‘ডিভোর্স দিলাম’ বললে কত তালাক হয়?
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
‘তালাক’ আরবি শব্দ হলেও বাংলা ভাষায় এটি বহুল ব্যবহৃত। অন্যদিকে ‘ডিভোর্স’ ইংরেজি শব্দ। ইসলামী বিধানসংক্রান্ত আলোচনায় উভয় শব্দই তালাক বোঝাতে স্পষ্ট বা সরীহ শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। ফলে কোনো স্বামী স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ‘ডিভোর্স দিলাম’ বললে তালাক কার্যকর হওয়ার বিষয়টি প্রযোজ্য হয়।
একবার ‘ডিভোর্স’ বা ‘তালাক’ শব্দ উচ্চারণ করলে এক তালাক, দুইবার বললে দুই তালাক এবং তিনবার বললে তিন তালাক হিসেবে গণ্য হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেই হিসাবে, স্বামী যদি একবার ‘আমি তোমাকে ডিভোর্স দিলাম’ বলেন, তাহলে এক তালাক-এ-রজঈ সংঘটিত হবে।
তবে তালাকের ধরন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী এর বিধান ভিন্ন হতে পারে। এ কারণে বিষয়টি কয়েকটি পর্যায়ে ব্যাখ্যা করা হয়।
এক তালাকের ক্ষেত্রে:
স্বামী স্ত্রীকে এক তালাক-এ-রজঈ দিলে ইদ্দতের সময় শেষ হওয়ার আগে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে। এ ক্ষেত্রে নতুন করে বিবাহের প্রয়োজন হয় না। তবে ইদ্দত শেষ হয়ে গেলে পুনরায় বিবাহ করতে হবে।
এক বা দুই তালাকের ক্ষেত্রে:
স্বামী স্ত্রীকে এক বা দুই তালাক দিলে এবং তিন তালাক পূর্ণ না হলে পরবর্তী সময়ে নতুন মোহর নির্ধারণ করে পুনরায় বিবাহের সুযোগ থাকে।
তিন তালাকের ক্ষেত্রে:
স্বামী স্ত্রীকে মৌখিক বা লিখিতভাবে একসঙ্গে কিংবা আলাদা সময়ে তিন তালাক দিলে আগের স্বামীর সঙ্গে সরাসরি পুনরায় দাম্পত্য সম্পর্কে ফেরার সুযোগ থাকে না। কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই নারী অন্য একজনকে বিবাহ করার পর সেই বিবাহ বিচ্ছেদ বা স্বামীর মৃত্যুর মতো কারণে দ্বিতীয় বিবাহের অবসান হলে এবং ইদ্দত শেষ হওয়ার পর আগের স্বামীর সঙ্গে নতুন করে বিবাহের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনের সূরা আল-বাকারার ২৩০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে—
“অতঃপর সে (স্বামী) যদি (তৃতীয়) তালাক দিয়ে দেয়, তবে সে (তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী) তার জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত হালাল হবে না, যতক্ষণ না সে অন্য কোনো স্বামীকে বিবাহ করবে। অতঃপর যদি সে (দ্বিতীয় স্বামী) তাকে তালাক দিয়ে দেয়, তবে তারা উভয়ে পুনরায় একে অন্যের কাছে ফিরে এলে তাদের কোনো গুনাহ নেই—শর্ত হলো, তারা মনে করে যে আল্লাহর সীমারেখা বজায় রাখতে পারবে।”
— সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২৩০
তালাকের ক্ষেত্রে উচ্চারিত শব্দ, নিয়ত, পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট মাজহাবের ফিকহি বিধান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত ভিন্ন হতে পারে। তাই বাস্তব কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য আলেম বা মুফতির কাছ থেকে বিস্তারিত পরামর্শ নেওয়া উচিত।

