আপন ভাইয়ের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ও কথা বন্ধ, দোয়া কি কবুল হবে?
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, অর্থনৈতিক লেনদেন, ভুল বোঝাবুঝি কিংবা দীর্ঘদিনের অভিমান—কখনো কখনো এসব কারণে আপন ভাইয়ের সঙ্গেও কথা বন্ধ হয়ে যায়। একসময় যে ভাই ছিল সবচেয়ে আপন, তার সঙ্গেই তৈরি হয় দূরত্ব। কিন্তু এই দূরত্ব যখন দীর্ঘস্থায়ী হয়, তখন মনে নানা প্রশ্ন জাগে— ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ থাকলে কি আল্লাহর কাছে দোয়া কবুল হয়? আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে রাখলে কি আল্লাহর ক্ষমা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে?
ইসলাম এ বিষয়ে অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে। ভাইয়ের সঙ্গে বিরোধ থাকলেই একজন মানুষের সব দোয়া কবুল হবে না—এমন কথা বলা যায় না। তবে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা, পারস্পরিক বিদ্বেষ পুষে রাখা এবং অন্যের অধিকার নষ্ট করার ব্যাপারে কুরআন-হাদিসে কঠোর সতর্কতা রয়েছে। তাই আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি বিরোধ মিটিয়ে সম্পর্ক পুনর্গঠনের আন্তরিক চেষ্টা করাও জরুরি।
দোয়া কবুলের বিষয়ে হাদিস কী বলে?
রাসুলুল্লাহ (সা.) জানিয়েছেন, কোনো বান্দা গুনাহের কাজ কিংবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য দোয়া না করা পর্যন্ত তার দোয়া কবুল হতে থাকে। একই সঙ্গে দোয়া কবুলে তাড়াহুড়া করে হতাশ হয়ে পড়তেও নিষেধ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
لَا يَزَالُ يُسْتَجَابُ لِلْعَبْدِ مَا لَمْ يَدْعُ بِإِثْمٍ أَوْ قَطِيعَةِ رَحِمٍ، مَا لَمْ يَسْتَعْجِلْ
‘বান্দার দোয়া কবুল হতে থাকে, যতক্ষণ না সে কোনো গুনাহের কাজ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য দোয়া করে এবং তাড়াহুড়া করে।’
সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল!, দোয়া কবুলে তাড়াহুড়া করা বলতে কী বোঝায়?’ তিনি বললেন, ‘বান্দা বলতে থাকে, আমি দোয়া করেছি, আবার দোয়া করেছি, অথচ আমার দোয়া কবুল হতে দেখিনি। এরপর সে হতাশ হয়ে পড়ে এবং দোয়া করা ছেড়ে দেয়।’ (মুসলিম ২৭৩৫)
এই হাদিসের শিক্ষা হলো, গুনাহের কাজ কিংবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে দোয়া করা উচিত নয়। একই সঙ্গে দোয়া কবুল হতে দেরি হচ্ছে মনে করে হতাশ হয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা বন্ধ করে দেওয়াও অনুচিত।
তবে ভাইয়ের সঙ্গে বিরোধ থাকলেই সব দোয়া প্রত্যাখ্যাত হবে, হাদিসটি এমন কথা বলে না। বরং নিজের ভুল সংশোধন, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং সম্পর্কের অবনতি দূর করার চেষ্টা করাই একজন মুমিনের করণীয়।
তিন দিনের বেশি কথা বন্ধ রাখা কি জায়েজ?
