কম ঘুমের অভ্যাস, মস্তিষ্ককে কি আলঝেইমারের ঝুঁকিতে ফেলছেন?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাত জেগে কাজ, ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল দেখা বা প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টার কম ঘুম-এসবকে অনেকেই স্বাভাবিক জীবনযাপনের অংশ হিসেবে দেখেন। কিন্তু নিয়মিত ঘুমের ঘাটতি শুধু দিনের ক্লান্তি বা মেজাজ খারাপের কারণ নয়, দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে মস্কিষ্কের ওপরও। গবেষণায় ঘুমের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা এবং আলঝেইমার রোগের ঝুঁকির মধ্যে একটি যোগসূত্রের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
প্রতিবছর ২১ সেপ্টেম্বর বিশ্বজেুড়ে পালিত হয় বিশ্ব আলঝেইমার দিবস। আলঝেইমার ও অন্যান্য ধরনের ডিমনেশিয়া সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোই এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য। ২০২৬ সালের প্রচারণার মূল বার্তা- ‘যত দ্রুত জানবেন, তত বেশি কিছু করতে পারবেন’।
আলঝেইমার একটি প্রগতিশীল স্নায়ুবিক রোগ, যেখানে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। ফলে স্মৃতিশক্তি, চিন্তাভাবনা, আচরণ এবং দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
ঘুম ও মস্তিষ্ক: গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক
ঘুমের সময় শরীর বিশ্রাম নিলেও মস্তিষ্ক পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় থাকে না। বিশেষ করে গভীর ঘুমের সময় মস্তিষ্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুনরুদ্ধারমূলক প্রক্রিয়া চলে। জেগে থাকার সময় তৈরি হওয়া বিপাকীয় বর্জ্য অপসারণও এর একটি অংশ।
এর মধ্যে ‘বিটা-অ্যামাইলয়েড’ নামের একটি প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ। আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে এই প্রোটিন জমে রক্তে প্লাক তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি বা ঘুমের ব্যাঘাতের সঙ্গে মস্তিষ্ক থেকে এ ধরনের বর্জ্য পরিষ্কারের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
তবে এক রাত কম ঘুম হলে আলঝেইমার হবে-এমনটা নয়। বরং দীর্ঘ সময় ধরে অপর্যাপ্ত ঘুমের সঙ্গে এ রোগের ঝুঁকি নিয়ে গবেষণা চলছে।
সম্পর্কটি একমুখী নয়
ঘুমের সমস্যা আলঝেইমার্সের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও এটিকে সরাসরি রোগের কারণ বলা যায় না। বয়স, বংশগতি, হৃদযন্ত্র ও বিপাকীয় স্বাস্থ্য, জীবনযাপনসহ নানা বিষয় আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে ভূমিকা রাখে।
আবার বিষয়টি উলটোদিক থেকেও কাজ করতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে পরিবর্তনের প্রাথমিক পর্যায়েই ঘুমের ধরনে সমস্যা দেখা দিতে পারে। অর্থাৎ ঘুমের সমস্যা আলঝেইমার্সের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ার পাশাপাশি রোগটির প্রাথমিক লক্ষণের অংশও হতে পারে।
নাক ডাকা কি অবহেলার বিষয়?
ঘুমের সমস্যার মধ্যে ‘অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ সমস্যায় ঘুমের মধ্যে বারবার শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধা তৈরি হয়। ফলে ঘুমের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শরীরে অক্সিজেনের মাত্রাও ওঠানামা হতে পারে।
জোরে নাক ডাকা, ঘুমের মধ্যে হঠাৎ শ্বস বন্ধ হয়ে যাওয়া , হাঁপাতে হাঁপাতে জিগে ওঠা বা দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুম পাওয়া-এসব লক্ষণ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কত ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন?
বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিরাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ভালো মানের ঘুমের লক্ষ্য রাখা হয়। শুধু ঘুমের সময় নয় , ঘুমটা কতটা গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
ভালো ঘুমের জন্য-
* প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস করতে হবে।
* নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করুন।
* দিনের শেষভাগে ক্যাফেইন গহণ কমান
* ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকা এড়িয়ে চলুন।
* শোবার ঘর অন্ধকার, শান্ত ও আরামদায়ক রাখুন।
* অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলুন।
ভুলে যাওয়া কি শুধু ঘুমের কারণে?
ঘুম কম হলে মনোযোগ ও সমঋতিশক্তিতে সাময়িক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে স্মৃতি, চিন্তাশক্তি বা আচরণে পরিবর্তন হলে সেটিকে শুধু ঘুমের ঘাটতি বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
পরিচিত কাজ করতে অসুবিধা হওয়া, দৈনন্দির কাজে ব্যাঘাত ঘটায় এমনভাবে জিনিস ভুলে যাওয়া কিংবা আচরণে স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
ভালো ঘুম আলঝেইমার রোগ প্রতিরোধের নিশ্চয়তা দেয় না। তবে দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের সমস্যা শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়অ মস্কিষ্কের দীর্ঘমেয়াদি সুস্বাস্থ্য ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।


