হৃদ্যন্ত্র ভালো রাখতে গাজরের জুস কতটা উপকারী?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৯ পিএম
গাজরের জুসে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ভিটামিন সি ও ভিটামিন এ রয়েছে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গাজরের জুসে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ভিটামিন সি ও ভিটামিন এ রয়েছে। এসব পুষ্টি উপাদান হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে এবং হৃদ্রোগের কিছু ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে পটাশিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার উচ্চ রক্তচাপ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
গাজরের জুসে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও হৃদ্যন্ত্রের জন্য উপকারী হতে পারে। উচ্চ কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা থাকা ১৭ জন প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে তিন মাসের একটি গবেষণায় প্রতিদিন দুই কাপ বা ৪৮০ মিলিলিটার গাজরের জুস পান করানো হয়। এতে তাদের রক্তে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে এবং রক্তের চর্বি অক্সিডাইজ হওয়ার পরিমাণ কমে। এই প্রক্রিয়াটি হৃদ্রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
২০২৪ সালের আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন এ ও ই সমৃদ্ধ জুস রক্তে চর্বি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মাত্রা উন্নত করতে পারে এবং রক্তনালির মধ্য দিয়ে রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করতে পারে। এ ছাড়া রক্তে ভিটামিন এ, ই ও সি-এর উচ্চ মাত্রার সঙ্গে হৃদ্রোগে মৃত্যুর তুলনামূলক কম ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে
গাজরের জুসে থাকা পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং রক্তনালির দেয়াল শিথিল করতে সাহায্য করে। এতে হৃদ্যন্ত্রের ওপর চাপ কমতে পারে। কিছু গবেষণায় প্রতিদিন গাজরের জুস পান করলে সিস্টোলিক বা ওপরের রক্তচাপ কমতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
গাজরের জুসে বিটা-ক্যারোটিনসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যারোটিনয়েড এবং ভিটামিন সি রয়েছে। এসব অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যাল নিষ্ক্রিয় করতে সাহায্য করে। ফ্রি র্যাডিক্যাল রক্তনালিতে অক্সিডেটিভ ক্ষতি করতে পারে, যা হৃদ্রোগ ও রক্তনালিতে প্লাক জমার সঙ্গে সম্পর্কিত।
গবেষণায় রক্তে আলফা-ক্যারোটিন ও বিটা-ক্যারোটিনের উচ্চ মাত্রার সঙ্গে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস বা ধমনিতে চর্বি জমে শক্ত হয়ে যাওয়ার তুলনামূলক কম ঝুঁকির সম্পর্কও পাওয়া গেছে।
কিছু গবেষণায় আরও দেখা গেছে, গাজরে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও দ্রবণীয় আঁশ খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে মানুষের ওপর এ বিষয়ে এখনো আরও গবেষণা প্রয়োজন।
অতিরিক্ত গাজরের জুসও ভালো নয়
তবে গাজরের জুস পান করার ক্ষেত্রে পরিমিত থাকা গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত দিনে প্রায় এক কাপ বা ২৪০ মিলিলিটার গাজরের জুস পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত গাজরের জুস পান করলে শরীরে বিটা-ক্যারোটিনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে ত্বক হলুদ বা কমলা রঙের হয়ে যেতে পারে। এই অবস্থাকে ক্যারোটিনেমিয়া বলা হয়।
এ ছাড়া গাজরের জুসে প্রাকৃতিক চিনি রয়েছে এবং পুরো গাজরের তুলনায় এতে আঁশের পরিমাণ কম। ফলে জুস পান করলে রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের গাজরের জুস গ্রহণের পরিমাণের বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত।
খাদ্যাভ্যাসে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। বিশেষ করে যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ বা রক্তচাপের ওষুধ সেবন করছেন, তাদের বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। গাজরের জুসে থাকা ভিটামিন কে বা পটাশিয়াম কিছু ওষুধের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্র- সামা টিভি

