হৃদরোগের ৫ নীরব সংকেত, শরীরে দেখা দিলে হোন সতর্ক
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হৃদরোগ সবসময় স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে আসে না। অনেক সময় এর লক্ষণ মৃদু, অস্পষ্ট কিংবা অন্য কোনো সাধারণ সমস্যার মতো মনে হতে পারে। কেউ হয়তো ক্লান্তি বা মানসিক চাপকে কারণ মনে করেন, আবার বুকের অস্বস্তিকে গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। এতে চিকিৎসা নিতে দেরি হতে পারে, যা হৃদরোগের ক্ষেত্রে বিপজ্জনক।
চিকিৎসকরা বলছেন, শরীরে কিছু পরিবর্তন দেখা দিলে তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন। হৃদরোগের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত তুলে ধরেছেন বেঙ্গালুরুর অ্যাপোলো হাসপাতালের কনসালট্যান্ট ও ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা. লক্ষ্মী কান্ত পি।
বুকে অস্বস্তি বা চাপ
হৃদরোগের অন্যতম পরিচিত লক্ষণ হলো বুকে অস্বস্তি বা চাপ অনুভূত হওয়া। বুকের মাঝখান বা বাঁ পাশে চাপ, টান, চেপে ধরা, ভারী লাগা কিংবা জ্বালাপোড়ার মতো অনুভূতি হতে পারে। কারও মনে হতে পারে বুকের ওপর ভারী কিছু চাপ দিয়ে রাখা হয়েছে।
শারীরিক পরিশ্রম বা মানসিক চাপের সময় এ অস্বস্তি দেখা দিয়ে বিশ্রামে কমতে পারে। আবার বিশ্রামের সময়ও এটি হতে পারে। সব ধরনের বুকব্যথা হৃদরোগের কারণে হয় না। তবে অকারণে বা দীর্ঘ সময় ধরে বুকে অস্বস্তি থাকলে তা অবহেলা করা উচিত নয়।
শ্বাসকষ্ট
হৃদযন্ত্র পর্যাপ্ত রক্ত পাম্প করতে না পারলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। প্রথম দিকে হাঁটা, সিঁড়ি ভাঙা বা হালকা ব্যায়ামের মতো স্বাভাবিক কাজেও শ্বাস নিতে কষ্ট হতে পারে। কারও বসে বা শুয়ে থাকলেও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। রাতে ঘুম ভেঙে হাঁপাতে থাকা বা পর্যাপ্ত বাতাস পাচ্ছেন না বলে মনে হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
ফুসফুসের সমস্যা, রক্তস্বল্পতা, উদ্বেগ বা সংক্রমণেও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। তবে কারণ না জানা থাকলে বা সমস্যা বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া
সারাদিন কাজের পর ক্লান্ত হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও যদি অস্বাভাবিক ক্লান্তি থেকে যায়, তা হৃদযন্ত্রের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। আগে সহজে করা কাজ এখন সামান্যতেই কঠিন মনে হওয়া, অল্প হাঁটলেই দুর্বল হয়ে পড়া কিংবা বারবার বিশ্রামের প্রয়োজন হওয়াও সতর্কসংকেত।
বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে বুকব্যথার বদলে ক্লান্তি, বমিভাব, মাথা ঘোরা বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে।
ব্যথা অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়া
হৃদযন্ত্রের সমস্যাজনিত ব্যথা শুধু বুকেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি এক বা দুই হাত, কাঁধ, ঘাড়, চোয়াল কিংবা পেটের ওপরের অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কখনো ব্যথাটি পেশিতে টান বা পেটের সমস্যার মতো মনে হতে পারে।
বুকে অস্বস্তির সঙ্গে শরীরের ওপরের অংশে ব্যথা ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বয়স্ক ব্যক্তি ও ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে প্রচলিত লক্ষণ ছাড়াও হৃদরোগ দেখা দিতে পারে।
মাথা ঘোরা, ঘাম, বমিভাব বা দ্রুত হৃদস্পন্দন
হঠাৎ মাথা ঘোরা, অতিরিক্ত ঘাম, বমিভাব, হৃদস্পন্দন দ্রুত বা অনিয়মিত হয়ে যাওয়া হৃদযন্ত্রের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এসব উপসর্গের অন্য কারণও থাকতে পারে। তবে বুকের অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা বা অজ্ঞান হওয়ার সঙ্গে এগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
হৃদস্পন্দন দ্রুত হওয়া, কাঁপা বা মাঝে মাঝে স্পন্দন বাদ পড়ার অনুভূতি অ্যারিথমিয়ার লক্ষণ হতে পারে। কিছু অ্যারিথমিয়া ক্ষতিকর নয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসা জরুরি হতে পারে।
কখন জরুরি চিকিৎসা নেবেন?
বুকে তীব্র চাপ বা অস্বস্তি কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী হলে কিংবা এর সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম, বমিভাব, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া অথবা হাত, পিঠ, ঘাড় ও চোয়ালে ছড়িয়ে পড়া ব্যথা থাকলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। কারণ নির্ণয়ের চেষ্টা করে অপেক্ষা করা উচিত নয়।
তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই যে হৃদরোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্যান্য সমস্যাতেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম, রক্ত পরীক্ষা, ইকোকার্ডিওগ্রামসহ বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে কারণ নির্ণয় করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদরোগের সতর্কসংকেত সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং শরীরে দীর্ঘস্থায়ী কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ, যথাযথ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

-6ac26e20a6a94.jpg)
-6ac255a25ac77.jpg)