ইসলাম ব্যক্তিগত রাগ, অভিমান ও বিরোধের কারণে দীর্ঘদিন সম্পর্ক ছিন্ন করে রাখাকে নিরুৎসাহিত করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন—
لَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَهْجُرَ أَخَاهُ فَوْقَ ثَلَاثِ لَيَالٍ، يَلْتَقِيَانِ فَيُعْرِضُ هَذَا وَيُعْرِضُ هَذَا، وَخَيْرُهُمَا الَّذِي يَبْدَأُ بِالسَّلَامِ
‘কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের সঙ্গে তিন রাতের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করে থাকা বৈধ নয়। তাদের দেখা হলে একজন এদিকে, অন্যজন ওদিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। তাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে আগে সালাম দেয়।’ (বুখারি ৬০৭৭)
হাদিসটি শেখায়, রাগ বা অভিমানের কারণে দীর্ঘদিন কথা বন্ধ করে রাখা উচিত নয়। আপন ভাইয়ের সঙ্গে বিরোধ হলেও সম্ভব হলে আগে সালাম দিয়ে যোগাযোগ শুরু করা, ভুল বোঝাবুঝি দূর করা এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া উত্তম।
তবে এ নির্দেশনার অর্থ এই নয় যে নির্যাতন, হুমকি বা নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকলেও কাউকে বাধ্যতামূলকভাবে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে যেতে হবে। এমন ক্ষেত্রে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেও উপযুক্ত মাধ্যমে যোগাযোগ বা মীমাংসার চেষ্টা করা যায়।
পারস্পরিক বিদ্বেষ কি আল্লাহর ক্ষমা লাভে বাধা হতে পারে?
মানুষের মধ্যে বিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু সেই বিরোধ যদি দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতা, হিংসা ও বিদ্বেষে রূপ নেয়, তাহলে তা আধ্যাত্মিক জীবনের জন্যও উদ্বেগের বিষয়।
সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজাগুলো খোলা হয়। তখন আল্লাহর সঙ্গে শিরক করে না, এমন বান্দাদের ক্ষমা করা হয়। তবে যাদের মধ্যে পারস্পরিক শত্রুতা রয়েছে, তাদের বিষয়ে মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়। হাদিসে পাকে এসেছে—
تُفْتَحُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَيَوْمَ الْخَمِيسِ، فَيُغْفَرُ لِكُلِّ عَبْدٍ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا، إِلَّا رَجُلًا كَانَتْ بَيْنَهُ وَبَيْنَ أَخِيهِ شَحْنَاءُ
‘সোমবার ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজাগুলো খোলা হয়। তখন আল্লাহর সঙ্গে কোনো কিছুকে শরিক করে না, এমন প্রত্যেক বান্দাকে ক্ষমা করা হয়; তবে সেই ব্যক্তি ছাড়া, যার সঙ্গে তার ভাইয়ের শত্রুতা রয়েছে।’ (মুসলিম ২৫৬৫)
হাদিসের পরবর্তী অংশে বলা হয়েছে, এ দুজনের বিষয়ে মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলা হয়।
এ থেকে বোঝা যায়, পারস্পরিক বিদ্বেষ পুষে রাখা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। ভাইয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ থাকলে তা মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। নিজের ভুল থাকলে ক্ষমা চাওয়া, অন্যের অধিকার নষ্ট করে থাকলে তা ফিরিয়ে দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে মধ্যস্থতার সাহায্য নেওয়া জরুরি।
হজরত আয়েশা (রা.) ও আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রা.)-এর ঘটনা
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার গুরুত্ব বোঝাতে উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) ও তাঁর ভাগনে আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রা.)-এর একটি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
বর্ণিত আছে, হজরত আয়েশা (রা.)-এর দান-খয়রাত নিয়ে আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রা.) আপত্তি জানানোর পর তিনি তাঁর সঙ্গে কথা না বলার মানত করেন। বিরোধ দীর্ঘায়িত হলে হজরত আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রা.) মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (রা.) ও আবদুর রহমান ইবনুল আসওয়াদকে মধ্যস্থতার অনুরোধ জানান।
তারা হজরত আয়েশা (রা.)-কে স্মরণ করিয়ে দেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করে থাকতে নিষেধ করেছেন। অবশেষে হজরত আয়েশা (রা.) তার সঙ্গে কথা বলেন এবং নিজের মানতের কাফফারা হিসেবে চল্লিশজন দাস মুক্ত করেন। পরে মানতের কথা মনে পড়লে তিনি এত কাঁদতেন যে তার ওড়না চোখের পানিতে ভিজে যেত। (বুখারি ৬০৭৩)
ঘটনাটি থেকে শিক্ষা পাওয়া যায়, মতবিরোধ যত গভীরই হোক, তা দীর্ঘায়িত না করে মীমাংসার চেষ্টা করা উচিত। প্রয়োজনে পরিবারের বিশ্বস্ত সদস্য বা নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর সাহায্য নিয়ে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার পরিণতি কতটা গুরুতর?
