অগ্ন্যাশয় ক্যানসার রোগীদের জন্য স্বস্তির খবর, আসছে নতুন ওষুধ
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:১৭ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকেরা। ভিটামিন ডি’র একটি কৃত্রিম অ্যানালগ প্যারিক্যালসিটল প্রচলিত কেমোথেরাপির সঙ্গে ব্যবহার করে টিউমারের চারপাশের সুরক্ষামূলক কোষ দুর্বল করার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
গবেষণাটি ডানা-ফারবার ক্যানসার ইনস্টিটিউট ও স্যাল্ক ইনস্টিটিউটের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছে। প্রকাশিত হয়েছে ন্যাচার ক্যানসার জার্নালে।
অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার চিকিৎসায় কঠিন হওয়ার অন্যতম কারণ হলো টিউমারের চারপাশে ঘন তন্তুযুক্ত একটি পরিবেশ তৈরি হওয়া। এতে থাকা ফাইব্রোব্লাস্ট নামের কোষগুলো টিউমারকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি ক্যানসারের চিকিৎসার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।
গবেষকেরা মনে করছেন, ক্যানসার কোষকে সরাসরি ধ্বংস করার পাশাপাশি এই পরিবেশ পরিবর্তন করা গেলে কেমোথেরাপি আরও কার্যকর হতে পারে।
৩৬ রোগীর ওপর পরীক্ষা
গবেষণায় আগে কোনো চিকিৎসা না পাওয়া মেটাস্ট্যাটিক অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত ৩৬ জন রোগী অংশ নেন। তাদের প্রচলিত কেমোথেরাপি—জেমসিটাবিন ও ন্যাব-প্যাকলিট্যাক্সেল—এর সঙ্গে প্লাসিবো, শিরায় প্রয়োগযোগ্য প্যারিক্যালসিটল ও মুখে খাওয়ার প্যারিক্যালসিটল দেওয়া হয়।
গবেষণার প্রধান লক্ষ্য ছিল প্যারিক্যালসিটল কেমোথেরাপির সঙ্গে নিরাপদে ব্যবহার করা যায় কিনা, তা পরীক্ষা করা। সামগ্রিকভাবে চিকিৎসার সমন্বয়টি নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়েছে।
তবে মুখে প্যারিক্যালসিটল পাওয়া ১২ জনের মধ্যে পাঁচজনের রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায়। ওষুধের মাত্রা কমিয়ে এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।
টিউমারের বিশেষ পরিবর্তন
চিকিৎসার আগে এবং চার থেকে ছয় সপ্তাহ পর রোগীদের টিউমারের নমুনা পরীক্ষা করেন গবেষকেরা। এতে দেখা যায়, প্যারিক্যালসিটল টিউমারের ভেতরের ফাইব্রোব্লাস্টগুলোর সক্রিয়তা কমিয়েছে। একই সঙ্গে টিউমারে টি-সেল বা রোগপ্রতিরোধী কোষের প্রবেশও বেড়েছে।
গবেষকদের মতে, এর মাধ্যমে প্যারিক্যালসিটল টিউমারের চারপাশের পরিবেশকে তুলনামূলক কম প্রতিরক্ষামূলক করে তুলতে পারে।
কেমোথেরাপিতে বেশি সাড়ার ইঙ্গিত
যদিও গবেষণাটি চিকিৎসার কার্যকারিতা বা রোগীদের বেঁচে থাকার সময় তুলনা করার জন্য যথেষ্ট বড় ছিল না, তবু ফলাফলে কিছু আশাব্যঞ্জক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
প্যারিক্যালসিটল পাওয়া ২৪ রোগীর মধ্যে ১০ জনের আংশিক সাড়া পাওয়া যায় প্রায় ৪২ শতাংশ। বিপরীতে প্লাসিবো পাওয়া ১২ রোগীর মধ্যে মাত্র একজনের আংশিক সাড়া পাওয়া যায় প্রায় ৯ শতাংশ।
গবেষকেরা আরও দেখতে পান, যেসব রোগীর টিউমারে ভিটামিন ডি রিসেপ্টর (ভিডিআর) এর মাত্রা বেশি ছিল। প্যারিক্যালসিটল ব্যবহারের পর তাদের চিকিৎসায় সাড়া তুলনামূলক ভালো হয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে তারাই সবচেয়ে বেশি সময় বেঁচে ছিলেন।
বড় ট্রায়ালের অপেক্ষা
গবেষকেরা বলছেন, এই ফলাফলকে এখনই নতুন চিকিৎসা হিসেবে গ্রহণ করার মতো চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না। গবেষণাটি মূলত নিরাপত্তা ও টিউমারের পরিবেশে জৈবিক পরিবর্তন শনাক্ত করার জন্য পরিচালিত হয়েছিল।
এখন প্রয়োজন বড় আকারের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল। সেখানে পরীক্ষা করতে হবে, প্যারিক্যালসিটল সত্যিই কেমোথেরাপির কার্যকারিতা ও রোগীদের দীর্ঘমেয়াদি বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ায় কিনা।
গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে টিউমারে ভিটামিন ডি রিসেপ্টরের মাত্রা মেপে কোন রোগীরা এই চিকিৎসা থেকে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হতে পারেন, সেটিও নির্ধারণ করা সম্ভব হতে পারে।
অর্থাৎ, অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারকে শুধু সরাসরি আক্রমণ না করে টিউমারের চারপাশের সুরক্ষা ব্যবস্থা বদলে দেওয়ার এই কৌশল ভবিষ্যতের চিকিৎসায় নতুন একটি পথ খুলে দিতে পারে।
সূত্র: সাইন্স ডেইলি
