একাকিত্বে ভুগছেন? বেরিয়ে আসার ৩ উপায় জেনে নিন
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
একাকিত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এখন শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, বরং বড় একটি সামাজিক বাস্তবতা। যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৪ সালে প্রতি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন জানিয়েছেন, দিনের বড় একটি সময় তারা একাকিত্ব অনুভব করেন। বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতিটিকে ‘একাকিত্বের মহামারি’ হিসেবেও উল্লেখ করছেন।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী একাকিত্ব শুধু মানসিক অস্বস্তিই তৈরি করে না, স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. অ্যাঞ্জেলা ডাকওয়ার্থের মতে, মানুষের সাফল্যের পেছনে শুধু ব্যক্তিগত চেষ্টা বা প্রেরণা কাজ করে না। তারা কোন পরিবেশে থাকছেন, কী ধরনের মানুষকে ঘিরে আছেন এবং কী সামাজিক সুযোগ পাচ্ছেন, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ।
তার নতুন বই ‘সিচুয়েটেড: ফাইন্ড দ্য পিপল অ্যান্ড প্লেসেস দ্যাট ব্রিং আউট ইয়োর বেস্ট’-এ তিনি দেখিয়েছেন, আধুনিক জীবনব্যবস্থা মানুষের জন্য সহজে শক্তিশালী সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তোলার পরিবেশ তৈরি করে না। তবে কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে বিচ্ছিন্নতা কমানো সম্ভব।
প্রযুক্তির ব্যবহার কমাতে হবে
একাকিত্ব কাটাতে প্রথমেই নিজের প্রযুক্তি ব্যবহারের ধরন নিয়ে ভাবতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও কল কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ করলেও এগুলো সব সময় প্রকৃত সামাজিক সম্পর্কের বিকল্প হতে পারে না।
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অধ্যাপক ড. শেরি টার্কলের মতে, প্রযুক্তি অনেক সময় দুর্বলতার ঝুঁকি ছাড়াই বন্ধুত্ব বা ঘনিষ্ঠতার অনুভূতি দেয়। কিন্তু প্রকৃত বন্ধুত্ব ও ঘনিষ্ঠতার জন্য নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা এবং অন্যের সামনে নিজেকে কিছুটা উন্মুক্ত করা জরুরি।
ভিডিও কল বা অনলাইন কথোপকথন প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগ ধরে রাখতে সহায়ক হলেও মানুষের শারীরিক উপস্থিতি এবং কোনো সম্প্রদায়ের অংশ হয়ে থাকার অভিজ্ঞতার পুরোপুরি বিকল্প নয়। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চ্যাটবট যতই মানুষের মতো উত্তর দিক, তার সঙ্গে কথোপকথন প্রকৃত সহমর্মিতার বিকল্প নয়।
সামাজিক সম্পর্কের চর্চা করুন
বন্ধুত্ব তৈরি করতে সব সময় বড় কোনো উদ্যোগের প্রয়োজন নেই। স্থানীয় কফি শপের কর্মীকে শুভেচ্ছা জানানো, লাইনে দাঁড়িয়ে পাশের ব্যক্তির সঙ্গে দু-একটি কথা বলা, কোনো প্রশিক্ষণ বা শখের ক্লাশ শেষে অন্যদের সঙ্গে কথা বলা কিংবা কোনো দৌড়ের দলে যোগ দেওয়ার মতো ছোট উদ্যোগও কাজে আসতে পারে।
আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মনোবিজ্ঞানী ড. লিন বুফকার মতে, এসব ছোট যোগাযোগ সব সময় গভীর বন্ধুত্বে পরিণত হবে না। তবে এগুলো মানুষকে একটি সামাজিক পরিবেশের অংশ হিসেবে অনুভব করতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে নতুন গুরুত্বপূর্ণ মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগও তৈরি হয়।
একাকিত্ব কমানোর এই প্রক্রিয়াকে তিনি সামাজিক ‘পেশি’ শক্তিশালী করার সঙ্গে তুলনা করেছেন। জীবনের কোনো এক সময়ে মানুষের জন্য নতুন বন্ধুত্ব তৈরি করা স্বাভাবিক ছিল। বয়স ও ব্যস্ততার সঙ্গে সেই অভ্যাস কিছুটা কমে গেলেও চর্চার মাধ্যমে তা আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
সাহসী ও কৌতূহলী হতে হবে
একাকিত্ব কাটানোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের সীমা থেকে বেরিয়ে আসা। অপরিচিত কারও সঙ্গে প্রথম কথা বলা বা নিজে থেকে যোগাযোগ করা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। তবে এটিকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আশঙ্কা হিসেবে না দেখে একটি পরীক্ষা হিসেবে দেখলে বিষয়টি সহজ হয়।
বিশেষজ্ঞরা একই সঙ্গে কৌতূহলী হওয়ার পরামর্শ দেন। সবার সঙ্গে সব বিষয়ে মিল থাকতে হবে, এমন নয়। বরং মতের অমিল থাকা সত্ত্বেও অন্য ব্যক্তিকে বোঝার চেষ্টা করতে হবে।
কেউ কেন এমন একটি সিনেমা পছন্দ করেন, যেটি আপনার অপছন্দ? কোনো বিষয়ে তার ভিন্ন মতের পেছনে কী অভিজ্ঞতা কাজ করছে? এ ধরনের প্রশ্নের মাধ্যমে অন্য মানুষকে জানার চেষ্টা করলে নিজের উদ্বেগ থেকে মনোযোগ সরিয়ে সম্পর্ক তৈরির সুযোগ বাড়ে।
শুরুতেই গভীর ব্যক্তিগত প্রশ্ন করার প্রয়োজন নেই। সাধারণ কথাবার্তা দিয়েই শুরু করা যায়। নিয়মিত এমন যোগাযোগের চর্চা একসময় অপ্রত্যাশিত মানুষের সঙ্গেও অর্থপূর্ণ সম্পর্ক তৈরির সুযোগ করে দিতে পারে।
সূত্র: সিএনএন

-6abf6aaaaafc4.jpg)