ডেঙ্গু রোগীর যেসব লক্ষণ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ
Advertisement
ডা. মো. তালহা চৌধুরী
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে জ্বরের পাশাপাশি মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, শরীরব্যথা, বমি, অরুচি ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। এডিস মশার কামড়ে ছড়ানো এ রোগে জ্বর কমে যাওয়ার পরও রোগীর অবস্থা হঠাৎ খারাপ হতে পারে। তাই এ সময় রোগীর বিশেষ যত্ন ও পর্যবেক্ষণ জরুরি।
ডেঙ্গুর ধরণ ও পর্যায়
চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গুর প্রধান তিনটি পর্যায় রয়েছে। প্রথমটি জ্বরের পর্যায়। এ সময় সাধারণত ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত জ্বর থাকে এবং দুই থেকে সাত দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। দ্বিতীয় পর্যায়টি ঝুঁকিপূর্ণ সময়। এ সময় জ্বর কমে গেলেও রক্তক্ষরণ, পেটব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও রক্তচাপ কমে যাওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার এই সময়টি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এরপর শুরু হয় সুস্থ হওয়ার পর্যায়। এ সময় ধীরে ধীরে ক্ষুধা ফিরে আসে, প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়ে এবং প্লেটলেট বাড়তে শুরু করে।
ডেঙ্গু শনাক্ত করতে জ্বরের প্রথম এক থেকে তিন দিনে এনএস১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করা যায়। জ্বরের চতুর্থ থেকে সপ্তম দিনে আইজিএম অ্যান্টিবডি পরীক্ষা এবং সাত দিন পর আইজিজি অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করা হয়। এ ছাড়া রক্তের পূর্ণ পরীক্ষা করে প্লেটলেট ও হিমাটোক্রিটের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করা হয়।
রক্তের পূর্ণ পরীক্ষার প্রতিবেদনে যেগুলো দেখতে হবে
প্লেটলেট: স্বাভাবিক মাত্রা ১.৫–৪ লাখ/ঘনমিলিমিটার। প্লেটলেট ১ লাখের নিচে নেমে গেলে ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
হিমাটোক্রিট: স্বাভাবিক মাত্রা ৩৬–৪৫ শতাংশ। হিমাটোক্রিট ২০ শতাংশের বেশি বেড়ে গেলে রক্ত ঘন হওয়ার পাশাপাশি শকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
খাবার
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এ সময় রোগীর খাবারে পর্যাপ্ত তরল ও সহজপাচ্য খাবার রাখা জরুরি। পাশাপাশি রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে।
সকালের নাস্তায় ওটস, পায়েস বা স্যুপের সঙ্গে ডাবের পানি দেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া একটি কলা বা আপেল এবং লেবু পানিও রাখা যেতে পারে খাবারের তালিকায়।
দুপুরে নরম ভাত, ডাল ও সেদ্ধ সবজি খাওয়ানো যেতে পারে। এর সঙ্গে রুই বা তেলাপিয়ার মতো নরম মাছ রাখা যেতে পারে। স্যুপ বা ঝোলজাতীয় খাবারও এ সময় উপকারী হতে পারে।
বিকালে রোগীকে পেঁপে বা কমলার রস দেওয়া যেতে পারে। শরীরে পানির ঘাটতি পূরণে ওরস্যালাইন অথবা ঘরে তৈরি লবণ-চিনির পানি দেওয়া যেতে পারে।
রাতের খাবারে হালকা খিচুড়ি বা স্যুপের সঙ্গে শাকসবজি ও ফল রাখা যেতে পারে। রোগীর খাবার যেন সহজপাচ্য হয় এবং একসঙ্গে বেশি না দিয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাওয়ানো হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
জ্বর ও শরীরের ব্যথার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে নিজে থেকে অন্য কোনো ওষুধ বা ইনজেকশন দেওয়া উচিত নয়।
নাক, মুখ বা মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত, কালচে মল, অতিরিক্ত দুর্বলতা, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, পেটব্যথা, পেট ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। ফুলের টব, বালতি, পুরনো টায়ার ও কুলারের পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। পাশাপাশি দিনে ও রাতে মশারি ব্যবহার এবং শরীর ঢাকা পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়।
লেখক
ডা. মো. তালহা চৌধুরী
কনসালটেন্ট, ফ্যামিলি মেডিসিন
আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০

-6ac24fb6de5af.jpg)