হেপাটাইটিস বি কীভাবে ছড়ায়, সুরক্ষা পেতে কী করবেন?
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩০ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হেপাটাইটিস বি এমন একটি সংক্রমণ, যা প্রতিরোধের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা করাও সম্ভব। তারপরও বিশ্বজুড়ে সংক্রামক রোগে মৃত্যুর অন্যতম কারণ হয়ে আছে হেপাটাইটিস বি। দীর্ঘদিন শরীরে এই ভাইরাস থাকলে লিভারে প্রদাহ তৈরি হতে পারে। সময়ের সঙ্গে তা সিরোসিস এমনকি লিভার ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ায়।
হেপাটাইটিস বি ভাইরাস বা এইচবিভি থেকে সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি হলো টিকা। বিশেষ করে জন্মের পরপরই শিশুকে টিকা দেওয়া এবং মা থেকে সন্তানের শরীরে ভাইরাস ছড়ানো ঠেকানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতাল এন্ড রিসার্চ সেন্টারের লিভার ট্রান্সপ্লান্ট ও হেপাটো-প্যানক্রিয়াটো-বিলিয়ারি সার্জারি বিভাগের প্রধান ও পরামর্শদাতা চিকিৎসক ডা. বিভা বার্মা জানান, আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসার পর শিশু জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পোটাইটিস বি দিলে দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ প্রতিরোধে ৯৫ শতাংশের বেশি সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। এরপর শিশুকে আরও দুইডোজ-একটি-এক মাসে এবং অন্যটি ছয় মাসে-দেওয়া হয়।
ছোট বয়সে সংক্রমণ কেন বেশি ভয়ংকর?
এইচবিভি সংক্রমণের পর বয়স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জন্মের পর বা পাঁচ বছরের আগেই আক্রান্ত হলে ভাইরাসটি দীর্ঘস্থায়ী হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। শিশুদের ক্ষেত্রে প্রায় ৯৫ শতাংশ সংক্রমণ ক্রনিক রূপ নিতে পারে। বিপরীতে প্রাপ্তবয়স্ক দের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণের হার ৫ শতাংশেরও কম।
দীর্ঘদিন লিভারে প্রদাহ চলতে থাকলে ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে সিরোসিস বা প্রাথমিক লিভার ক্যানসার দেখা দিতে পারে। এমনকি সিরোসিস হওয়ার আগেও লিভারে ক্যানসার তৈরি হেতে পারে।
কীভারে ছড়ায় হেপাটাইটিস বি?
মা থেকে শিশুর শরীরে সংক্রমণ ছড়ানো এইচবিভি-এর একটি পথ। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত খোলা ক্ষতে লাগা, সংক্রমিত সুচ ব্যবহার করা, সংক্রমিত সরঞ্জাম দিয়ে ট্যাটু বা পিয়ারসিং করার মাধমেও ভাইরাস ছড়াতে পারে।
তাই নিরাপদ চিকিৎসা সরঞ্জাম ব্যবহার, সুচ ব্যবহার না করা এবং প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়ার মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
বিশ্বজুড়ে পরিস্থিতি কতটা গুরুতর?
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ২৪ কোটি মানুষ ক্রমিক হেপাটাইটিস বি নিয়ে বসবাস করছেন। ওই বছর নতুন করে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ নতুন করে সংক্রমিত হন এবং প্রায় ১১ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এসব মৃত্যুর বড় কারণ ছিল সিরোসিস ও প্রাথমিক লিভার ক্যানসার।
তবে কিছু ক্ষেত্রে অগ্রগতিও হয়েছে। ২০২৪ সালে নতুন সংক্রমণের সংখ্যায় ২০২৫ সালের তুলনায় ৩২ শতাংশ কমেছে। পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের সংক্রমণের হারও কমে ০.৮ শতাংশ থেকে ০.৬ শতাংশে নেমেছে।
হেপাটাইটিস বি নিয়ন্ত্রণে ২০৩০ সালের মধ্যে ৯০ শতাংশ নবজাতককে জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। বর্তমানে সময়সীমার মধ্যে টিকা পাচ্ছে ৪৫ শতাংশ শিশু।
ক্রমিক এইচবিভি আক্রান্তদের ৯০ শতাংশকে শনাক্ত করার লক্ষ্যে বিপরীতে বর্তমানে রোগ নির্ণয় হচ্ছে প্রায় ২৭ শতাংশের। এমনকি চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে এমন রোগীদের মধ্যে অ্যান্টিভাইরাল থেরাপি পাচ্ছেন মাত্র চার দশমিক তিন শতাংশ।
কীভাবে ঝুঁকি কমানো যায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস বি নিয়ন্ত্রণে একটি পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করলে হবে না। শিশুর জন্মের পর দ্রুত টিকা দেওয়া, নির্ধারিক সব ডোজ সম্পন্ন করা, গর্ভবতী মায়েদের স্ক্রিনিং ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের পরীক্ষা এবং আক্রান্তদের সময় মতো চিকিৎসা আওতায় আনা জরুরি।
পাশাপাশি ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ ও স্থূলতার মতো বিষয়গুলোও লিভারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। তাই লিভার সুস্থ রাখতে এসব ঝুঁকি কমানো এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
