মিষ্টি পানীয় পানে কি পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মিষ্টি পানীয়ের উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে ২০২৬ সালের একটি গবেষণা। এতে দেখা গেছে, নিয়মিত চিনি মেশানো পানীয় পানকারীদের মধ্যে পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে এর একটি সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে গবেষকরা স্পষ্ট করে বলেছেন, এ গবেষণা থেকে মিষ্টি পানীয় সরাসরি ক্যানসার সৃষ্টি করে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
‘গ্যাস্ট্রো হেপ অ্যাডভান্সেস’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দুইটি বড় মার্কিন স্বাস্থ্যকর্মী গবেষণা-গোষ্ঠীর ১ লাখ ১২ হাজার ২৮৪ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ৩২ লাখের বেশি ব্যক্তি-বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা ২৭৮টি পাকস্থলীর ক্যানসারের ঘটনা শনাক্ত করেন।
ক্যানসার চিকিৎসক ডা. রূপজ্যোতি শর্মার মতে, যারা দিনে একবারের বেশি চিনি মেশানো পানীয় পান করতেন, তাদের মধ্যে পাকস্থলীর ক্যানসারের ঘটনা মাসে একবারের কম এমন পানীয় পানকারীদের তুলনায় ২ দশমিক ৪৫ গুণ বেশি ছিল।
গবেষণায় শরীরের ওজন, ধূমপান, মদ্যপান, ডায়াবেটিস, শারীরিক পরিশ্রম ও সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার পরও এই সম্পর্ক দেখা গেছে। তবে এটি ছিল পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণা। ফলে মিষ্টি পানীয়ই ক্যানসারের কারণ—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
গবেষণাটির আরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের একটি ছোট অংশের ক্ষেত্রে হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি সংক্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে। পারিবারিক ইতিহাস, আগে এন্ডোস্কপি করা হয়েছিল কি না এবং পাকস্থলীর ঠিক কোন অংশে টিউমার হয়েছে, সে সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য সীমিত ছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিষ্টি পানীয়কে এককভাবে দায়ী করা ঠিক নয়। বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, স্থূলতা, ধূমপান, খাদ্যাভ্যাস এবং বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি সংক্রমণ পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অতিরিক্ত লবণযুক্ত ও সংরক্ষণ ঠিকমতো না করা খাবারও ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত।
গবেষণায় কৃত্রিম মিষ্টিযুক্ত পানীয়ের সঙ্গে একই ধরনের সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তবে তাই বলে এসব পানীয়কে ক্যানসার প্রতিরোধের উপায় হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। কৃত্রিম মিষ্টিকারক ও ক্যানসারের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণার ফল এখনো মিশ্র।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ, মাঝেমধ্যে কোমল পানীয় পান করলে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। তবে চিনি মেশানো পানীয়ের পরিমাণ ও ফ্রিকুয়েন্সি কমানো স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। অতিরিক্ত এসব পানীয় ওজন বৃদ্ধি ও বিপাকীয় রোগের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে। সম্ভব হলে পানি বা চিনি ছাড়া পানীয় বেছে নেওয়াই ভালো।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

-6ac3b17a6ff52.jpg)