Logo
Logo
×

Advertisement

লাইফ স্টাইল

কোমল পানীয় বাড়াতে পারে বিষণ্নতার ঝুঁকি, বলছে গবেষণা

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম

কোমল পানীয় বাড়াতে পারে বিষণ্নতার ঝুঁকি, বলছে গবেষণা

ছবি- সংগৃহীত

Advertisement

কফি, কোমল পানীয় কিংবা কৃত্রিম মিষ্টিযুক্ত পানীয়—এসব পানীয়ের ধরন ও পরিমাণ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি কফি পানকারীদের মধ্যে বিষণ্নতার উপসর্গ তুলনামূলক কম দেখা যায়। অন্যদিকে মিষ্টিযুক্ত ও কৃত্রিম মিষ্টিযুক্ত পানীয়ের সঙ্গে বিষণ্নতার ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

গত আগস্টে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী ডিপ্রেশন এন্ড এংক্সাইটি-এ প্রকাশিত এই পর্যালোচনামূলক গবেষণায় ২২টি দেশের ২০ লাখেরও বেশি মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। মোট ৫৯টি গবেষণার ফলাফল পর্যালোচনা করে গবেষকরা এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বেশি পরিমাণ কফি পান করেন, তাদের মধ্যে বিষণ্নতার উপসর্গ থাকার সম্ভাবনা কফি না পান করা বা খুব কম পান করা ব্যক্তিদের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কম।

তবে গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এর অর্থ এই নয় যে কফি বিষণ্নতা প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করতে পারে। গবেষণাটি কেবল পানীয় গ্রহণ ও মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে একটি সম্পর্ক নির্দেশ করেছে, সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক নয়।

মিষ্টি পানীয় কেন মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে?

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত চিনি-যুক্ত ও কৃত্রিম মিষ্টিযুক্ত পানীয় গ্রহণের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা এবং বিষণ্নতার উপসর্গ বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে।

পুষ্টিবিদ জেনিফার প্যালিয়ানের মতে, অতিরিক্ত চিনি শরীরে প্রদাহ বাড়াতে পারে, যা উদ্বেগ ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণকারী মস্তিষ্কের অংশগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ছাড়া বেশি চিনি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রায় ওঠানামা সৃষ্টি করে এবং ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে। এর ফলে মস্তিষ্কে ব্রেইন-ডেরাইভড নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর (বিডিএনএফ) নামে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রোটিনের মাত্রা ও স্নায়ুকোষগুলোর পারস্পরিক যোগাযোগ ব্যাহত হতে পারে।

বিডিএনএফ মস্তিষ্কের কোষের বৃদ্ধি ও রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মাত্রা কমে গেলে বিষণ্নতার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে মনে করা হয়।

মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ চিনির পরিমাণ কত?

বর্তমানে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য নির্দিষ্ট কোনো ‘নিরাপদ’ চিনির সীমা নির্ধারণ করতে পারেননি বিশেষজ্ঞরা। কারণ অধিকাংশ গবেষণাই পর্যবেক্ষণভিত্তিক, ফলে চিনি মানসিক সমস্যার কারণ নাকি মানসিক চাপে থাকা মানুষ বেশি মিষ্টি খাবার ও পানীয় গ্রহণ করেন—তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।

তবে একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন কোমল পানীয় থেকে ২৫ গ্রামের বেশি চিনি গ্রহণ করেন, তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও বিষণ্নতার উপসর্গ বেশি দেখা যায়। যদিও এর নিচের মাত্রা সম্পূর্ণ নিরাপদ—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

কফি ও বিষণ্নতার সম্পর্ক কী?

আগের বেশ কয়েকটি গবেষণাতেও কফি পান ও বিষণ্নতার ঝুঁকি কম থাকার মধ্যে সম্পর্ক পাওয়া গেছে। একটি গবেষণায় দেখা যায়, যারা প্রতিদিন চার কাপ কফি পান করেন, তাদের মধ্যে বিষণ্নতার ঝুঁকি প্রায় ২০ শতাংশ কম ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কফির ক্যাফেইন মস্তিষ্কে সতর্কতা, মনোযোগ ও শক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত রাসায়নিক প্রক্রিয়াগুলোকে প্রভাবিত করে। এটি ঘুমঘুম ভাব সৃষ্টি করা অ্যাডেনোসিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয় এবং ডোপামিন ও সেরোটোনিনের মতো রাসায়নিক পদার্থের ওপরও প্রভাব ফেলে।

এ ছাড়া কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য জৈব সক্রিয় উপাদান শরীর ও মস্তিষ্কের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

সব ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় কি সমান উপকারী?

