পাঁচ মাসেই বদলে যাবে শরীর-মন, মানতে হবে যে ১০ অভ্যাস
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০১ পিএম
সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নিজেকে আরও সুস্থ ও সক্রিয় করে তুলতে সব সময় কঠিন ডায়েট বা কঠোর ব্যায়ামের প্রয়োজন হয় না। প্রতিদিনের কিছু ছোট অভ্যাস যোগ করলেই ধীরে ধীরে শরীর ও মনের বড় পরির্তন আনা সম্ভব। এমনকি পাঁচ মাস নিয়ম মেনে চলতে পারলে আগের চেয়ে অনেক বেশি ফিট ও সতেজ মনে হতে পারে।
নিয়মিতভাবে ১০টি অভ্যাস অনুসরণ করলে পাঁচ মাসেই শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যে পরিবর্তন আনা সম্ভব।
১. ঘুম থেকে ওঠার সময় নির্দিষ্ট করুন
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন। ছুটির দিনেও এ সময়ে বেশি পরিবর্তন না করাই ভালো। এতে শরীরে অভ্যন্তরীণ বডিক্লক ঠিক থাকে। পাশাপাশি শক্তি, ক্ষুধা ও মনোযোগ নিয়ন্ত্রণেও এটি সহায়তা করতে পারে।
২. সকালে ১০ মিনিট রোদে থাকুন
ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত ১০ মিনিট সকালে আলোতে থাকার অভ্যাস করুন। বাইরে হালকা হাঁটাহাঁটি করতে পারেন বা শুধু কিছুক্ষণ খোলা জায়গায় সময় কাটাতে পারেন। সকালের আলো শরীরের দৈনিক জৈবিক ছন্দ ঠিক রাখতে এবং রাতের ঘুম ভালো করতে সহায়তা করে।
৩. ঘুমের সময় ঠিক রাখুন
প্রতিদিন রাতে একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করুন। ঘুমানোর আগে এক ঘণ্টা ফোন বা অন্যান্য স্ক্রিন থেকে দূরে থাকলে ঘুমের মান আরও ভালো হতে পারে।
৪. সকালের খাবারে প্রোটিন রাখুন
দিনের শুরুতে নাশতায় প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখুন। ডিম, দুধ, দই কিংবা ডাল হতে পারে সহজ বিকল্প। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। ফলে সকালবেলায় ক্ষুধা লাগা বা মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমতে পারে।
৫. কফির আগে এক গ্লাস পানি পান করুন
সকালে প্রথম কাপ কফির আগে এক গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস করুন। দীর্ঘ সময় ঘুমানো কারণে শরীরে সামান্য পানিশূন্যতা থাকতে পারে। তাই দিনের শুরুতে পানি পান করা ভালো অভ্যাস।
৬. প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটুন
ব্যস্ততার মধ্যেও প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটার চেষ্টা করুন। দ্রুত গতিতে হাঁটার চেষ্টা করুন, এতে হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। নিয়মিত হাঁটাহাঁটি শরীরকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে।
৭.খাবারের পর ১০ মিনিট হাঁটুন
প্রতিদিন খাবার গ্রহণের পর অত্যন্ত ১০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করুন। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে এবং হজমে সহায়তা করতে পারে।
৮. দীর্ঘ সময় বসে থাকবেন না
যারা ডেস্কে বসে কাজ করেন তাদের মাঝে মধ্যে উঠে দাঁড়ানো উচিত। ফোনে কথা বলা, ই-মেইল পড়া বা অন্য কোনো কাজের সময় কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা হাঁটাহাঁটি করা যেতে পারে।
৯. সপ্তাহে দুদিন পেশির ব্যায়াম রাখুন
সপ্তাহে অত্যন্ত দুদিন পেশির ব্যায়াম করা উচিৎ। স্কোয়াট, রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড কিংবা ডাম্বেল ব্যবহার করে সহজ ব্যয়াম করা যেতে পারে।
১০. মনের যত্নে প্রতিদিন পাঁচ মিনিট
শুধু শরীর নয় মনের যত্নও নেওয়া জরুরি। প্রতিদিন রাতে সময় নিয়ে দিনের কী ভালো বা খরাপ হয়েছে, কোন বিষয়টি এখনো ভাবাচ্ছে-এসব লিখে রাখতে পারেন। নিজের চিন্তা ও অনুভূতিগুলো লিখে রাখলে মানসিক চাপ কিছুটা কমতে পারে।
বাড়তি অভ্যাস হিসেবে যা করতে পারেন
প্রতিদিন অত্যন্ত ১৫ মিনিট মাইন্ডফুলনেসের জন্য রাখা যেতে পারে। ধ্যান, জিকির, যোগব্যায়াম কিংবা কিছুক্ষণ নিরিবিলি বসে কোনো একটি বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার মাধ্যমে এটি করা যায়।
পাঁচ মাসে কী পরিবর্তন আসতে পারে?
এসব অভ্যাসের কোনোটি একদিনে বড় পরিবর্তন আনবে না। তবে নিয়ম ধরে পাঁচ মাস চালিয়ে গেলে শরীর ও মনের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ঘুমের মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি শরীর সক্রিয় হতে পারে এবং মানসিক ক্লান্তিও ধীরে ধীরে কমতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ জীবনযাপনের জন্য সব সময় কঠিন পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের ছোট ছোট ভালো অভ্যাস সময়ের সঙ্গে বড় পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
