Logo
Logo
×

Advertisement

লাইফ স্টাইল

২০-৩০ বছর বয়সেই নীরবে নষ্ট হচ্ছে লিভার, ভাইরাল হেপাটাইটিসে হোন সতর্ক

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৫ পিএম

২০-৩০ বছর বয়সেই নীরবে নষ্ট হচ্ছে লিভার, ভাইরাল হেপাটাইটিসে হোন সতর্ক

সংগৃহীত ছবি

Advertisement

অনেকেরই ধারণা, লিভার বা যকৃতের রোগ সম্ভবত কেবল বয়স্কদের কিংবা যারা অতিরিক্ত মদ্যপান করেন, তাদেরই হয়। তবে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, বর্তমানে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সি তরুণ-তরুণীদের মধ্যেও নীরবে লিভারের ক্ষতি হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে, যার অনেক ক্ষেত্রেই কোনো দৃশ্যমান উপসর্গ থাকে না। এর অন্যতম প্রধান অথচ অবহেলিত কারণ হলো ভাইরাল হেপাটাইটিস। প্রতিরোধযোগ্য এবং অনেক ক্ষেত্রে নিরাময়যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও এটি এখনো জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকি।

লিভার অত্যন্ত সহনশীল একটি অঙ্গ। মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও এটি স্বাভাবিকভাবে কাজ চালিয়ে যেতে পারে। আর এ কারণেই হেপাটাইটিস বছরের পর বছর ধরে নীরবে শরীরে বাড়তে থাকে। ক্রনিক হেপাটাইটিস বি বা হেপাটাইটিস সি-তে আক্রান্ত অনেকেই লিভার সিরোসিস বা লিভার ক্যানসারের মতো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে জানতেই পারেন না যে তারা এই ভাইরাসে আক্রান্ত। যখন জন্ডিস, পেট ফুলে যাওয়া বা চরম ক্লান্তির মতো উপসর্গগুলো দেখা দেয়, ততক্ষণে লিভারের ব্যাপক এবং কখনো কখনো অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যায়।

ঝুঁকির কারণগুলো কী কী? 

ভারতে (ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে) ক্রনিক লিভার ডিজিজ বা দীর্ঘমেয়াদি লিভারের রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হলো হেপাটাইটিস বি এবং হেপাটাইটিস সি। হেপাটাইটিস বি সাধারণত জন্মের সময় আক্রান্ত মায়ের থেকে শিশুতে, অনিরাপদ যৌন মিলন, দূষিত সুচ ব্যবহার বা সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শে এলে ছড়ায়। অন্যদিকে, হেপাটাইটিস সি প্রধানত সংক্রমিত রক্তের মাধ্যমে ছড়ায়। অনিরাপদ ইনজেকশন, ঠিকমতো জীবাণুমুক্ত না করা চিকিৎসাসরঞ্জাম বা প্রসাধনী সামগ্রীর ব্যবহার এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং চালু হওয়ার আগে নেওয়া রক্ত সঞ্চালনের কারণে এই রোগ হতে পারে। যেসব তরুণ-তরুণী অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ট্যাটু বা বডি পিয়ার্সিং করান, স্বাস্থ্যকর্মী, একাধিক যৌনসঙ্গী থাকা ব্যক্তি এবং যারা শিরায় মাদক নেন, তারা এই রোগের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

কেন দ্রুত শনাক্তকরণ জরুরি? 

হেপাটাইটিসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর প্রাথমিক উপসর্গগুলো খুবই অস্পষ্ট। সামান্য ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা, মাঝে মাঝে বমি বমি ভাব বা রুটিন স্বাস্থ্য পরীক্ষায় লিভার এনজাইম সামান্য বেড়ে যাওয়াকে অনেকেই মানসিক চাপ বা জীবনযাত্রার প্রভাব ভেবে এড়িয়ে যান। এমনকি লিভার ফাংশন টেস্ট (LFT) স্বাভাবিক থাকলেও ক্রনিক হেপাটাইটিস পুরোপুরি নাকচ করা যায় না। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের শুধু সাধারণ রক্ত পরীক্ষার ওপর নির্ভর না করে হেপাটাইটিস বি এবং সি-এর জন্য নির্দিষ্ট স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা করানো উচিত।

প্রতিরোধ ও চিকিৎসাই বাঁচাতে পারে প্রাণ 

আশার কথা হলো, হেপাটাইটিসজনিত লিভারের বেশিরভাগ ক্ষতিই প্রতিরোধ করা সম্ভব। টিকার মাধ্যমে হেপাটাইটিস বি কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা যায়, যা দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা দেয়। প্রতিটি নবজাতকের জন্মের পরপরই এই টিকা পাওয়া উচিত। যেসব প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি আগে কখনো টিকা নেননি, বিশেষ করে তারা যদি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হন, তবে তাদের দ্রুত টিকা নেওয়া উচিত।

যদিও হেপাটাইটিস সি-এর এখনো কোনো টিকা আবিষ্কার হয়নি, তবে প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে মুখে খাওয়ার অত্যন্ত কার্যকর অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের মাধ্যমে ৯৫ শতাংশেরও বেশি সংক্রমণ নিরাময় করা সম্ভব। একইভাবে, ক্রনিক হেপাটাইটিস বি-এর সময়মতো চিকিৎসায় ভাইরাসের বৃদ্ধি দমন করা যায়, লিভারের প্রদাহ কমে এবং সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

ফ্যাটি লিভার রোগের ক্রমবর্ধমান বোঝা 

ভাইরাল হেপাটাইটিসের পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোটিক লিভার ডিজিজ (MASLD) বা ফ্যাটি লিভার রোগের হারও বাড়ছে। মেদবহুলতা, ডায়াবেটিস, কায়িক শ্রমহীন জীবনযাপন এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এর মূল কারণ। আশঙ্কার বিষয় হলো, ফ্যাটি লিভার এবং ভাইরাল হেপাটাইটিস একসঙ্গে থাকতে পারে, যা লিভারের ক্ষতির গতি আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই লিভার টেস্টের রিপোর্ট অস্বাভাবিক এলে শুধু ফ্যাটি লিভার ভেবে বসে না থেকে এর পেছনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।

একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষাতেই হতে পারে সমাধান 

বার্তাটি খুবই সহজ: হেপাটাইটিস নীরবে ক্ষতি করে, তবে এটিকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। আপনার পরিবারে যদি কারও হেপাটাইটিস বি থাকে, আপনি যদি আগে কখনো অন্যের রক্ত নিয়ে থাকেন, অনিরাপদ পরিবেশে ট্যাটু বা পিয়ার্সিং করিয়ে থাকেন বা অন্য কোনো ঝুঁকির মধ্যে থাকেন, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করান। একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে দ্রুত রোগ নির্ণয় করা গেলে তা আপনাকে সারাজীবনের জটিলতা থেকে বাঁচাতে পারে।

তরুণ বয়সই হলো লিভারের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়ার সেরা সময়। টিকা নেওয়া, সময়মতো পরীক্ষা করানো, নিরাপদ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে আগামী কয়েক দশকের জন্য আপনার লিভার সুরক্ষিত থাকতে পারে। হেপাটাইটিস হয়তো নীরব, কিন্তু সচেতনতা এবং দ্রুত পদক্ষেপ নিলে এর পরিণতি থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব।

সূত্র: এনডিটিভি

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

গলায় কফ জমে অস্বস্তি, পিঁয়াজের পানিতে স্বস্তি

গলায় কফ জমে অস্বস্তি, পিঁয়াজের পানিতে স্বস্তি

রাতে ঘুম আসে না? ঘুমানোর আগে মেনে চলুন এই ৮ অভ্যাস

রাতে ঘুম আসে না? ঘুমানোর আগে মেনে চলুন এই ৮ অভ্যাস

গ্যাস-অম্বল ভেবে যে লক্ষণগুলো এড়িয়ে যাচ্ছেন, হতে পারে অন্ত্রের ক্যানসারের সংকেত

গ্যাস-অম্বল ভেবে যে লক্ষণগুলো এড়িয়ে যাচ্ছেন, হতে পারে অন্ত্রের ক্যানসারের সংকেত

স্ট্রোকের এই লক্ষণগুলো অবহেলা করছেন না তো! জেনে নিন এখনই

স্ট্রোকের এই লক্ষণগুলো অবহেলা করছেন না তো! জেনে নিন এখনই

পাইলস নিয়ে কুসংস্কার নয়, প্রয়োজন সঠিক চিকিৎসা

পাইলস নিয়ে কুসংস্কার নয়, প্রয়োজন সঠিক চিকিৎসা

থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে ওষুধ কমিয়ে পাতে রাখুন এই ৫ মাছ

থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে ওষুধ কমিয়ে পাতে রাখুন এই ৫ মাছ

আরও পড়ুন

কফি পান করলে কি বিষণ্নতা কমে? যা জানাল গবেষণা

কফি পান করলে কি বিষণ্নতা কমে? যা জানাল গবেষণা

গলায় কফ জমে অস্বস্তি, পিঁয়াজের পানিতে স্বস্তি

গলায় কফ জমে অস্বস্তি, পিঁয়াজের পানিতে স্বস্তি

রাতে ঘুম আসে না? ঘুমানোর আগে মেনে চলুন এই ৮ অভ্যাস

রাতে ঘুম আসে না? ঘুমানোর আগে মেনে চলুন এই ৮ অভ্যাস

গ্যাস-অম্বল ভেবে যে লক্ষণগুলো এড়িয়ে যাচ্ছেন, হতে পারে অন্ত্রের ক্যানসারের সংকেত

গ্যাস-অম্বল ভেবে যে লক্ষণগুলো এড়িয়ে যাচ্ছেন, হতে পারে অন্ত্রের ক্যানসারের সংকেত

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম