অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত অ্যানেস্থেশিয়ার রহস্য কী?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৮ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অস্ত্রপচারের সময় রোগীকে সম্পুর্ণ অচেতন রাখতে সাধারণ অ্যানেস্থেশিয়া ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এর ব্যবহার দীর্ঘদিনের হলেও অ্যানেস্থিশিয়ার ওষুধ ঠিক কীভাবে মানুষের চেতনা বন্ধ করে দেয় তা এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি।
অ্যানেস্থেশিয়ার প্রভাবে একজন মানুষ কিছু সময়ের জন্য আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা হারান। অস্ত্রোপচারের সময় সাধারণত তিনি ব্যথা অনুভব করেন না এবং পরে ওই সময়ের কোনো স্মৃতিও থাকে না। ওষুধের প্রভাব কেটে গেলে আবার স্বাভাবিক চেতনা ফিরে আসে।
তবে বিষয়টি এত সহজ নয়। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে বোঝার চেষ্টা করছেন, মস্তিষ্কের ঠিক কোন পরিবর্তনের কারণে অ্যানেস্থেশিয়ার সময় চেতনা হারিয়ে যায়।
মস্তিষ্কে আসলে কী ঘটে?
গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যানেস্থেশিয়ার ওষুধ মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যোগাযোগের ধরন বদলে দেয়। বিশেষ করে থ্যালামাস ও মস্তিষ্কের কর্টেক্সের মধ্যকার যোগাযোগের পরিবর্তন দেখা যায়।
থ্যালামাসকে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে তথ্য আদান প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়। অ্যানেস্থেশিয়ার সময়ে এই যোগাযোগ কমে যেতে পারে। ফলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ আগের মতো সমন্বিতভাবে তথ্য প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বিভিন্ন ধরনের অ্যানেস্থেশিয়ার ওষুধ রাসায়নিকভাবে একে অপরের থেকে অনেক আলাদা। তারপরেও তারা একই ধরনের ফলাফল অর্থাৎ, চেতনা হারানো পরিস্থিতি তৈরি করেতে পারে— যেই প্রশ্নটি বিজ্ঞানীদের কাছে আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
অ্যানেস্থেশিয়া সাধারণ ঘুমের মতো নয়
অ্যানেস্থেশিয়াকে স্বাভাবিক ঘুমের সঙ্গে এক করে দেখা ঠিক নয়। ঘুমের মধ্যে মস্তিষ্কের কার্যক্রম একটি নির্দিষ্ট ছন্দে চলতে থাকে। প্রয়োজন হলে মানুষকে জাগানো যায়। কিন্তু অ্যানেস্থেশিয়ায় মস্তিষ্কের সচেতন তথ্যপ্রক্রিয়াকরণ ও বিভিন্ন অংশের পারস্পারিক যোগাযোগের পরিবর্তন ঘটে।
অ্যানেস্থেশিয়ার মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্কের সার্বিক কার্যক্রমে পরিবর্তন দেখা যায়। ইইজি পরিক্ষায় এসব শনাক্ত করা সম্ভব। চিকিৎসকরা এই ধরনের পর্যবেক্ষণ ব্যবহার করে অ্যানেস্থেশিয়ার গভীরতা বুঝতে পারে।
তাহলে রহস্যটা কোথায়?
সবচেয়ে বড় রহস্য হল চেতনা আসলে কীভাবে তৈরি হয় এবং কীভাবে তা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়?
বিজ্ঞানীরা অ্যানেস্থেশিয়ার মাধ্যমে চেতনাকে নিয়ন্ত্রিতভাবে বন্ধ ও ফিরিয়ে আনার সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে অ্যানেস্থেশিয়া কীভাবে কাজ করে, তা বোঝার ক্ষেত্রেও অ্যানেস্থেশিয়া গুরুত্বপূর্ণ একটি গবেষণার বিষয় হয়ে উঠেছে।
অ্যানেস্থেশিয়া কীভাবে কাজ করে, সে বিষয়ে বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব রয়েছে। কিছু গবেষণায় নির্দিষ্ট রিসেপ্টের ও আয়ন চ্যানেলের ভূমিকার কথা বলা হয়েছে। আবার কিছু গবেষক মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যোগাযোগ ও তথ্যের সমন্বয়কে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। অর্থাৎ, অ্যানেস্থেশিয়া কীভাবে চেতনা বন্ধ করে এ বিষয়ে বিজ্ঞানীরা কিছু জানতে পেরেছেন, কিন্তু পুরো প্রক্রিয়াটি এখনো সম্পূর্ণভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হয়নি।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে অ্যানেস্থেশিয়ার ব্যবহার সফল হলেও এর পেছনে থাকা চেতনার রহস্য নিয়ে বড়ো প্রশ্ন রয়েছে।
সূত্র: সামা টিভি
