|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কলা এমন একটি ফল, যা প্রায় সারা বছরই সহজে পাওয়া যায়। কোন সময়ে কলা খেলে শরীর সবচেয়ে বেশি উপকার? এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে নানা মত রয়েছে। আসলে কলা খাওয়ার কোনও একটি নির্দিষ্ট ‘সেরা সময়’ নেই।
সকালে কলা খাওয়া কি ভালো?
সকালে কলা খেলে শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করতে পারে। কলায় থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য শক্তির উৎস। তবে একেবারে খালি পেটে কলা খেলে সকলের শরীরে একই প্রতিক্রিয়া হয় না। কারও ক্ষেত্রে পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হতে পারে। তাই এমন সমস্যা হলে কলার সঙ্গে বাদাম, দই বা অন্য কোনও প্রোটিনযুক্ত খাবার রাখা যেতে পারে।
শরীরচর্চার আগে কলা কেন খাওয়া হয়?
জিমে যাওয়ার আগে দ্রুত শক্তির প্রয়োজন হলে কলা বেশ সুবিধাজনক একটি স্ন্যাকস হতে পারে। ব্যায়ামের প্রায় ৩০-৬০ মিনিট আগে কলা খেলে এর কার্বোহাইড্রেট শরীরকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি দিতে পারে। পাশাপাশি কলায় থাকা পটাশিয়াম পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তবে শুধু কলাকেই সম্পূর্ণ প্রি-ওয়ার্কআউট খাবার হিসেবে ধরার প্রয়োজন নেই। দীর্ঘ বা বেশি পরিশ্রমের ব্যায়াম হলে কলার সঙ্গে অল্প বাদাম বা দইয়ের মতো প্রোটিনযুক্ত খাবার যোগ করা যেতে পারে।
ব্যায়ামের পরেও খেতে পারেন কলা। ওয়ার্কআউটের পর শরীরের শক্তির ভাণ্ডার পুনরায় পূরণ করতে কার্বোহাইড্রেট প্রয়োজন হয়। সেই সময়ে কলা খাওয়া যেতে পারে। তবে পেশি পুনরুদ্ধারের জন্য শুধু কলার বদলে প্রোটিনযুক্ত খাবারের সঙ্গে এটি খেলে খাদ্যতালিকা আরও ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে।
রাতে কলা খাওয়া কি একেবারেই নিষেধ?
রাতে কলা খাওয়া নিয়ে অনেকের মনে ভয় রয়েছে। কিন্তু সাধারণভাবে এমন কোনও বৈজ্ঞানিক নিয়ম নেই যে রাতে কলা খাওয়া যাবে না। রাতের খাবারের পরে মিষ্টি কিছু খাওয়ার ইচ্ছা হলে পরিমাণ বুঝে একটি কলা খেতে পারেন। তবে ভারী খাবারের পর কলা খেলে কারও কারও পেট ফাঁপা বা অস্বস্তি হতে পারে। তাই নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে খাওয়াই ভালো।
তাহলে কখন খাবেন?
কলা স্বাস্থ্যকর ফল হলেও শুধু কলার উপর নির্ভর না করে অন্যান্য ফল, সব্জি, ডাল, সম্পূর্ণ শস্য ও প্রোটিনের মতো বিভিন্ন ধরনের খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি। ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যা থাকলে কলার পরিমাণ নিয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
