবং এ জন্য বিশ্বস্ত ব্যক্তি নির্বাচন করবেন কীভাবে— এ বিষয়ে ইসলামি নির্দেশনা তুলে ধরেছেন এক মুফতি। সম্প্রতি এ বিষয়ে করা এক প্রশ্নের উত্তরে মুফতি, লেখক ও গবেষক এবং ফেনীর রৌশন আলী মুন্সীবাড়ী জামে মসজিদের খতিব শাহাদাত হুসাইন ফরায়েজী এসব কথা জানান। তিনি বলেন, রুকয়া বা এ ধরনের চিকিৎসাপদ্ধতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত মেনে চলা জরুরি।
তিনি বলেন, রুকয়া আরবি শব্দ। এর অর্থ ঝাড়ফুঁক বা দম করা। সাধারণত পবিত্র কোরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম এবং হাদিসে বর্ণিত দোয়া পাঠের মাধ্যমে রুকয়া করা হয়। নিজের জন্য নিজে রুকয়া করা যায়, আবার অন্য কেউও রোগীর জন্য তা করতে পারেন। তবে রুকয়া করার ক্ষেত্রে শিরক ও প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফতোয়ায় বলা হয়, রুকয়ায় ব্যবহৃত দোয়া বা শব্দের অর্থ জানা থাকতে হবে। এতে শিরকপূর্ণ কোনো কথা ব্যবহার করা যাবে না এবং রুকয়া বা তাবিজ নিজে থেকেই রোগ সারাতে পারে—এমন বিশ্বাসও রাখা যাবে না। অন্য কারও মাধ্যমে রুকয়া করালে ওই ব্যক্তি অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
কখন রুকয়া প্রয়োজন?
ফতোয়ায় শারীরিক বা মানসিক অস্বাভাবিকতা, অজানা ভয়, দুঃস্বপ্ন, অতিরিক্ত ওয়াসওয়াসা কিংবা হঠাৎ রাগ ও আতঙ্কের মতো কিছু সমস্যার ক্ষেত্রে রুকয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব লক্ষণ থাকলেই কেউ জিন বা শয়তানের প্রভাবে আক্রান্ত—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।
সাধারণ অসুস্থতা, মানসিক চাপ বা অন্য কোনো সমস্যার ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক কিংবা উপযুক্ত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ধর্মীয় আমলের পাশাপাশি সমস্যার বাস্তব কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।
বিশ্বস্ত রুকয়া করানোর ব্যক্তি চিনবেন যেভাবে
রুকয়া করানোর জন্য এমন ব্যক্তিকে বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যিনি কোরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা অনুসরণ করেন, শিরকপূর্ণ বা অজানা মন্ত্র ব্যবহার করেন না এবং রোগীকে ভয় দেখিয়ে প্রতারণা করেন না। তাঁর আচরণে সততা, ধৈর্য ও নম্রতা থাকা প্রয়োজন।
কেউ রুকয়া করতে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত দাবি করলে তা যাচাই না করে বিশ্বাস করা উচিত নয়। একইভাবে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়, অস্বাভাবিক আচার পালন কিংবা সন্দেহজনক তাবিজ ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
কোরআন-হাদিসে রুকয়ার নির্দেশনা
ফতোয়ায় সহিহ মুসলিমের একটি হাদিস উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে সাহাবিরা রুকয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁদের রুকয়ার পদ্ধতি তুলে ধরতে বলেন এবং শিরক না থাকলে রুকয়ায় আপত্তি নেই বলে জানান।
এ ছাড়া সুনানে তিরমিজিতে সূরা ফাতিহা পাঠের মাধ্যমে রুকয়ার ঘটনা এবং শিশুদের সুরক্ষার জন্য দোয়া করার বিষয়ে হাদিসের উল্লেখ রয়েছে।

-6ae17c3206615.jpg)