ঝাল খেলেই নাক দিয়ে পানি পড়ে কেন? কী রহস্য লুকিয়ে আছে
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঝাল খাবার দেখলেই অনেকের খেতে ইচ্ছে করে। কিন্তু প্লেটে থাকা ঝাল খাবার মুখে দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই শুরু হয় অন্যরকম কাণ্ড—চোখে পানি, নাক দিয়ে তরল পড়া, কপালে ঘাম, মুখে জ্বালাপোড়া।
মজার বিষয় হলো, ঝাল খাবার তো আমরা নাক দিয়ে খাই না। তাহলে নাক দিয়ে পানি আসে কেন? এর উত্তর লুকিয়ে আছে মরিচের ক্যাপসাইসিন নামের একটি রাসায়নিক উপাদানের মধ্যে।
মরিচের ঝাল আসলে কী?
মরিচের ঝাল তৈরির প্রধান কারণ ক্যাপসাইসিন। এটি আমাদের মুখের এমন কিছু স্নায়ুকে সক্রিয় করে, যেগুলো সাধারণত তাপ ও ব্যথার অনুভূতি শনাক্ত করে।
তাই ঝাল খাওয়ার সময় মস্তিষ্ক অনেকটা এমন সংকেত পায়, যেন মুখে অতিরিক্ত গরম বা জ্বালাপোড়া হচ্ছে। অর্থাৎ, ঝালকে মিষ্টি, টক বা নোনতার মতো সাধারণ স্বাদ হিসেবে শরীর অনুভব করে না; বরং এটি অনেকটা জ্বালা বা উত্তাপের অনুভূতি তৈরি করে।
নাক দিয়ে পানি আসে কেন?
মুখে ক্যাপসাইসিনের কারণে তৈরি হওয়া তীব্র অনুভূতি শুধু মুখের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। মুখ ও নাকের আশপাশের স্নায়ুগুলোও এর প্রভাবে উত্তেজিত হতে পারে।
এরপর শরীর নিজেকে রক্ষা করার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নাকের ভেতরের গ্রন্থিগুলোকে বেশি তরল নিঃসরণ করতে উদ্দীপিত করতে পারে। সেই অতিরিক্ত তরলই নাক দিয়ে পানি হিসেবে বেরিয়ে আসে।
চোখ দিয়ে পানি পড়ে কেন?
ঝাল খাবারের পর অনেকের চোখেও পানি আসে। এর পেছনেও রয়েছে একই ধরনের স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া। মুখ ও নাকের আশপাশের স্নায়ু উত্তেজিত হলে চোখের পানির গ্রন্থিও সক্রিয় হতে পারে। ফলে ঝাল খাওয়ার পর চোখ দিয়ে পানি পড়া, নাক দিয়ে পানি আসা বা হাঁচি হওয়া অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়।
ঝাল খেলে ঘাম হয় কেন?
ঝাল খাবার খাওয়ার পর কপাল, নাকের চারপাশ কিংবা শরীরের অন্য অংশে ঘাম দেখা যায় অনেকেরই। ক্যাপসাইসিন শরীরে গরমের মতো অনুভূতি তৈরি করতে পারে। শরীর তখন সেই উত্তাপ কমানোর জন্য নিজের স্বাভাবিক শীতলীকরণ প্রক্রিয়া সক্রিয় করে। এর অংশ হিসেবেই ঘাম হতে পারে।
সবার ঝাল খাওয়ার অভিজ্ঞতা এক নয়
একই ঝাল খাবার খেয়েও সবার প্রতিক্রিয়া সমান হয় না। কারও নাক দিয়ে বেশি পানি পড়ে, কারও চোখে পানি আসে, আবার কেউ শুধু মুখে তীব্র জ্বালাপোড়া বা ঘাম অনুভব করেন।
ঝালের প্রতি শরীরের সংবেদনশীলতা এবং নিয়মিত ঝাল খাওয়ার অভ্যাসও এতে ভূমিকা রাখতে পারে। যারা নিয়মিত ঝাল খান, তাদের কাছে একই মাত্রার ঝাল তুলনামূলকভাবে কম তীব্র মনে হতে পারে।
পানি খেলেই কি আরাম পাওয়া যায়?
ঝাল লাগার পর অনেকেই দ্রুত পানি পান করেন। কিন্তু ক্যাপসাইসিন পানিতে ভালোভাবে দ্রবীভূত হয় না। ফলে শুধু পানি পান করলে মুখের জ্বালাভাব সবসময় দ্রুত কমে না।
দুধ বা কিছু দুধজাতীয় খাবার অনেকের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি স্বস্তি দিতে পারে। কারণ, দুধের কিছু উপাদান মুখে থাকা ক্যাপসাইসিনের প্রভাব কমাতে সহায়তা করতে পারে।
তবে অতিরিক্ত ঝাল খাওয়ার পর যদি তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, শ্বাসকষ্ট বা গুরুতর কোনো উপসর্গ দেখা দেয়, সেটিকে সাধারণ ঝালের প্রতিক্রিয়া ধরে না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

-6ac5c629d9376.jpg)