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর সতর্কবাণী দিয়েছেন। তিনি বলেছেন—
لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعٌ
‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (বুখারি ৫৯৮৪)
এটি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে কঠোর সতর্কবাণী। তাই সম্পত্তি, অর্থ কিংবা ব্যক্তিগত অভিমানের কারণে আপন ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার আগে নিজের আচরণ পর্যালোচনা করা উচিত।
তবে এই হাদিসের ভিত্তিতে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির আখেরাতের পরিণতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক নয়। কারও প্রকৃত অবস্থা, তার ভুলের ধরন, তওবা এবং আল্লাহর বিচার— এসবের চূড়ান্ত জ্ঞান আল্লাহর কাছেই রয়েছে। আমাদের দায়িত্ব হলো সতর্কবাণী থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং নিজেদের আচরণ সংশোধন করা।
কুরআনের নির্দেশনা: ক্ষমা করুন, আল্লাহর ক্ষমা প্রত্যাশা করুন
ভাইয়ের সঙ্গে বিরোধ মেটানোর ক্ষেত্রে কুরআনের একটি আয়াত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَلْيَعْفُوا وَلْيَصْفَحُوا ۗ أَلَا تُحِبُّونَ أَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَكُمْ ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ
‘তারা যেন ক্ষমা করে এবং উদারতা প্রদর্শন করে। তোমরা কি চাও না যে আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করে দিন? আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা আন-নুর: আয়াত ২২)
এই আয়াত মানুষকে ক্ষমা ও উদারতার শিক্ষা দেয়। আমরা প্রত্যেকেই আল্লাহর ক্ষমা প্রত্যাশা করি। তাই অন্যের ভুলের ক্ষেত্রে যথাসম্ভব ক্ষমাশীল হওয়া এবং সম্পর্ক পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।
অবশ্য ক্ষমা করার অর্থ অন্যায়কে বৈধতা দেওয়া নয়। কারও অধিকার নষ্ট হলে তা ফিরিয়ে দিতে হবে, আর্থিক বিরোধ থাকলে ন্যায্য সমাধান করতে হবে এবং নির্যাতন বা নিরাপত্তার ঝুঁকি থাকলে প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করতে যা করবেন
১. আগে সালাম দিন
ভাই আগে যোগাযোগ করবেন— এমন অপেক্ষায় না থেকে নিজেই সালাম দিয়ে কথা শুরু করুন। সরাসরি কথা বলা কঠিন হলে ফোন বা বার্তার মাধ্যমে তার খোঁজ-খবর নিতে পারেন।
২. নিজের ভুল স্বীকার করুন
বিরোধে নিজেরও দায় থাকলে তা মেনে নিন। আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করুন এবং প্রয়োজন হলে ক্ষমা চান। এতে ছোট হওয়া নয়; বরং সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া প্রকাশ পায়।
৩. সম্পত্তি ও অধিকারসংক্রান্ত বিরোধ ন্যায্যভাবে মেটান
উত্তরাধিকার, অর্থ বা সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ থাকলে আবেগের পরিবর্তে ন্যায়সংগত সমাধানের চেষ্টা করুন। কারও প্রাপ্য অধিকার আটকে রেখে শুধু মুখে সম্পর্ক ঠিক করার কথা বললে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। প্রয়োজনে বিশ্বস্ত আলেম, আইনজ্ঞ বা নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর সাহায্য নিন।
৪. ক্ষমা করার মানসিকতা গড়ে তুলুন
