সঙ্গীর ঠোঁট চুম্বন নিয়ে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির অবাক করা গবেষণা
Advertisement
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
‘ঠোঁটে ঠোঁট রেখে ব্যারিকেড’ তৈরি করা এখন অতিসাধারণ বিষয়। তবু প্রথম চুম্বনের অনুভূতি সহজে ভোলা যায় না—উষ্ণ সেই স্মৃতি ফিরে আসে বারবার। অনেকটা পছন্দের প্লে-লিস্ট সময়ে-অসময়ে রিপ্লেড হওয়ার মতো ঘটনা। শুধু ভালোবাসার প্রকাশ নয়, সম্পর্ককে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অস্ত্র চুমু। শুধু যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করতে বা শারীরিক ঘনিষ্ঠতার জন্যই চুম্বনের প্রয়োজন, তা কিন্তু নয়। এখানেই ব্যারিকেড ভাঙে চুমু। যেখানে প্রকাশ পায় স্নেহ, আবেগ ও অনুভূতি।
দেহ থেকে দেহে সঞ্চারিত হয় বিশ্বাসের নিঃশব্দ ধ্বনি—এনার্জি ট্রান্সমিশন। তরঙ্গ। I will kiss thy lips, haply some poison yet doth hang on them (আমি তোমার ঠোঁটে চুমু খাব, হয়তো কিছু বিষ এখনো ঝুলে আছে)। জুলিয়েট তো নিজেকে শেষ করতে চেয়েছিল রোমিওর ঠোঁটে ঠোঁট রেখেই।
চুমুর জন্যও সারা বছরে একটি দিন বরাদ্দ রয়েছে। ভালোবাসা দিবস। তবে সঙ্গী পাশে থাকলে আর সেই দিনের প্রয়োজন পড়ে না। সবাই ফ্রেঞ্চ কিস-এ পারদর্শী হয় না। এই চুমু শুধু ঠোঁটে সীমাবদ্ধ থাকে না। ছুঁয়ে যায় একে অন্যের জিহ্বাও। ফ্রেঞ্চ কিসে রয়েছে রোমান্টিকতার ছোঁয়া।
এ বিষয়ে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন এবং ফ্লোরিডা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির গবেষকদের নতুন এক গবেষণা বলছে, আমাদের আদিম পূর্বপুরুষ (Great Apes) শুরু করেছিল চুমু খাওয়া। অর্থাৎ, চুমু আসলে বানরের খেলা। গবেষকরা শিম্পাঞ্জি, ওরাংওটাং এবং বনবোদের আচরণ বিশ্লেষণ করে এ সিদ্ধান্তে এসেছেন যে, আজ থেকে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে গ্রেট এপদের এক সাধারণ পূর্বপুরুষ প্রথম চুমু খাওয়া শুরু করেছিল। ভাবুন একবার, প্রাগৈতিহাসিক সেই আবেগ-অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ আজও প্রেম-ভালোবাসার ক্ষেত্রে কতটা পাওয়ারফুল।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, আপনার প্রিয়জনের ঠোঁটে ঠোঁট রাখার আগে চুমুর কিছু ধরন ও গভীরতা—
কপালে চুমু আঁকা
কপালে চুমু খাওয়ার অর্থ হচ্ছে— ভালোবাসা যেখানে রয়েছে, সেখানে স্নেহ ও সম্মানও থাকতে বাধ্য। সেই সম্মান ও স্নেহ প্রকাশ পায় যদি সঙ্গী কপালে চুমু খায়। সাধারণত এ ধরনের চুমুকে ‘স্টার্টার কিস’ বলে। আর সম্পর্কের ভিত মজবুত করতে এই স্টার্টার কিসই এক প্রকার হাতিয়ার। হাজার ব্যস্ততার মাঝে যদি দুই সেকেন্ডের জন্যও সঙ্গীর কপালের ঠোঁট ছোঁয়ান, সম্পর্কে সব রাগ-অভিমান ভেঙে যায়।
লিঙ্গারিং কিস
প্রথম প্রেম আর প্রথম চুমু কখনো কি ভোলা যায়? প্রথমবার একে-অন্যের কাছে আসার সময়ে যেভাবে হৃদস্পন্দন বাড়ে, তাতে ফ্রেঞ্চ কিস করা সম্ভব নয়। কিন্তু সঙ্গীর ঠোঁট যদি আলতোভাবে ছুঁয়ে যায়, সেই অনুভূতিও হয় গভীর। আর লিঙ্গারিং কিস হলো ঠিক তেমনই অনুভূতির শুরু। যেখানে ভালোবাসা গভীরভাবে প্রকাশ পায়, অথচ দুজনের ঠোঁট আলতোভাবে ছুঁয়ে থাকে এক-অন্যকে।
সিঙ্গেল লিপ কিস
জেন জিদের প্রেমের সম্পর্কের অনেক নাম। তবে যৌনতায় মেতে ওঠার শুরুতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই চুমু হয় কমন ফ্য়াক্টর। সেখানেই সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি চাহিদা রয়েছে এই সিঙ্গেল লিপ কিসের। এই চুমু কিছুটা স্যান্ডউইচের মতো। যেখানে একজনের দুটি ঠোঁটের মাঝে অন্যজনের একটি ঠোঁট থাকে।
ইয়ারলোব কিসিং
মানুষের কানে একাধিক ‘নার্ভ এন্ডিং’ রয়েছে। অর্থাৎ স্নায়ু শেষ হয় শরীরের এই পয়েন্টে এসে। সেই পয়েন্টে যদি কেউ ঠোঁট ছোঁয়ায়, তাহলে শরীরে উদ্দীপনা তৈরি হয় না। ঠোঁটে চুমু না খেয়েও ফিজিক্য়াল অথবা সেক্সচুয়াল সেনসেশনে মেতে উঠতে চাইলে শুরুটা ইয়ারলোব কিসিং দিয়ে করতেই পারেন।