গবেষকদের মতে, বিষয়টি এমন নয়। কিছু গবেষণায় চা পান ও বিষণ্নতার ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেলেও অন্য কিছু গবেষণায় স্পষ্ট কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে এনার্জি ড্রিংকসের সঙ্গে বিষণ্নতার উপসর্গ বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এর কারণ হতে পারে বিভিন্ন পানীয়তে ক্যাফেইন, চিনি, কৃত্রিম মিষ্টি ও অন্যান্য উপাদানের পরিমাণ ভিন্ন হওয়া।

ক্যাফেইনের পরিমাণও গুরুত্বপূর্ণ

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন ৪৫০ থেকে ৬০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন গ্রহণকারীদের মধ্যে বিষণ্নতার ঝুঁকি তুলনামূলক কম হতে পারে। তবে এর চেয়ে বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ করলে সেই সম্ভাব্য সুবিধা আর বজায় থাকে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিমিত ক্যাফেইন মনোযোগ, সতর্কতা ও কর্মশক্তি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু অতিরিক্ত ক্যাফেইন উদ্বেগ ও মানসিক চাপ বাড়াতে পারে।   

‘সুগার-ফ্রি’ পানীয় কি ভালো বিকল্প?

গবেষণার ফল বলছে, চিনির পরিবর্তে কৃত্রিম মিষ্টি ব্যবহার করলেই কোনো পানীয় মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো হয়ে যায় না। পর্যালোচনায় কৃত্রিম মিষ্টিযুক্ত পানীয়, কোমল পানীয়, বাবল টি এবং এনার্জি ড্রিংকসের সঙ্গেও বিষণ্নতার ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।

পরিমিতি বজায় রাখার পরামর্শ

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, মানসিক স্বাস্থ্য শুধু খাদ্য বা পানীয়ের ওপর নির্ভর করে না। জিনগত বৈশিষ্ট্য, ঘুম, শারীরিক কার্যক্রম, খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাপন এবং সামাজিক-পরিবেশগত নানা বিষয়ও এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তাই কোনো একক পানীয়কে বিষণ্নতার একমাত্র কারণ বা সমাধান হিসেবে দেখা উচিত নয়। বর্তমান গবেষণা শুধু ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কম চিনি বা চিনি ছাড়া কফি পান বিষণ্নতার উপসর্গ কম থাকার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, আর অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় তুলনামূলক কম অনুকূল মানসিক স্বাস্থ্য ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

চুল পড়া কি রোগের সংকেত?

চুল পড়া কি রোগের সংকেত?

লিফট ব্যবহারে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি

লিফট ব্যবহারে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি

প্রতিদিন আদা খেলে শরীরে কী ঘটে? জানুন উপকার ও ক্ষতির দিক

প্রতিদিন আদা খেলে শরীরে কী ঘটে? জানুন উপকার ও ক্ষতির দিক

কেউ গোপনে আপনাকে পছন্দ করছে? বুঝবেন যে ৬ আচরণে

কেউ গোপনে আপনাকে পছন্দ করছে? বুঝবেন যে ৬ আচরণে

থাইরয়েড ক্যানসার কেন হয়, কারা বেশি ঝুঁকিতে? জানুন লক্ষণ ও চিকিৎসা

থাইরয়েড ক্যানসার কেন হয়, কারা বেশি ঝুঁকিতে? জানুন লক্ষণ ও চিকিৎসা

যেসব ছোট লক্ষণ হতে পারে স্ট্রোকের বড় সতর্কবার্তা

যেসব ছোট লক্ষণ হতে পারে স্ট্রোকের বড় সতর্কবার্তা

আরও পড়ুন

নারীদের কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে, যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন

নারীদের কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে, যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন

ডেঙ্গু হলে কোন খাবার খাবেন, কোনগুলো এড়িয়ে চলবেন

ডেঙ্গু হলে কোন খাবার খাবেন, কোনগুলো এড়িয়ে চলবেন

চুল পড়া কি রোগের সংকেত?

চুল পড়া কি রোগের সংকেত?

কয়টি জেলা ঘুরেছেন? ফেসবুকে ম্যাপ শেয়ারের ট্রেন্ডের নেপথ্যে কী

কয়টি জেলা ঘুরেছেন? ফেসবুকে ম্যাপ শেয়ারের ট্রেন্ডের নেপথ্যে কী

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম