আইসক্রিম খেলেই কেন হয় ‘ব্রেন ফ্রিজ’, ঝুঁকিতে কারা?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গরমের দিনে শরীর ঠান্ডা করতে আইসক্রিম কিংবা বরফঠান্ডা পানীয় বেশ আরামদায়ক। তবে খুব দ্রুত ঠান্ডা কিছু খাওয়ার পর অনেকের কপাল, কপালের পাশ বা মাথায় হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হয়। কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হতে পারে, মাথার ভেতর যেন বরফ জমে যাচ্ছে। এই সাময়িক সমস্যাটিই পরিচিত ‘ব্রেন ফ্রিজ’ বা ‘আইসক্রিম হেডেক’ নামে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর নাম ‘স্ফেনোপ্যালাটাইন গ্যাংলিওনিউরালজিয়া’। খুব দ্রুত আইসক্রিম, বরফ বা ঠান্ডা পানীয় গ্রহণ করলে মুখের তালু ও গলার পেছনের অংশের তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যায়। এর প্রতিক্রিয়ায় শরীরে একটি স্বাভাবিক প্রতিরক্ষামূলক প্রক্রিয়া শুরু হয়।
ঠান্ডার কারণে মুখের তালুর রক্তনালিগুলো দ্রুত সংকুচিত হয়। এরপর মস্তিষ্কে স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট ধমনিগুলো হঠাৎ প্রসারিত হতে শুরু করে। এই পরিবর্তনের ফলে মুখমণ্ডলের সঙ্গে মস্তিষ্কের যোগাযোগকারী ট্রাইজেমিনাল নার্ভ উদ্দীপ্ত হয়। আর সেখান থেকেই মাথায় সাময়িক ব্যথার অনুভূতি তৈরি হয়।
কীভাবে দ্রুত স্বস্তি পাবেন?
ব্রেন ফ্রিজ হলে জিভ দিয়ে মুখের উপরের অংশ বা তালুতে কিছুক্ষণ চাপ দিয়ে রাখলে শরীরের স্বাভাবিক তাপে জায়গাটি দ্রুত উষ্ণ হয়ে উঠতে পারে। এতে ব্যথাও কমে আসে।
জিভের পরিবর্তে পরিষ্কার বুড়ো আঙুল দিয়েও তালুতে হালকা চাপ দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি এক চুমুক করে পান করলেও আরাম পাওয়া সম্ভব।
তবে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ঠান্ডা খাবার ধীরে ধীরে খাওয়া। আইসক্রিম বা বরফজাতীয় খাবার মুখে কিছুক্ষণ রেখে গলতে দিলে হঠাৎ করে তালুর তাপমাত্রা কমে যাওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
শিশুদের মধ্যে ব্রেন ফ্রিজ হওয়ার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি হতে পারে। পছন্দের আইসক্রিম বা আইস পপসিকল পেলে তারা অনেক সময় দ্রুত খেয়ে ফেলে। ফলে মুখের তালু হঠাৎ বেশি ঠান্ডা হয়ে যায়।
এ ছাড়া যাদের আগে থেকেই মাইগ্রেন বা মাথাব্যথার সমস্যা রয়েছে, তাদের স্নায়ু তুলনামূলক সংবেদনশীল হওয়ায় ঠান্ডা খাবার খেলে ব্রেন ফ্রিজ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকতে পারে।
ব্রেন ফ্রিজ কি মস্তিষ্কের ক্ষতি করে?
না। ব্রেন ফ্রিজ মূলত একটি সাময়িক ও ক্ষতিকর নয় এমন স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া। এতে মস্তিষ্কের কোনো ক্ষতি হয় না এবং সাধারণত কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ব্যথা নিজে থেকেই চলে যায়।
শীতকালেও কি ব্রেন ফ্রিজ হতে পারে?
হ্যা। এর সঙ্গে ঋতুর সরাসরি সম্পর্ক নেই। আপনি যেকোনো সময় খুব দ্রুত ঠান্ডা খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলে মুখের তালুর তাপমাত্রা হঠাৎ কমে গিয়ে ব্রেন ফ্রিজ হতে পারে।
এর জন্য ওষুধ প্রয়োজন কি?
সাধারণত কোনো ওষুধের প্রয়োজন হয় না। যেহেতু ব্যথাটি খুব অল্প সময় স্থায়ী হয়, তাই ঠান্ডা খাবার খাওয়া বন্ধ করে মুখের তালু স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরতে দিলেই সাধারণত সমস্যাটি চলে যায়।

