প্রতিদিন আদা খেলে শরীরে কী ঘটে? জানুন উপকার ও ক্ষতির দিক
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রান্নার স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়াতে আদার ব্যবহার বহুকালের। চা, তরকারি ও বিভিন্ন পানীয়তে ব্যবহৃত এই মসলায় রয়েছে জিঞ্জেরল, শোগাওল ও জিঞ্জেরনের মতো জৈবসক্রিয় যৌগ। এ ছাড়া আদা থেকে তেল ও রস তৈরি করা হয়। রান্নায় বহুল ব্যবহৃত এই মসলা বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবার ও প্রসাধনী পণ্যেও ব্যবহার করা হয়। এসব উপাদানের কারণে স্বাদের পাশাপাশি আদার রয়েছে নানা সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে আদা খাওয়া নিরাপদ এবং এর বেশ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। তবে অতিরিক্ত আদা খেলে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে।
দিনে কতটা আদা খাওয়া উচিত?
চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৪ গ্রাম আদা খাওয়া যেতে পারে। গর্ভাবস্থায় এর পরিমাণ দিনে ১ গ্রামের বেশি না রাখাই ভালো। দুই বছরের কম বয়সি শিশুদের আদা দেওয়া উচিত নয়।
প্রায় ১ গ্রাম আদার সমান হলো আধা চা চামচ আদার গুঁড়া অথবা এক চা চামচ কুচি করা কাঁচা আদা।
আদার যত উপকার
আদায় থাকা জিঞ্জেরল নামের জৈব সক্রিয় উপাদানের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী গুণ রয়েছে। এটি শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
আদা বমি বমি ভাব কমাতেও কার্যকর। অস্ত্রোপচারের পর কিংবা কেমোথেরাপির কারণে হওয়া বমিভাব কমাতে এটি উপকারী হতে পারে। গর্ভাবস্থায় সকালে বমি বমি ভাব বা ‘মর্নিং সিকনেস’ কমাতেও আদা ব্যবহার করা হয়।
আদার কিছু রাসায়নিক উপাদান জীবাণুর বিরুদ্ধে শরীরকে সহায়তা করে। এগুলো ই-কোলাই ও শিগেলার মতো অণুজীবের বৃদ্ধি ঠেকাতে এবং কিছু ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে।
নিয়মিত আদা খেলে দীর্ঘমেয়াদে পেশির ব্যথা ও অস্বস্তি কমতে পারে। এর প্রদাহবিরোধী গুণ বাতের উপসর্গ, বিশেষ করে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রেও উপকারী হতে পারে।
এ ছাড়া আদা শরীরকে ইনসুলিন আরও কার্যকরভাবে ব্যবহারে সহায়তা করতে পারে। তবে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। প্রতিদিন আদা খেলে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল কমতেও সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি আদার জিঞ্জেরল ও শোগাওল বিপাকক্রিয়া বাড়িয়ে ওজন কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
বেশি আদা খেলে কী হতে পারে?
পরিমিত আদা সাধারণত নিরাপদ হলেও অতিরিক্ত খেলে বুকজ্বালা, গ্যাস, পেটব্যথা ও মুখে জ্বালাপোড়া হতে পারে। এ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বেশি পরিমাণে আদা খাওয়া উচিত নয়। কারণ আদা কিছু ওষুধের সঙ্গে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।

-6ac3b17a6ff52.jpg)