ভাইয়ের আচরণে কষ্ট পেলে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা যায়। তবে প্রতিশোধের মনোভাব পুষে না রেখে সম্ভব হলে বিরোধ মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন।
৫. দোয়া অব্যাহত রাখুন
ভাইয়ের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে বলে দোয়া ছেড়ে দেবেন না। নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চান, অন্তর নরম করে দেওয়ার প্রার্থনা করুন এবং ভাইয়ের কল্যাণ কামনা করুন। পাশাপাশি সম্পর্ক ঠিক করার জন্য বাস্তব পদক্ষেপ নিন।
৬. নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রাখুন
নির্যাতন, হুমকি বা অন্য কোনো নিরাপত্তাঝুঁকি থাকলে নিজের সুরক্ষার জন্য দূরত্ব বজায় রাখা প্রয়োজন হতে পারে। সম্পর্ক রক্ষা করার অর্থ অন্যায় সহ্য করা নয়। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ যোগাযোগ, বিশ্বস্ত ব্যক্তির মধ্যস্থতা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তার মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করা উচিত।
তাহলে ভাইয়ের সঙ্গে কথা বন্ধ থাকলে কি দোয়া কবুল হবে?
এ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর হলো— ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ থাকলেই আপনার সব দোয়া কবুল হবে না, এমন কোনো সাধারণ বিধান নেই। দোয়া কবুলের বিষয়টি আল্লাহর ইচ্ছা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং পারস্পরিক বিদ্বেষ পুষে রাখার বিষয়ে হাদিসে যে সতর্কতা এসেছে, তা অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
তাই দোয়া বন্ধ করবেন না। আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহের ক্ষমা চান, অন্তরের কঠোরতা দূর করার প্রার্থনা করুন এবং ভাইয়ের সঙ্গে বিরোধ মেটানোর তৌফিক চান। একই সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করুন; যেমন— সালাম দেওয়া, ক্ষমা চাওয়া, অন্যের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং ন্যায্য সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া।
সম্পর্কের দরজা বন্ধ নয়, ক্ষমা ও ভালোবাসায় খুলে দিন
আপন ভাইয়ের সঙ্গে বিরোধ মানুষের জীবনে গভীর কষ্ট তৈরি করতে পারে। কিন্তু অভিমানকে দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতায় পরিণত হতে দেওয়া উচিত নয়। কুরআন ও হাদিসের শিক্ষা হলো, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করতে হবে, পারস্পরিক বিদ্বেষ দূর করতে হবে এবং ভুল হলে সংশোধনের পথে ফিরতে হবে।
আজও যদি ভাইয়ের সঙ্গে কথা বন্ধ থাকে, তবে সম্ভব হলে একটি সালাম, একটি ফোনকল কিংবা আন্তরিক একটি বার্তা দিয়ে শুরু করুন। নিজের ভুল থাকলে ক্ষমা চান, তার ভুল থাকলে ন্যায্য সমাধানের চেষ্টা করুন। আর যদি সরাসরি যোগাযোগ নিরাপদ না হয়, তাহলে বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারীর সাহায্য নিন।
মনে রাখবেন, ভাইয়ের সঙ্গে বিরোধ থাকলেও আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়ার কারণ নেই। দোয়া অব্যাহত রাখুন, নিজের আচরণ সংশোধন করুন এবং সম্পর্ক পুনর্গঠনের আন্তরিক চেষ্টা করুন। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করুন, তিনি যেন অন্তর থেকে বিদ্বেষ দূর করেন, ন্যায় ও ক্ষমার পথে পরিচালিত করেন এবং পরিবারে শান্তি ও ভালোবাসা ফিরিয়ে দেন।

