ব্রেকআপের পর অনেকেই প্রাক্তনের সঙ্গে কেন বন্ধুত্ব রাখেন?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্রেকআপের পর প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকার সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখা উচিত কি না—এ প্রশ্নের সহজ কোনো ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তর নেই। মনোবিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা বলছে, সম্পর্কটি কেমন ছিল তার চেয়ে বিচ্ছেদের পর কেন যোগাযোগ বজায় রাখতে চাইছেন, দুজনের মানসিক সংযুক্তির ধরন এবং বিচ্ছেদের পর কতটা সময় পার হয়েছে—এসব বিষয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কারও ক্ষেত্রে এই বন্ধুত্ব স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার পথ সহজ করে, আবার কারও ক্ষেত্রে পুরোনো সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করে।
কেন সাবেককে ভুলে থাকা কঠিন
প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে গেলে মস্তিষ্ক শুধু দুঃখ অনুভব করে না; এর সঙ্গে যুক্ত হয় আকাঙ্ক্ষা ও একধরনের মানসিক শূন্যতা। ২০০৪ সালে হেলেন ফিশারের নেতৃত্বে পরিচালিত মস্তিষ্কের কার্যক্রমবিষয়ক এক গবেষণায় দেখা যায়, সাবেক সঙ্গীর ছবি দেখার সময় মস্তিষ্কের ভেন্ট্রাল টেগমেন্টাল এরিয়া (ভিটিএ) ও কডেট নিউক্লিয়াস সক্রিয় হয়। এসব অংশ পুরস্কার ও প্রেরণার সঙ্গে যুক্ত।
তাই বিচ্ছেদের পর সাবেকের একটি ফোন, বার্তা, ছবি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়া সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। কিন্তু বারবার এমন যোগাযোগ পুরোনো আবেগকে সক্রিয় রাখার সুযোগও তৈরি করে। বিশেষ করে বিচ্ছেদের পরপরই যোগাযোগ বজায় রাখলে মানসিকভাবে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
চার ধরনের কারণ
গবেষক মোগিলস্কি ও ওয়েলিংয়ের ২০১৭ সালের গবেষণায় সাবেকের সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখার কয়েকটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তাবোধ, বাস্তব প্রয়োজন, সামাজিক সৌজন্য এবং অমীমাংসিত প্রেমের আকাঙ্ক্ষা।
নিরাপত্তাবোধের ক্ষেত্রে সাবেক সঙ্গীকে একজন বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য মানুষ হিসেবে দেখা হয়। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর এমন বন্ধুত্ব কখনো কখনো স্বাভাবিকভাবে টিকে থাকতে পারে।
বাস্তব প্রয়োজনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সন্তান, অর্থনৈতিক বিষয়, ব্যবসা, কর্মক্ষেত্র বা একই সামাজিক পরিমণ্ডলের কারণে অনেককে যোগাযোগ রাখতেই হয়।
সামাজিক সৌজন্যের কারণে কেউ কেউ সম্পর্ক খারাপভাবে শেষ করতে চান না। তাই পারস্পরিক বন্ধুত্ব বা সামাজিক পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে যোগাযোগ বজায় রাখেন।
তবে অমীমাংসিত প্রেমের আকাঙ্ক্ষা থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। সম্পর্ক আবারও জোড়া লাগবে—এমন আশা নিয়ে বন্ধুত্ব চালিয়ে গেলে বিচ্ছেদের বাস্তবতা মেনে নেওয়া কঠিন হতে পারে।
কখন বন্ধুত্ব ক্ষতির কারণ হতে পারে
সাবেকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর যদি বারবার মন খারাপ হয়, ঈর্ষা তৈরি হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার গতিবিধি নজরে রাখতে ইচ্ছা করে বা নতুন সম্পর্কে জড়াতে বাধা সৃষ্টি হয়, তাহলে বিষয়টি নিয়ে ভাবা দরকার।
একইভাবে, নীরবতা সহ্য করতে না পেরে বারবার যোগাযোগ করা কিংবা সাবেকের কাছ থেকে মানসিক নিশ্চয়তা পাওয়ার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়াও সতর্ক হওয়ার কারণ। এসব ক্ষেত্রে বন্ধুত্বটি আসলে পুরোনো সম্পর্কের সঙ্গে মানসিকভাবে যুক্ত থাকার একটি উপায় হয়ে উঠতে পারে।
সময়ও গুরুত্বপূর্ণ
বিচ্ছেদের পরপরই বন্ধুত্ব করা এবং দীর্ঘ সময় পর বন্ধুত্ব করার অভিজ্ঞতা এক নয়। সময়ের সঙ্গে পুরোনো সম্পর্কের আবেগ অনেকের ক্ষেত্রে কমে আসে। ফলে কয়েক মাস পর যে যোগাযোগ কষ্টদায়ক, এক বছর পর সেটিই হয়তো স্বাভাবিক বন্ধুত্বে পরিণত হতে পারে।
তাই বিচ্ছেদের পর কিছু সময় দূরত্ব বজায় রাখা অনেকের জন্য সহায়ক হতে পারে। এই সময়ে ফোন, বার্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি বা পারস্পরিক বন্ধুদের মাধ্যমে খোঁজ নেওয়া কমানো যেতে পারে। তবে সন্তান, কর্মক্ষেত্র বা অন্য কোনো যৌথ দায়িত্ব থাকলে পুরোপুরি যোগাযোগ বন্ধ করা সব সময় সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিষয়েই সীমিত যোগাযোগ রাখা যেতে পারে।
শেষ পর্যন্ত সাবেকের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখা বা না রাখার বিষয়টি নির্ভর করে ব্যক্তির মানসিক অবস্থা, যোগাযোগের উদ্দেশ্য, সম্পর্কের ধরন এবং বিচ্ছেদের পর কতটা সময় পার হয়েছে তার ওপর। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—এই বন্ধুত্ব আপনাকে সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করছে, নাকি বারবার অতীতের কাছে ফিরিয়ে নিচ্ছে, সেটি নিজের কাছে সৎভাবে যাচাই করা।


