দুই তালাকের পর খোলা হলে মোট কয় তালাক হয়?
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৫ পিএম
সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তালাকের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে স্বামী আলাদা সময়ে দুইবার তালাক উচ্চারণ করার পর আদালতের মাধ্যমে খোলা সম্পন্ন হলে বৈবাহিক সম্পর্কের অবস্থান কী হবে—এ নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন থাকে।
একটি প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে, স্বামী যদি একই বাড়িতে পৃথক দুই সময়ে স্ত্রীকে স্পষ্টভাবে বলেন, “তোকে তালাক দিয়ে দিলাম”, তাহলে তা সরীহ বা স্পষ্ট তালাকের শব্দ হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের স্পষ্ট শব্দ উচ্চারণের ক্ষেত্রে আলাদা করে নিয়তের প্রয়োজন হয় না।
এরপর আদালতের মাধ্যমে যদি খোলা তালাকও সম্পন্ন হয়ে থাকে, তাহলে উল্লিখিত পরিস্থিতিতে মোট তিন তালাক সংঘটিত হয়েছে বলে ধরা হবে। ফলে স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক আর বহাল থাকবে না।
স্বামী পরবর্তীতে যদি দাবি করেন যে, তিনি কথাগুলো মন থেকে বলেননি, তাতেও স্পষ্ট তালাকের বিধান পরিবর্তিত হবে না। কারণ হাদিসে তালাক, বিবাহ এবং স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার মতো বিষয়কে এমন বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে বা রসিকতার ছলেও উচ্চারণ করলে তা কার্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“তিনটি বিষয় এমন যে, ইচ্ছাকৃতভাবে করলে যেমন কার্যকর হয়, ঠাট্টা করেও করলে তা কার্যকর হয়—তালাক, বিবাহ ও রজআত।”
—সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস ২০৩৯; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস ২১৯৪।
তিন তালাকের পর কি আবার প্রথম স্বামীর কাছে ফেরা যায়?
তিন তালাক কার্যকর হয়ে গেলে আগের স্বামী-স্ত্রী সরাসরি নতুন করে বিয়ে করলেই বৈবাহিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে পারবেন না।
শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, স্ত্রীকে প্রথমে ইদ্দত পালন করতে হবে। এরপর তিনি অন্য একজন পুরুষকে বৈধভাবে বিয়ে করলে এবং সেই বিবাহে স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন প্রতিষ্ঠিত হলে, পরবর্তীতে দ্বিতীয় স্বামী স্বেচ্ছায় তালাক দিলে এবং তার ইদ্দতও শেষ হলে প্রথম স্বামীর সঙ্গে পুনরায় বিয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে পূর্বপরিকল্পনা করে শুধু প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তথাকথিত ‘হালালা’ আয়োজন করা শরিয়তের স্বাভাবিক বিবাহব্যবস্থার সঙ্গে এক বিষয় নয়। বিষয়টি নিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি অনুযায়ী যোগ্য আলেম বা মুফতির পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
পুনরায় বিয়ে করতে হলে কী করতে হবে?
উল্লিখিত শর্তগুলো পূরণ হওয়ার পর প্রথম স্বামীর সঙ্গে পুনরায় বিয়ে করতে চাইলে নতুন করে বিবাহ সম্পন্ন করতে হবে। সেক্ষেত্রে নতুন মোহর নির্ধারণ এবং সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ইজাব-কবুলের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন করতে হবে। প্রথম স্বামী বা স্ত্রীর অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতি বিয়ের আবশ্যিক শর্ত নয়।
কোরআনের নির্দেশনা
পবিত্র কোরআনের সূরা আল-বাকারার ২৩০ নম্বর আয়াতে তিন তালাকের পর পুনরায় প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তৃতীয় তালাকের পর স্ত্রী অন্য স্বামীকে বিবাহ না করা পর্যন্ত প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবেন না। পরবর্তী স্বামী তালাক দিলে এবং ইদ্দত শেষ হওয়ার পর উভয়ের যদি মনে হয় যে তারা আল্লাহর নির্ধারিত সীমা মেনে চলতে পারবেন, তাহলে তারা পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারেন।
তবে বাস্তব জীবনের তালাক, খোলা, আদালতের নথি এবং তালাকের উচ্চারিত শব্দের ধরন অনুযায়ী বিধান ভিন্ন হতে পারে। তাই এমন বিষয়ে শুধু সাধারণ তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ নিয়ে একজন নির্ভরযোগ্য আলেম, মুফতি বা পারিবারিক আইন বিশেষজ্ঞের সরাসরি পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।


