থাইরয়েডের সমস্যা হলে যা খাওয়া উচিত, যা উচিত না
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গলার সামনের দিকে থাকা ছোট, প্রজাপতি আকৃতির গ্রন্থি হলো থাইরয়েড। শরীরের বিপাকক্রিয়া, হৃদস্পন্দন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক কাজে এই গ্রন্থির হরমোনের ভূমিকা রয়েছে। থাইরয়েড হরমোনের মাত্রায় ভারসাম্যহীনতা দেখা দিলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
থাইরয়েড গ্রন্থি মূলত থাইরক্সিন বা T4 এবং ট্রাই-আয়োডোথাইরোনিন বা T3 হরমোন তৈরি করে। শরীরের বিপাকক্রিয়াসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে এসব হরমোন কাজ করে।
থাইরয়েড প্রয়োজনের তুলনায় কম হরমোন তৈরি করলে তাকে হাইপোথাইরয়েডিজম এবং অতিরিক্ত হরমোন তৈরি করলে হাইপারথাইরয়েডিজম বলা হয়।
হাইপোথাইরয়েডিজমের ক্ষেত্রে ওজন বেড়ে যাওয়া, দুর্বলতা বা ক্লান্তি, ঠান্ডা সহ্য করতে না পারা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া এবং হৃদস্পন্দন ধীর হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে হাইপারথাইরয়েডিজমে ওজন কমে যাওয়া, বুক ধড়ফড়, অতিরিক্ত ঘাম, গরম লাগা, অস্থিরতা, ঘন ঘন পায়খানা এবং ঘুমের সমস্যা হতে পারে।
অটোইমিউন রোগ, আয়োডিনের ঘাটতি কিংবা অতিরিক্ত আয়োডিন গ্রহণসহ বিভিন্ন কারণে থাইরয়েডের সমস্যা হতে পারে। নারীদের মধ্যে এ ধরনের সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
থাইরয়েডের সমস্যা হলে কী খাবেন?
থাইরয়েডের চিকিৎসার বিকল্প কোনো নির্দিষ্ট খাবার নেই। তবে সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
আয়োডিনযুক্ত খাবার:
থাইরয়েড হরমোন তৈরির জন্য আয়োডিন প্রয়োজন। আয়োডিনযুক্ত লবণ, সামুদ্রিক মাছ, অন্যান্য মাছ, ডিম ও দুধ থেকে আয়োডিন পাওয়া যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত আয়োডিনও শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আয়োডিনের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়।
সেলেনিয়ামসমৃদ্ধ খাবার:
থাইরয়েডের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সেলেনিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মাছ, ডিম, মাংস, দুধ ও দুধজাত খাবারসহ বিভিন্ন খাদ্য থেকে এই খনিজ পাওয়া যায়।
জিঙ্কযুক্ত খাবার:
থাইরয়েডের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য জিঙ্কও প্রয়োজন। মাংস, ডিম, কুমড়ার বীজ ও বিভিন্ন ধরনের বাদাম জিঙ্কের ভালো উৎস হতে পারে।
ফল ও সবজি:
প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পেতে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি খাওয়া উচিত। পেয়ারা, আমলকি, লেবু, কমলা ও কাঁচামরিচের মতো ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
এর পাশাপাশি পূর্ণ শস্য, ডাল, বাদাম, দুধ ও দুধজাত খাবারসহ বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার নিয়ে বৈচিত্র্যময় ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
কোন খাবার পুরোপুরি বাদ দিতে হবে?
থাইরয়েডের সমস্যা হলেই বাঁধাকপি, ফুলকপি, পালংশাক বা সয়াবিন পুরোপুরি বাদ দিতে হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। এসব খাবার সাধারণত পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যায়। বিশেষ করে ক্রুসিফেরাস গোত্রের সবজি রান্না করে স্বাভাবিক পরিমাণে খেলে বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
তবে হাইপোথাইরয়েডিজমের ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে খাবারের সময়ের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। লেভোথাইরক্সিন সাধারণত খালি পেটে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি খাবার, ক্যালসিয়াম বা আয়রনসমৃদ্ধ সাপ্লিমেন্টের সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধান রাখা প্রয়োজন হতে পারে। কখন এবং কীভাবে ওষুধ খেতে হবে, সে বিষয়ে চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ। এ ছাড়া ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ এড়িয়ে চলা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
শুধু খাবারের পরিবর্তনের মাধ্যমে থাইরয়েডের সব ধরনের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। হাইপোথাইরয়েডিজমের ক্ষেত্রে অনেক রোগীর নিয়মিত ওষুধের প্রয়োজন হয়। আবার হাইপারথাইরয়েডিজমের চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের কারণ ও তীব্রতার ওপর।
তাই থাইরয়েডের কোনো উপসর্গ দেখা দিলে নিজের ইচ্ছায় ওষুধ শুরু বা বন্ধ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী TSH, T4 কিংবা অন্যান্য পরীক্ষা করিয়ে সঠিক কারণ নির্ণয় এবং উপযুক্ত চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


