রাগ কমানোর উপায় নিয়ে যা বলছে গবেষণা
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাগ ঝেড়ে ফেললেই মন হালকা হয়— এমন ধারণা বহু মানুষের মধ্যে প্রচলিত। কিন্তু ১৫৪টি গবেষণা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাগ প্রকাশ বা ‘ভেন্টিং’ করলে তা কমে না; বরং কিছু ক্ষেত্রে উল্টো বাড়তেও পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাগ সামলাতে শরীর ও মনকে শান্ত করার কৌশল— যেমন ধ্যান, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস বা কিছুক্ষণ বিরতি নেওয়া— বেশি কার্যকর।
বৈজ্ঞানিক বিষয়ভিত্তিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ScienceAlert জানিয়েছে, ২০২৪ সালে প্রকাশিত এক মেটা-অ্যানালাইসিসে Ohio State University–এর গবেষকেরা রাগ নিয়ে করা ১৫৪টি গবেষণা পর্যালোচনা করেন। মোট ১০ হাজার ১৮৯ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর পরিচালিত এসব গবেষণায় বয়স, লিঙ্গ, সংস্কৃতি ও জাতিগত বৈচিত্র্য ছিল। ফলাফল বলছে, রাগ ঝাড়লে উপকারের প্রমাণ খুব সীমিত; কিছু ক্ষেত্রে তা আরও বেড়েছে।
গবেষণার জ্যেষ্ঠ লেখক ও যোগাযোগবিজ্ঞানী ব্র্যাড বুশম্যান ফল প্রকাশের সময় বলেন, রাগ বের করে দিতে হবে— এই ধারণা ভাঙা জরুরি। তার ভাষায়, ক্যাথারসিস তত্ত্বকে সমর্থন করার মতো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
তবে গবেষকেরা বলছেন, রাগকে একেবারে দমন করাও সমাধান নয়। কেন রাগ হচ্ছে, তার কারণ খুঁজে দেখা এবং অন্তর্নিহিত সমস্যা চিহ্নিত করা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বারবার রাগ প্রকাশ করতে গিয়ে অনেকেই একই বিষয় নিয়ে ঘুরপাক খান, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। অনেকে শারীরিকভাবে রাগ ঝাড়ার চেষ্টা করেন— এতে শারীরিক উপকার হতে পারে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে মেজাজ হালকা নাও হতে পারে।
গবেষণার প্রধান লেখক ও ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটির যোগাযোগবিজ্ঞানী সোফি জারভিক জানান, রাগ কমানোর মূল চাবিকাঠি হলো শরীরের উত্তেজনা বা ‘অ্যারাউজাল’ কমানো। জনপ্রিয় ধারণার বিপরীতে, দৌড়ানো বা উচ্চমাত্রার ব্যায়াম অনেক সময় উত্তেজনা বাড়িয়ে রাগও বাড়াতে পারে। ‘রেজ রুম’-এর মতো জায়গায় ভাঙচুর করে রাগ ঝাড়ার প্রবণতাও গবেষণার অনুপ্রেরণা ছিল বলে তারা উল্লেখ করেন।
এই গবেষণা Stanley Schachter ও Jerome Singer প্রস্তাবিত দুই-উপাদান তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে, যেখানে বলা হয় আবেগের একটি শারীরবৃত্তীয় ও একটি মানসিক দিক রয়েছে। আগের গবেষণায় মানসিক ব্যাখ্যা বদলানোর দিকে জোর দেওয়া হলেও, নতুন এই বিশ্লেষণে শারীরিক উত্তেজনা কমানোর দিকটি গুরুত্ব পেয়েছে।
বক্সিং, সাইক্লিং, জগিংয়ের মতো উত্তেজনাবর্ধক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস, ধ্যান, যোগব্যায়াম ইত্যাদিও বিশ্লেষণ করা হয়। দেখা গেছে, ধীরগতির যোগ, মাইন্ডফুলনেস, প্রগ্রেসিভ মাসল রিলাক্সেশন, ডায়াফ্রাম্যাটিক ব্রিদিং এবং অল্প সময়ের বিরতি— এসব পদ্ধতি ল্যাব ও বাস্তব পরিবেশে রাগ কমাতে কার্যকর। তবে জগিংয়ের মতো কিছু কার্যক্রমে রাগ বাড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। আনন্দময় দলীয় খেলাধুলা শারীরিক উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
বুশম্যানের মতে, কিছু ব্যায়াম হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী হলেও রাগ নিয়ন্ত্রণে তা সেরা সমাধান নয়। ভেন্টিং সাময়িক স্বস্তি দিলেও তা আগ্রাসী আচরণকে শক্তিশালী করতে পারে।
গবেষকেরা বলছেন, এ বিষয়ে আরও গবেষণা দরকার। তবে আপাতত রাগ নিয়ন্ত্রণে শান্তিমূলক কৌশল— যেমন ধ্যান, শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন, কিংবা ১০ পর্যন্ত গোনা— কার্যকর উপায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। কেয়ারভিকের মতে, এ জন্য সবার থেরাপিস্টের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই; মোবাইল অ্যাপ বা অনলাইন ভিডিও থেকেও দিকনির্দেশনা পাওয়া সম্ভব।

