গুণমান ঠিক রাখতে যে ৬ খাবার ফ্রিজের বাইরে রাখা জরুরি
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম
খাবার দীর্ঘসময় সংরক্ষণ করতে রেফ্রিজারেটরের বিকল্প নেই।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
খাবার দীর্ঘসময় সংরক্ষণ করতে রেফ্রিজারেটরের বিকল্প নেই। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের ব্যবহৃত কিছু খাবার সাধারণত ফ্রিজের বাইরে রাখাই ভালো।
কম তাপমাত্রা কিছু খাবারের গঠন ও স্বাদে প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে খাবারের মান দ্রুত নষ্টও হতে পারে। যেসব খাবার সাধারণত আস্ত ও না-কাটা অবস্থায় ঘরের তাপমাত্রায় রাখাই ভালো। চলুন জেনে নিই কী কী খাবার ফ্রিজের বাইরে রাখা উত্তম—
টমেটো
টমেটো ফ্রিজে রাখলে এর গঠন ও স্বাদে পরিবর্তন আসতে পারে। এতে টমেটো নরম হয়ে যেতে পারে এবং এর প্রাকৃতিক মিষ্টতা ও সুগন্ধ কিছুটা কমে যেতে পারে। আস্ত টমেটো সরাসরি সূর্যের আলো থেকে দূরে ঘরের তাপমাত্রায় রাখাই ভালো। তবে কেটে ফেলার পর অবশ্যই ফ্রিজে রাখতে হবে।
আলু
ঠান্ডা তাপমাত্রায় আলুর কিছু স্টার্চ চিনিতে রূপান্তরিত হতে পারে। এর ফলে আলুর স্বাদ ও রান্নার বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আসতে পারে। কখনও কখনও আলু অস্বাভাবিকভাবে মিষ্টি হয়ে যেতে পারে এবং এর গঠনও বদলে যেতে পারে।
আলু ঠান্ডা, অন্ধকার ও শুষ্ক জায়গায় ভালো বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রেখে সংরক্ষণ করা উচিত। রান্নাঘরের ঝুড়ি বা কাগজের ব্যাগ এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। আলু পেঁয়াজ থেকে আলাদা করে রাখা উচিত।
পেঁয়াজ ও রসুন
আস্ত পেঁয়াজ আর্দ্র ফ্রিজের পরিবেশে রাখলে সহজেই নরম হয়ে যেতে পারে এবং ছত্রাক ধরতে পারে। রসুনও অনুপযুক্ত পরিবেশে রাখলে অঙ্কুরিত হতে পারে এবং এর গঠন রাবারের মতো শক্ত বা চিবোতে অস্বস্তিকর হয়ে যেতে পারে।
পেঁয়াজ ও রসুন—দুটিই সাধারণত ঠান্ডা, শুষ্ক ও বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় রাখা ভালো। তবে খোসা ছাড়ানো বা কাটা পেঁয়াজ ও রসুন ঢাকনাযুক্ত পাত্রে রেখে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা উচিত।
পাউরুটি
ফ্রিজে রাখলে পাউরুটি দ্রুত শুকিয়ে বাসি হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হতে পারে। কয়েক দিনের মধ্যে খাওয়া হবে এমন পাউরুটি ঘরের তাপমাত্রায় ব্রেড বক্স বা ভালোভাবে বন্ধ করা ব্যাগে রাখা ভালো।
দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করতে হলে ফ্রিজে রাখার পরিবর্তে পাউরুটি জমিয়ে রাখা বা ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা সাধারণত ভালো বিকল্প।
কলা
ঠান্ডা তাপমাত্রায় কলার খোসা কালচে হয়ে যেতে পারে এবং ফলের গঠনেও পরিবর্তন আসতে পারে। কাঁচা ও পাকা—দুই ধরনের কলাই সাধারণত ঘরের তাপমাত্রায় রাখা ভালো। তবে কলা পুরোপুরি পেকে গেলে আরও পাকতে দেওয়া ধীর করার জন্য ফ্রিজে রাখা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে খোসা কালচে হয়ে যেতে পারে।
কফি
কফির দানা ও গুঁড়া ফ্রিজে রাখা হলে আশপাশের খাবার থেকে আর্দ্রতা ও গন্ধ শোষণ করতে পারে। এর ফলে কফির সুগন্ধ ও স্বাদে পরিবর্তন আসতে পারে। কফি সাধারণত বায়ুরোধী পাত্রে, তাপ, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে ঠান্ডা ও শুষ্ক জায়গায় সংরক্ষণ করা ভালো।
কখন ফ্রিজে রাখা জরুরি
সব খাবার অবশ্যই ঘরের তাপমাত্রায় রাখা উচিত নয়। টমেটো, পেঁয়াজ বা রসুনের মতো খাবার কেটে বা খোসা ছাড়ানোর পর খাদ্যনিরাপত্তার জন্য ফ্রিজে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে, খোলা সস ও অন্যান্য প্যাকেটজাত খাবার প্যাকেটের গায়ে দেওয়া সংরক্ষণ নির্দেশনা অনুযায়ী রাখতে হবে।
সঠিকভাবে খাবার সংরক্ষণ করলে স্বাদ ও গঠন ভালো রাখা যায় এবং ফ্রিজের জায়গাও আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব। মূল বিষয় হলো—কোন খাবার ফ্রিজে রাখলে উপকার হয় আর কোন খাবার ঠান্ডা, শুষ্ক পরিবেশে রাখাই ভালো, তা আলাদা করে বোঝা।
সূত্র: সামা টিভি

-6ac100c9f4203.jpg)