পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার ৯ লক্ষণ
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বয়স বাড়ার সঙ্গে পুরুষের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে ‘লো টেস্টোস্টেরন’ বা ‘লো টি’ বলা হয়। ৬০ বছরের বেশি বয়সি প্রতি ১০ জন পুরুষের মধ্যে প্রায় দুজনের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কম থাকতে পারে।
টেস্টোস্টেরন মূলত পুরুষের অণ্ডকোষে তৈরি হয়। যৌন আকাঙ্ক্ষা, শারীরিক গঠন, হাড়ের ঘনত্ব, পেশির বিকাশ এবং শুক্রাণু তৈরিতে এই হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে অনেক পুরুষ শরীরে টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার লক্ষণগুলো শুরু হলেও তা বুঝতে পারেন না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
১. যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া
টেস্টোস্টেরন কমে গেলে যৌন আকাঙ্ক্ষা বা লিবিডো উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। বয়স বাড়ার কারণেও যৌন আগ্রহ কমতে পারে, তবে টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি এর অন্যতম কারণ হতে পারে।
২. উত্থানজনিত সমস্যা
টেস্টোস্টেরন কমে গেলে যৌন আকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি লিঙ্গের উত্থান তৈরি বা ধরে রাখতেও সমস্যা হতে পারে। তবে এ ধরনের সমস্যা শুধু টেস্টোস্টেরনের ঘাটতির কারণে হয় না। ডায়াবেটিস, বিষণ্নতা, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল ও থাইরয়েডের সমস্যার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে।
৩. চুল পড়া
বয়স বাড়ার সঙ্গে চুল পড়া অনেক পুরুষের ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক। তবে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে মাথার পাশাপাশি হাত-পা, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশের চুলও কমে যেতে পারে।
৪. হাড় দুর্বল হওয়া
হাড়ের গঠন ও শক্তি ধরে রাখতে টেস্টোস্টেরন গুরুত্বপূর্ণ। এর মাত্রা কমে গেলে হাড়ের ঘনত্ব কমে যেতে পারে। ফলে বিশেষ করে বয়স্ক পুরুষদের হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
৫. মেজাজের পরিবর্তন
টেস্টোস্টেরন শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে। তাই এর মাত্রা কমে গেলে মনোযোগ কমে যাওয়া, খিটখিটে মেজাজ, মেজাজের ওঠানামা এবং বিষণ্নতার অনুভূতি দেখা দিতে পারে।
৬. ঘুমের ধরন বদলে যাওয়া
টেস্টোস্টেরনের ঘাটতিতে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বিরক্তি, ওজন বৃদ্ধি, যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া ও শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
৭. শক্তি কমে যাওয়া
টেস্টোস্টেরন পেশির ভর ও বিকাশে ভূমিকা রাখে। এর মাত্রা কমে গেলে পেশি তৈরি ও ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। ফলে অনেক পুরুষ নিজের শারীরিক শক্তি আগের তুলনায় কমে গেছে বলে অনুভব করেন।
৮. ওজন বেড়ে যাওয়া
টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে পুরুষের ওজন বাড়তে পারে। আবার অতিরিক্ত ওজন কমানোর মাধ্যমে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কিছুটা বাড়ানো এবং এর সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু উপসর্গ কমানো সম্ভব হতে পারে।
৯. সারাক্ষণ ক্লান্তি ও শক্তির ঘাটতি
টেস্টোস্টেরন কমে গেলে অনেক পুরুষের শরীরে শক্তির মাত্রা কমে যায় এবং সবসময় ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে। ঘুমের সমস্যা, মেজাজের পরিবর্তন, ওজন বৃদ্ধি ও শারীরিক শক্তি কমে যাওয়াও এ অনুভূতিকে আরও বাড়াতে পারে।
চিকিৎসা
শারীরিক ব্যায়াম, অতিরিক্ত ওজন কমানো, স্বাস্থ্যকর খাবার এবং পর্যাপ্ত ঘুম টেস্টোস্টেরনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করতে পারে। তবে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে বিভিন্ন চিকিৎসা নেওয়া যায়।
এর মধ্যে রয়েছে পেশিতে টেস্টোস্টেরন ইনজেকশন, ত্বকের মাধ্যমে প্রয়োগযোগ্য জেল বা প্যাচ এবং সরাসরি ত্বকে ব্যবহারের টেস্টোস্টেরন জেল। কিছু ক্ষেত্রে ত্বকের নিচে টেস্টোস্টেরন ইমপ্ল্যান্টও দেওয়া হয়। সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করছেন এমন পুরুষদের ক্ষেত্রে চিকিৎসক পরিস্থিতি অনুযায়ী ক্লোমিফিন সাইট্রেটের মতো ওষুধ দিতে পারেন।
তবে টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার লক্ষণ একেক পুরুষের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। তাই নিজের উপসর্গ দেখে নিজে থেকে হরমোন বা ওষুধ ব্যবহার না করে ইউরোলজিস্ট বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
সূত্র: ইউরোলজি স্পেশালিস্টস এনসি

-6ac2583e046e6.jpg)
-6ac255a25ac77.jpg)