উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা যেসব ওষুধ ভুলেও খাবেন না
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নিয়মিত উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খাওয়ার পরও অনেকের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এর পেছনে অনিয়মিত খাবার, অতিরিক্ত লবণ বা মানসিক চাপের পাশাপাশি অন্য কিছু ওষুধও ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক, সর্দি-কাশির ওষুধ, স্টেরয়েড বা কিছু হরমোনজাতীয় ওষুধ সেবন করলে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।
অনেকেই জ্বর, সর্দি-কাশি, ব্যথা বা অন্য কোনো সমস্যায় আগের প্রেসক্রিপশন দেখে কিংবা নিজের মতো করে ওষুধ খেয়ে থাকেন। কিন্তু উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের অভ্যাস ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই নিয়মিত রক্তচাপের ওষুধ সেবন করলে নতুন কোনো ওষুধ নেওয়ার আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ব্যথানাশক ওষুধ
কিছু ব্যথানাশক ওষুধ, বিশেষ করে নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ (এনএসএআইডি), শরীরে সোডিয়াম ও পানি জমিয়ে রাখতে পারে। একই সঙ্গে কিডনির কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে কিছু মানুষের রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধের কার্যকারিতাও কমে যেতে পারে।
তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের নিয়মিত বা দীর্ঘদিন ব্যথানাশক খাওয়ার প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সর্দি-কাশির কিছু ওষুধ
সর্দি-কাশির ওষুধের সব উপাদান উচ্চ রক্তচাপের রোগীর জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে কিছু নাক বন্ধের ওষুধে থাকা ডিকনজেস্ট্যান্ট—যেমন সিউডোইফেড্রিন বা ফেনাইলএফ্রিন—রক্তনালি সংকুচিত করতে পারে। এতে কিছু মানুষের রক্তচাপ ও হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে।
তাই উচ্চ রক্তচাপ থাকলে বাজার থেকে নিজের মতো করে সর্দি-কাশির ওষুধ কেনার আগে এর উপাদান সম্পর্কে জানা এবং চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ
কিছু স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ শরীরে পানি ও সোডিয়াম ধরে রাখার প্রবণতা বাড়াতে পারে। এর ফলে কিছু রোগীর রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। দীর্ঘদিন বা বেশি মাত্রায় স্টেরয়েড ব্যবহারের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
অ্যালার্জি, প্রদাহ বা অন্য কোনো রোগের চিকিৎসায় স্টেরয়েড প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের নির্দেশিত মাত্রা ও সময় মেনে তা ব্যবহার করা উচিত। নিজের ইচ্ছায় স্টেরয়েড শুরু বা বন্ধ করাও ঠিক নয়।
কিছু হরমোনজাতীয় ওষুধ
ইস্ট্রোজেনযুক্ত কিছু গর্ভনিরোধক বড়ি কিছু নারীর ক্ষেত্রে রক্তচাপ বাড়াতে পারে। তাই আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ থাকলে গর্ভনিরোধক বেছে নেওয়ার সময় চিকিৎসককে নিজের রক্তচাপের ইতিহাস জানানো জরুরি।
বিশেষ করে রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত থাকলে কোন ধরনের গর্ভনিরোধক নিরাপদ হবে, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করা উচিত।
কিছু বিষণ্নতার ওষুধ
বিষণ্নতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ রক্তচাপ বা হৃদস্পন্দনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। আবার কিছু ওষুধ অন্য ওষুধের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া তৈরি করতে পারে। তবে সব ধরনের বিষণ্নতার ওষুধ রক্তচাপ বাড়ায়—এমন নয়।
তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীর বিষণ্নতা বা উদ্বেগের চিকিৎসা প্রয়োজন হলে চিকিৎসককে নিয়মিত ব্যবহৃত সব ওষুধের কথা জানানো গুরুত্বপূর্ণ।
ওষুধ খেলেই বন্ধ করবেন না রক্তচাপের ওষুধ
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অন্য কোনো ওষুধ খাওয়ার কারণে নিজের মতো করে রক্তচাপের ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে বা নতুন কোনো ওষুধ শুরু করার প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে ওষুধের মাত্রা বা ধরন পরিবর্তন করতে হবে।
বিশেষ করে হঠাৎ রক্তচাপ অনেক বেড়ে গেলে, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, দৃষ্টিতে সমস্যা, দুর্বলতা বা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
সূত্র: আনন্দবাজার
