লাল পেঁয়াজের যত উপকারিতা, যাদের জন্য সতর্কতা
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ১০:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপদাহে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে এবং পানিশূন্যতা রোধে লাল পেঁয়াজ একটি কার্যকরী প্রাকৃতিক সমাধান হিসেবে কাজ করে।
সম্প্রতি ‘মলিকিউলস’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, লাল পেঁয়াজে থাকা প্রোটিন, ফেনোলিক যৌগ, ফ্ল্যাভোনয়েড এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের ওপর তাপের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে।
কেন লাল পেঁয়াজ গরমের জন্য সেরা?
‘জার্নাল অব ফুড মেজারমেন্ট অ্যান্ড ক্যারেক্টারাইজেশন’-এর গবেষণা অনুযায়ী, লাল পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে পানি এবং ইলেকট্রোলাইট থাকে। এটি রোদে বেশিক্ষণ থাকার ফলে শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া পানি ও খনিজ পদার্থের ঘাটতি পূরণ করে।
তীব্র গরমে পেটের নানা সমস্যা দেখা দেয়। পুষ্টিবিদ রুজুতা দিওয়েকারের মতে, কাঁচা লাল পেঁয়াজ হজমে সহায়তা করে এবং অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য বাড়াতে সাহায্য করে। ‘ফুড বায়োসায়েন্স’ জার্নালের তথ্যমতে, লাল পেঁয়াজে থাকা কুয়ারসেটিন প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করলে পানিশূন্যতা রোধ করা সম্ভব।
হিটস্ট্রোক প্রতিরোধে লাল পেঁয়াজের ভূমিকা
লাল পেঁয়াজ মূলত একটি ‘ফাংশনাল ফুড’, যা হিটস্ট্রোকের লক্ষণগুলোর তীব্রতা কমাতে পারে। ‘ইন্ডিয়ান জার্নাল অব এগ্রিকালচারাল সায়েন্সেস’-এর একটি প্রতিবেদন থেকে এর কিছু বিশেষ গুণ সম্পর্কে জানা যায়:
রক্ত সঞ্চালন: নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়।
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট: অতিরিক্ত তাপে সৃষ্ট অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে ভূমিকা রাখে।
ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য: শরীরের মূল তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে লবণের ভারসাম্য বজায় রাখে।
উল্লেখ্য, লাল পেঁয়াজ হিটস্ট্রোকের ক্ষেত্রে একটি সহায়ক ব্যবস্থা মাত্র, এটি কোনো চূড়ান্ত নিরাময় বা ওষুধ নয়।
গরমে যেভাবে লাল পেঁয়াজ খাবেন
খাবারের রুচি বজায় রাখতে বিভিন্নভাবে লাল পেঁয়াজ গ্রহণ করা যেতে পারে:
কাঁচা পেঁয়াজ: মূল খাবারের সঙ্গে সরাসরি কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়া সবচেয়ে ভালো।
পেঁয়াজ-দইয়ের রায়তা: দইয়ের প্রোবায়োটিক এবং পেঁয়াজের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণাবলী শরীরকে শীতল রাখতে আদর্শ।
সালাদ ও চাটনি: সালাদ বা হালকা ভিনেগারে ভেজানো পেঁয়াজ খাবারের স্বাদে ভিন্নতা আনে।
কাদের সতর্ক থাকতে হবে?
যদিও লাল পেঁয়াজ উপকারী, তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি এড়িয়ে চলাই ভালো:
অ্যাসিড রিফ্লাক্স: যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা আছে, তারা কাঁচা পেঁয়াজ খেলে বুক জ্বালাপোড়া বাড়তে পারে।
আইবিএস: ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা যারা পেঁয়াজের প্রতি সংবেদনশীল, তাদের সতর্ক থাকা উচিত।
অগ্ন্যাশয়ের সমস্যা: যাদের অগ্ন্যাশয় সংক্রান্ত রোগ আছে, তাদের কাঁচা পেঁয়াজ না খাওয়াই শ্রেয়।
তীব্র গরম বা ‘লু’ থেকে বাঁচতে প্রতিদিনের সুষম খাবারের পাশাপাশি পরিমিত লাল পেঁয়াজ এবং প্রচুর পানি পান করা একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি

