Logo
Logo
×
   

Advertisement

লাইফ স্টাইল

বসন্ত ও ভ্যালেন্টাইন উদযাপন কি সিঙ্গেলদের জন্য নীরব মানসিক চাপ

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম

বসন্ত ও ভ্যালেন্টাইন উদযাপন কি সিঙ্গেলদের জন্য নীরব মানসিক চাপ

বসন্ত ও ভ্যালেন্টাইন উদযাপন কি সিঙ্গেলদের জন্য নীরব মানসিক চাপ। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

ভালোবাসা দিবস আর বসন্ত—দুটোই প্রেম, রঙ আর উদযাপনের প্রতীক। চারদিকে লাল-হলুদের সাজ, সামাজিক মাধ্যমে দম্পতিদের ছবি, নানা আয়োজন—সব মিলিয়ে উৎসবমুখর আবহ। তবে যারা সিঙ্গেল, তাদের কাছে এই সময়টা সবসময় আনন্দের নাও হতে পারে; অনেকের জন্য এটি নীরব মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষ স্বভাবতই সামাজিক তুলনায় অভ্যস্ত। সামাজিক মাধ্যমে অন্যের সুখী মুহূর্ত বারবার দেখলে নিজের জীবনকে সেই মানদণ্ডে মাপার প্রবণতা বাড়ে। 

২০২২ সালে জার্নাল অব সোশ্যাল অ্যান্ড পার্সোনাল রিলেশনশিপ–এ প্রকাশিত একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার একাকিত্ববোধ ও আত্মমূল্যায়নের সংকট বাড়াতে পারে। ভ্যালেনটাইন্স ডে–এর সময় অ্যালগরিদমে প্রেমঘন কনটেন্ট বেশি ভেসে ওঠায় এই প্রভাব আরও তীব্র হয়।

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গেও আবেগের সম্পর্ক রয়েছে। অ্যামেরিকান সাইক্রিয়েটিক অ্যাসোসিয়েশন সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার (এসএডি) নিয়ে বহু গবেষণা করেছে। শীতে বিষণ্নতা বেশি দেখা গেলেও বসন্তে সামাজিক কর্মকাণ্ড বাড়ার কারণে ‘ফিয়ার অব মিসিং আউট’ (ফোমো) বাড়তে পারে। চারপাশে সবাই যখন উৎসবে ব্যস্ত, তখন কেউ কেউ নিজেকে পিছিয়ে পড়া বা আলাদা মনে করতে পারেন।

তবে সিঙ্গেল থাকা মানেই একাকিত্ব নয়। ২০১৭ সালে দি জার্নাল অব পজিটিভ সাইকোলজি–এ প্রকাশিত গবেষণা বলছে, সিঙ্গেল ব্যক্তিরা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, আত্মউন্নয়ন ও বিস্তৃত সামাজিক সম্পর্ক থেকে ইতিবাচক উপকার পেতে পারেন। অর্থাৎ সম্পর্ক না থাকলেও মানসিক সুস্থতা সম্ভব—যদি ব্যক্তি নিজের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকেন।

মূল চাপ তৈরি হয় সামাজিক প্রত্যাশা থেকে। নির্দিষ্ট বয়সের পর সম্পর্ক বা বিয়ে নিয়ে যে চাপ তৈরি হয়, বিশেষ দিনগুলো তা সাময়িকভাবে বাড়িয়ে দেয়। বসন্তের রোমান্টিক আবহ অনেককে মনে করিয়ে দেয়—‘আমি কি কিছু মিস করছি?’ এই প্রশ্ন থেকেই অস্বস্তি জন্ম নেয়।

এ সময়টাকে ইতিবাচকভাবে কাটানোর উপায় আছে। নিজের পছন্দের কাজ করা, বন্ধু–পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, নিজেকে ছোট উপহার দেওয়া—এসব আত্মসম্মান বাড়ায়। মনোবিজ্ঞানীরা ‘সেলফ-কমপ্যাশন’ বা আত্ম-সহানুভূতির ওপর জোর দেন—নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার না করে গ্রহণ করা। মন খারাপ হলে সেটি স্বীকার করুন, তবে নিজেকে দোষারোপ করবেন না।

মনে রাখা জরুরি, ভালোবাসা শুধু রোমান্টিক সম্পর্কে সীমাবদ্ধ নয়। বন্ধুত্ব, পরিবার, এমনকি নিজের প্রতিও ভালোবাসা সমান মূল্যবান। বসন্ত যেমন নতুন শুরুর প্রতীক, তেমনি সিঙ্গেল সময়টাও হতে পারে আত্ম-আবিষ্কারের উজ্জ্বল অধ্যায়। সম্পর্কের স্ট্যাটাস নয়—মানসিক সুস্থতাই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম