প্রস্রাব ধরে রাখতে পারছেন না? কারণ ও করণীয় জেনে নিন
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা বা অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রস্রাব বের হয়ে যাওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স বলা হয়। অর্থাৎ প্রস্রাবের বেগ অনুভূত হোক বা না হোক, অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রস্রাব বের হয়ে যেতে পারে।
যেকোনো বয়সেই এ সমস্যা হতে পারে, তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকি বাড়ে। এতে ঘুম, শারীরিক কার্যক্রম, যৌনস্বাস্থ্য, সামাজিক আত্মবিশ্বাস ও মানসিক সুস্থতা ব্যাহত হতে পারে। তবে আশার কথা হলো, এর বেশির ভাগ কারণই চিকিৎসাযোগ্য।
প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার ধরন
কাশি, হাঁচি, হাসি, ভারী কিছু তোলা, দৌড়ানো বা ব্যায়ামের সময় প্রস্রাব বের হয়ে যাওয়াকে স্ট্রেস ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স বলা হয়। সন্তান জন্মদানের পর নারীদের মধ্যে এবং প্রোস্টেটের অস্ত্রোপচারের পর পুরুষদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়।
হঠাৎ তীব্র প্রস্রাবের বেগ এলে তা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারাকে আর্জেন্সি ইনকন্টিনেন্স বলা হয়। এটি সাধারণত অতিসক্রিয় মূত্রথলির সঙ্গে সম্পর্কিত। স্ট্রেস ও আর্জেন্সি—দুই ধরনের লক্ষণ একসঙ্গে থাকলে তাকে মিক্সড ইনকন্টিনেন্স বলা হয়।
মূত্রথলি পুরোপুরি খালি না হলে অতিরিক্ত প্রস্রাব জমে অল্প অল্প করে বের হতে পারে। একে ওভারফ্লো ইনকন্টিনেন্স বলা হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট বড় হয়ে মূত্রনালিতে বাধা সৃষ্টি করা এর গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আবার চলাফেরার সমস্যা, স্মৃতিশক্তি বা পরিবেশগত কারণে সময়মতো শৌচাগারে পৌঁছাতে না পারলেও প্রস্রাব বের হয়ে যেতে পারে। একটানা প্রস্রাব ঝরতে থাকলে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
নারীদের ক্ষেত্রে কারণ
গর্ভধারণ ও স্বাভাবিক প্রসবের সময় পেলভিক ফ্লোরের পেশি ও আশপাশের টিস্যু দুর্বল বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একাধিকবার সন্তান জন্মদান, প্রসবের সময় যন্ত্রের ব্যবহার এবং বেশি বয়সে মাতৃত্বের কারণে ঝুঁকি বাড়তে পারে। মেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যাওয়াও মূত্রথলি ও মূত্রনালির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ছাড়া স্থূলতা, দীর্ঘদিনের কাশি, কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, পেলভিক অঙ্গ নিচে নেমে আসা, মূত্রনালির সংক্রমণ, ডায়াবেটিস, স্নায়ুরোগ, পেলভিক অঞ্চলের অস্ত্রোপচার ও কিছু ওষুধের কারণেও এ সমস্যা হতে পারে।
পুরুষদের ক্ষেত্রে কারণ
পুরুষদের প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার অন্যতম কারণ হলো প্রোস্টেট বড় হয়ে যাওয়া বা মূত্রনালিতে বাধা সৃষ্টি করা। প্রোস্টেটের অস্ত্রোপচারের পরও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে প্রোস্টেট ক্যানসারের অস্ত্রোপচারের পর মূত্র নিয়ন্ত্রণকারী পেশি দুর্বল হয়ে স্ট্রেস ইনকন্টিনেন্স হতে পারে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে রাতে বারবার প্রস্রাবের প্রবণতাও বাড়তে পারে। ৭০ বছরের বেশি বয়সি পুরুষদের রাতে দুই-তিনবার প্রস্রাব হওয়া অনেক ক্ষেত্রে বয়সজনিত স্বাভাবিক পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে রাতে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া প্রোস্টেট বড় হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে। দীর্ঘদিন মূত্রনালিতে বাধা থাকলে মূত্রথলি পুরোপুরি খালি না হয়ে শেষ পর্যন্ত প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা বা মূত্রথলির কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে।
যেভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়
স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখা, প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করা, অতিরিক্ত চা-কফি, কোমল পানীয়, এনার্জি ড্রিংক ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করা উপকারী। নিয়মিত শরীরচর্চাও গুরুত্বপূর্ণ। অতিসক্রিয় মূত্রথলির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় পরপর প্রস্রাব করার অভ্যাস এবং বেগ এলে কিছুক্ষণ নিয়ন্ত্রণের প্রশিক্ষণ কাজে আসতে পারে।
পেলভিক ফ্লোরের পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সন্তান জন্মদানের পর নারী এবং প্রোস্টেটের অস্ত্রোপচারের পর পুরুষরা এ ব্যায়াম থেকে উপকার পেতে পারেন। সঠিক নিয়মে ব্যায়াম শেখার জন্য প্রশিক্ষিত ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি
প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারার সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে সেটিকে শুধু বয়সের স্বাভাবিক পরিবর্তন মনে করা ঠিক নয়। নতুন করে সমস্যা শুরু হওয়া, ধীরে ধীরে বেড়ে যাওয়া, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ, তলপেটে ব্যথা, প্রস্রাব করতে কষ্ট, তীব্র প্রস্রাবের বেগ, স্নায়বিক সমস্যা বা একটানা প্রস্রাব ঝরার মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সঠিক সময়ে কারণ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করলে অনেক ক্ষেত্রেই প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা সম্ভব। জীবনযাত্রায় পরিবর্তন, পেলভিক ফ্লোরের ব্যায়াম, মূত্রথলির প্রশিক্ষণ এবং মূল রোগের উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

-6ac255a25ac77.jpg)