Logo
Logo
×

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

কোর্ট ম্যারেজ কি ইসলামে বৈধ?

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৮ পিএম

কোর্ট ম্যারেজ কি ইসলামে বৈধ?

Advertisement

বর্তমানে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ‘কোর্ট ম্যারেজ’ বা আদালতে গিয়ে বিয়ে করার প্রবণতা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের অমতে কিংবা আবেগের বশবর্তী হয়ে তারা এই পদ্ধতিতে বিয়ে করেন। 

তবে কেবল আদালতে গিয়ে এফিডেভিট বা হলফনামায় স্বাক্ষর করলেই কি ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হয়? নাকি এর জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত? 

কোর্ট ম্যারেজ বলতে সাধারণত কী বোঝায়?

বাংলাদেশে প্রচলিত অর্থে ‘কোর্ট ম্যারেজ’ বলতে সাধারণত আদালতে গিয়ে একজন আইনজীবীর উপস্থিতিতে এফিডেভিট বা হলফনামা সম্পাদন করাকে বোঝানো হয়। তবে এটি নিজে কোনো ইসলামী বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়।

শুধু এফিডেভিট বা কাগজে স্বাক্ষর করলেই কি ইসলামে বিয়ে হয়ে যায়?

শুধু কাগজে স্বাক্ষর করা বা এফিডেভিট সম্পাদন করা ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মুখে ইজাব ও কবুল বা প্রস্তাব ও গ্রহণ উচ্চারণ করতে হয়। তারা কথা বলার সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও শুধু লিখিতভাবে সম্মতি জানালে ইসলামী বিধান অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হবে না।

তাহলে কোর্ট ম্যারেজ কি ইসলামে অবৈধ?

কোর্ট ম্যারেজ বলেই তা অবৈধ—বিষয়টি এমন নয়। আদালতে বা অন্য কোনো স্থানে বিয়ের সময় ইসলামী শরিয়াহর প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ হলে সেই বিয়ে বৈধ হতে পারে।

কোর্টে কী কী শর্ত পূরণ হলে বিয়ে বৈধ হবে?

 বিয়ের সময় শরিয়াহ অনুযায়ী ইজাব ও কবুল সম্পন্ন হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষী উপস্থিত থাকতে হবে। মুসলিম ছেলে-মেয়ের বিয়ের ক্ষেত্রে অন্তত দুজন মুসলিম সাক্ষীর উপস্থিতিতে উকিল বা কাজি শরিয়াহসম্মত পদ্ধতিতে বিয়ে পড়িয়ে দিলে এবং বর-কনে মুখে তা কবুল করলে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য হবে।

সাক্ষী ছাড়া শুধু ছেলে-মেয়ে দুজন সম্মতি দিলে কি বিয়ে হবে?

না। শুধু ছেলে-মেয়ের পারস্পরিক সম্মতি বা কাগজে স্বাক্ষর যথেষ্ট নয়। ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সাক্ষী ও ইজাব-কবুলের শর্ত পূরণ করতে হবে।

এফিডেভিট করার পর কী করতে হবে?

যদি এফিডেভিট করার সময় শরিয়াহ অনুযায়ী ইজাব-কবুল সম্পন্ন না হয়ে থাকে কিংবা প্রয়োজনীয় সাক্ষী উপস্থিত না থাকেন, তাহলে শুধু ওই এফিডেভিটের ভিত্তিতে বিয়ে হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে শরিয়াহর নিয়ম অনুযায়ী পুনরায় বিয়ে পড়াতে হবে।

কোর্টে বিয়ে করলে কীভাবে নিশ্চিত হওয়া যাবে যে বিয়েটি শরিয়াহসম্মত হয়েছে?

শুধু হলফনামায় স্বাক্ষর করেই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে—এমন ধারণা করা ঠিক নয়। বিয়ের সময় ইজাব ও কবুল মুখে উচ্চারণ করা হয়েছে কি না, প্রয়োজনীয় সাক্ষী উপস্থিত ছিলেন কি না এবং শরিয়াহর অন্যান্য শর্ত পূরণ হয়েছে কি না—এসব নিশ্চিত করতে হবে।

মূল কথা 

ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ের ক্ষেত্রে শুধু কাগজপত্র বা এফিডেভিট গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং নির্ধারিত নিয়মে ইজাব-কবুল এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষীর উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। তাই কেবল হলফনামায় স্বাক্ষর করে বাড়ি ফিরে আসাকে ইসলামী বিয়ে হিসেবে গণ্য করা হবে না। শরিয়াহর শর্ত পূরণ করে বিয়ে সম্পন্ন করতে হবে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

হাতা গুটিয়ে নামাজ পড়া কি জায়েজ?

হাতা গুটিয়ে নামাজ পড়া কি জায়েজ?

ছোট হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিয়ের আয়োজন, চাপে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা

ছোট হচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিয়ের আয়োজন, চাপে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা

‘চোখের জিনা’ থেকে নিজেকে বাঁচাবেন যেভাবে

‘চোখের জিনা’ থেকে নিজেকে বাঁচাবেন যেভাবে

নবীজিকে (সা.) ভালোবাসার উপায়, যাতে পূর্ণতা পায় ইমান

নবীজিকে (সা.) ভালোবাসার উপায়, যাতে পূর্ণতা পায় ইমান

মানসিক চাপ ও হতাশা থেকে মুক্তির ৫ দিকনির্দেশনা ও আমল

মানসিক চাপ ও হতাশা থেকে মুক্তির ৫ দিকনির্দেশনা ও আমল

সবকিছু মনের মতো না হলেও কি ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে হবে?

সবকিছু মনের মতো না হলেও কি ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলতে হবে?

আরও পড়ুন

হাতা গুটিয়ে নামাজ পড়া কি জায়েজ?

হাতা গুটিয়ে নামাজ পড়া কি জায়েজ?

‘চোখের জিনা’ থেকে নিজেকে বাঁচাবেন যেভাবে

‘চোখের জিনা’ থেকে নিজেকে বাঁচাবেন যেভাবে

নবীজিকে (সা.) ভালোবাসার উপায়, যাতে পূর্ণতা পায় ইমান

নবীজিকে (সা.) ভালোবাসার উপায়, যাতে পূর্ণতা পায় ইমান

মানসিক চাপ ও হতাশা থেকে মুক্তির ৫ দিকনির্দেশনা ও আমল

মানসিক চাপ ও হতাশা থেকে মুক্তির ৫ দিকনির্দেশনা ও আমল

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম