ভালো দ্বীনদার পাত্র না পেলে আজীবন অবিবাহিত থাকা কি শরিয়তসম্মত?
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিবাহের জন্য উপযুক্ত দ্বীনদার পাত্র না পাওয়া গেলে সারাজীবন অবিবাহিত থাকা ভালো, নাকি দ্বীনের বিষয়ে গভীর জ্ঞান না থাকলেও সৎ ও চরিত্রবান মুসলিমকে বিয়ে করা যেতে পারে—এমন প্রশ্ন অনেকেরই রয়েছে। ইসলামী শরিয়তের আলোকে এ বিষয়ে আলেমদের ব্যাখ্যায় বিবাহের গুরুত্ব এবং পাত্রের দ্বীন ও চরিত্রকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো গ্রহণযোগ্য শরঈ কারণ ছাড়া আজীবন অবিবাহিত থাকার সিদ্ধান্তকে উৎসাহিত করা হয়নি। বরং এমন কোনো মুসলিম পাত্র, যিনি সৎচরিত্রবান, সঠিক আকিদার অধিকারী এবং ফরজ-ওয়াজিব পালনে সচেষ্ট—দ্বীনের গভীর জ্ঞান না থাকলেও—তার সঙ্গে বিবাহকে বৈধ ও গ্রহণযোগ্য বলা হয়েছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা অবিবাহিতদের বিবাহের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সূরা আন-নূরের ৩২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, অবিবাহিতদের বিবাহ সম্পন্ন করতে এবং তারা দরিদ্র হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের সচ্ছল করে দেবেন।
হাদিসেও বিবাহকে নবীজি (সা.)-এর সুন্নাহ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তিনি রোজা রাখতেন আবার রোজা ভাঙতেন, নামাজ পড়তেন ও বিশ্রাম নিতেন এবং বিবাহও করতেন। এরপর তিনি তার সুন্নাহ থেকে বিমুখ হওয়াকে নিরুৎসাহিত করেছেন। হাদিসটি সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে।
এ ছাড়া সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, উসমান ইবনে মাজউন (রা.)-এর চিরকুমার থাকার প্রবণতাকে রাসুলুল্লাহ (সা.) অনুমোদন করেননি। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে এ ঘটনার বর্ণনা রয়েছে।
পাত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ইসলাম দ্বীন ও চরিত্রকে অগ্রাধিকার দিতে বলেছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এমন কোনো পাত্র যদি বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে আসে যার দ্বীনদারি ও চরিত্রে পরিবার সন্তুষ্ট, তাহলে তার সঙ্গে বিবাহ দেওয়া উচিত। অন্যথায় সমাজে ফিতনা ও ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি হতে পারে। হাদিসটি জামে তিরমিজি ও সুনান ইবনে মাজাহতে বর্ণিত হয়েছে।
এই ব্যাখ্যার আলোকে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি মুসলিম, সঠিক আকিদার অনুসারী, হারাম উপার্জন ও প্রকাশ্য অশ্লীলতা থেকে বিরত এবং ন্যূনতম ফরজ পালনে সচেষ্ট হলে শুধু দ্বীনের গভীর জ্ঞান না থাকার কারণে তাকে বিয়ের অযোগ্য বলা যায় না। দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক সহযোগিতা ও উৎসাহের মাধ্যমে দ্বীনি জ্ঞান ও আমল আরও বাড়ানোর সুযোগ থাকতে পারে।
তবে কোনো পাত্র যদি নামাজ বা দ্বীনকে অবজ্ঞা করে, কুফরি বা শিরকি বিশ্বাসে বিশ্বাসী হয়, কিংবা প্রকাশ্যে অনৈতিক ও চরিত্রহীন জীবনযাপন করে, তাহলে এমন পাত্রকে প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে শুধু এমন পাত্র না পাওয়ার কারণে আজীবন অবিবাহিত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়াকেও সমাধান হিসেবে দেখানো হয়নি।
অতএব, কেবল উচ্চস্তরের দ্বীনদার বা আলেম পাত্র না পাওয়াকে কারণ দেখিয়ে সারাজীবন অবিবাহিত থাকার পরিবর্তে সৎ, চরিত্রবান ও দ্বীন পালনে আগ্রহী মুসলিম পাত্রের সন্ধান করাকে শরিয়তের দৃষ্টিতে অধিক উপযোগী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

