Logo
Logo
×
   

লাইফ স্টাইল

পানিশূন্যতা হতে পারে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি, জানুন লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম

পানিশূন্যতা হতে পারে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি, জানুন লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়

শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান অত্যন্ত জরুরি। শরীর থেকে যে পরিমাণ পানি বেরিয়ে যায়, সেই অনুপাতে পানি গ্রহণ না করলে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের সমস্যা দেখা দেয়। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে এটি গুরুতর শারীরিক জটিলতার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি আরও বেশি।

যেসব লক্ষণে বুঝবেন পানিশূন্যতা হয়েছে

শরীরে পানির ঘাটতি হলে কিছু সাধারণ উপসর্গ দেখা দেয়। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, ক্লান্তি, মুখ, ঠোঁট ও জিহ্বা শুকিয়ে যাওয়া, চোখ বসে যাওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং গাঢ় রঙের বা তীব্র গন্ধযুক্ত প্রস্রাব হওয়া।

শিশুদের ক্ষেত্রে লক্ষণগুলো কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। যেমন—মাথার নরম অংশ বসে যাওয়া, কান্নার সময় চোখে পানি না আসা, ডায়পার বা কাপড় কম ভেজা, অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব কিংবা অস্বাভাবিক খিটখিটে আচরণ।

যেসব কারণে হতে পারে পানিশূন্যতা

বমি, ডায়রিয়া, অতিরিক্ত গরমে দীর্ঘ সময় অবস্থান, বেশি ঘাম, জ্বর, অতিরিক্ত মদ্যপান, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং ডায়াবেটিসের মতো রোগ পানিশূন্যতার অন্যতম কারণ। এছাড়া অনেক প্রবীণ ব্যক্তি প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান না করায় তারাও এ সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন।

সমস্যা দেখা দিলে কী করবেন?

পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব শরীরে তরলের ঘাটতি পূরণ করতে হবে। একবারে বেশি পানি পান করতে সমস্যা হলে অল্প অল্প করে বারবার পানি পান করাই ভালো। বমি বা ডায়রিয়ার কারণে শরীর থেকে পানি ছাড়াও প্রয়োজনীয় লবণ ও খনিজ বেরিয়ে যায়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওরস্যালাইন বা মুখে খাওয়ার লবণ-পানির দ্রবণ গ্রহণ উপকারী হতে পারে।

তবে এ সময় চা, কফি, কোমল পানীয় ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এগুলো শরীরের পানিশূন্যতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি যত্ন

শিশু অসুস্থ হলেও মায়ের দুধ বা স্বাভাবিক খাবার বন্ধ করা উচিত নয়। প্রয়োজনে অল্প অল্প করে বারবার পানি বা ওরস্যালাইন খাওয়াতে হবে। তবে ফলের রস কিংবা কোমল পানীয় না দেওয়াই ভালো, কারণ এগুলো ডায়রিয়া বা বমির সমস্যা বাড়াতে পারে।

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?

পানিশূন্যতা এড়াতে নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। গরম আবহাওয়া, ব্যায়াম, জ্বর, বমি বা ডায়রিয়ার সময় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তরল গ্রহণ করা প্রয়োজন। প্রস্রাবের রং হালকা থাকলে সাধারণত শরীরে পানির পরিমাণ যথেষ্ট আছে বলে ধরে নেওয়া যায়। এ ছাড়া তরমুজ, কমলা, শসা, টমেটো ও স্যুপের মতো পানি সমৃদ্ধ খাবারও শরীরের পানির চাহিদা পূরণে সহায়ক।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী এবং যারা অন্যের সহায়তা ছাড়া পানি পান করতে পারেন না, তাদের ক্ষেত্রে পানিশূন্যতার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। তাই তাদের নিয়মিত পানি পান নিশ্চিত করতে পরিবারের সদস্যদের সচেতন থাকতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা না করে নির্দিষ্ট বিরতিতে পানি পান করা উচিত। কারণ পর্যাপ্ত পানি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখা এবং বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .