ডিভোর্স বাড়ার নেপথ্যে সোশ্যাল মিডিয়া
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৭ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যোগাযোগের অন্যতম সেরা মাধ্যমে পরিণত হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। বর্তমান সময়ে কর্মক্ষেত্রের কারণে স্বামী-স্ত্রী দুইজন থাকেন আলাদা শহরে। ফলে কথা বলার সময় কোথায়! অধিকংশেরই ভরসা সোশ্যাল মিডিয়া, ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার অথবা হোয়াটসঅ্যাপ। আবার সোশ্যাল মিডিয়াতেই হয় ঝগড়া।
কেউ কেউ আবার মন খারাপ হলেই তা তুলে ধরেন ফেসবুকে। একই সঙ্গে বাড়ে অন্যের সঙ্গে নিজের জীবনের তুলনা করার অভ্যাস। এই প্রবণতাই নাকি বাড়াচ্ছে ডিভোর্স।
বিশেষজ্ঞদের মতে আপনার স্মৃতিতে কোনও ক্ষত টাটকা থাকবে, ততক্ষণ আপনি চাইলেও ক্ষমা করে এগিয়ে যেতে পারবেন না। ঠিক যেমনটা হচ্ছে বর্তমান প্রজন্মের সঙ্গে।
এক আইনজীবী বলেন, ‘আজকাল কোনও কিছুই সত্যি সত্যি হারিয়ে যায় না। রাগের মাথায় পাঠানো একটি মেসেজ বহুবছর পরও চাইলেই খুঁজে পাওয়া যায়। বহু বছর আগের একটি ছবি হঠাৎ সামনে চলে আসতে পারে। যা নিমেষে আপনাকে পৌঁছে দেয় পুরনো সময়ে। যে ক্ষত ভুলে আপনি এগিয়ে গিয়েছিলেন, তা আবার ফিরে আসে নতুন করে। কিন্তু আগে তর্কাতর্কি হলে সেই সময়ই তা মিটে যেত।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিভোর্সে আরও প্রভাব রয়েছে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের। সোশাল মিডিয়ায় এখন সকলেই নিজের জীবনের প্রায় প্রতিটি মুহূর্ত তুলে ধরেন। কোথায় যাচ্ছেন, কোথায় খাচ্ছেন, কী পরছেন-সবটাই এখন জেনে যায় সকলে। অন্যদের জীবনের অত্যন্ত যত্নসহকারে সাজানো বা পরিমার্জিত রূপ প্রতিনিয়ত দেখার ফলে মানুষের মনে হতাশা তৈরি হয়। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে জীবনে।
বিশেষজ্ঞদের কথায়, ‘ছবির আড়ালে আসলে কী ঘটছে তা না জেনেই দম্পতিরা নিজেদের সম্পর্কের তুলনা করতে শুরু করেন।’
এর ফলে নিজের দাম্পত্য নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়। যা দুইজন মানুষকে ক্রমশ দূরে সরাতে থাকে। এছাড়া সোশাল মিডিয়ায় বহু মানুষের সঙ্গে কথাবার্তার ফলে অনেকক্ষেত্রে বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। যা মজবুত সম্পর্কও তাসের ঘরের মতো ভেঙে দিতে পারে নিমেষে।
