রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে যে ৫ স্বাস্থ্যসূচক বুঝে রাখা জরুরি
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রক্ত পরীক্ষা শুধু রক্তে শর্করার মাত্রা জানতেই নয়, শরীরের ভেতরে কী ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে, তারও নানা ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে রিপোর্টে থাকা অসংখ্য সংখ্যা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন শব্দের কারণে কোন ফলাফলগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝতে অনেকেরই সমস্যা হয়।
পুষ্টিবিদ নমামি আগরওয়াল এমন পাঁচটি স্বাস্থ্যসূচকের কথা তুলে ধরেছেন, যেগুলো রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট দেখার সময় বুঝে রাখা যেতে পারে। এগুলো হলো—এইচবিএ১সি (HbA1c), এলডিএল ও ট্রাইগ্লিসারাইড, ফেরিটিন, ফাস্টিং ইনসুলিন ও এইচওএমএ-আইআর (HOMA-IR) এবং এইচএস-সিআরপি (hs-CRP)।
এইচবিএ১সি
এইচবিএ১সি রক্তে শর্করার গত তিন মাসের গড় মাত্রার ধারণা দেয়। ফলে এটি কোনো নির্দিষ্ট দিনের রক্তে শর্করার মাত্রার পরিবর্তে দীর্ঘ সময়ের গড় চিত্র বুঝতে সহায়তা করে।
এলডিএল ও ট্রাইগ্লিসারাইড
এলডিএল ও ট্রাইগ্লিসারাইড সাধারণত কোলেস্টেরল পরীক্ষার অংশ হিসেবে দেখা হয়। এলডিএল এক ধরনের কোলেস্টেরল, আর ট্রাইগ্লিসারাইড হলো রক্তে থাকা এক ধরনের চর্বি। শরীর কীভাবে চর্বি ও অতিরিক্ত ক্যালরি প্রক্রিয়াজাত করছে, এসব পরীক্ষার ফলাফল থেকে সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
ফেরিটিন
ফেরিটিন শরীরে সঞ্চিত আয়রনের পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা দেয়। কারও ফেরিটিনের মাত্রা কম থাকলে শরীরে আয়রনের মজুত কম থাকতে পারে, এমনকি তার হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও।
ফাস্টিং ইনসুলিন ও এইচওএমএ-আইআর
ফাস্টিং ইনসুলিন এবং এইচওএমএ-আইআর পরীক্ষার মাধ্যমে শরীর ইনসুলিন কীভাবে ব্যবহার করছে, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ইনসুলিন প্রতিরোধ বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের প্রাথমিক পরিবর্তন শনাক্ত করতেও এসব সূচক চিকিৎসকদের সহায়তা করতে পারে।
এইচএস-সিআরপি
এইচএস-সিআরপি শরীরে প্রদাহের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি রক্তসূচক। হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বোঝার ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা অন্যান্য স্বাস্থ্যতথ্যের পাশাপাশি এই পরীক্ষার ফলাফলও বিবেচনা করতে পারেন।
নমামি আগরওয়ালের মতে, ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ফলাফল মূলত নিজের শরীর ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে আরও ভালোভাবে বোঝার একটি উপায়।
তবে পরীক্ষার ফলাফলে বিভিন্ন কারণে পরিবর্তন আসতে পারে। মেডলাইনপ্লাসের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার আগে কী খাওয়া বা পান করা হয়েছে, কী ধরনের ওষুধ বা খাদ্য-পরিপূরক গ্রহণ করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত ব্যায়াম করা হয়েছে কি না—এসব বিষয় কিছু পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। মাসিক চলাকালীনও কিছু পরীক্ষার ফলাফলে পরিবর্তন আসতে পারে।
তাই রক্ত পরীক্ষা করার আগে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যসেবাদাতার দেওয়া প্রস্তুতির নির্দেশনা মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—কোনো কোনো পরীক্ষার আগে নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাকতে হতে পারে বা কিছু খাবার এড়িয়ে চলতে হতে পারে। সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিলে পরীক্ষার ফলাফলও তুলনামূলকভাবে নির্ভুলভাবে পাওয়া যায়।
সূত্র: এনডিটিভি হেলথ
