মধু উপকারী ভেবে অতিরিক্ত খাচ্ছেন না-তো? বাড়তে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হাজার হাজার বছর ধরে মানুষ মধু ব্যবহার করে আসছে। প্রাচীন মিশরীয়রা মাটির পাত্রে মৌমাছি পালন করত। বিশ্বের অন্যান্য স্থানেও ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে মৌচাক তৈরি ও মৌমাছি পালনের চর্চা গড়ে উঠেছিল।
বর্তমানেও যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে মধু বেশ জনপ্রিয়। কিছু মানুষ পরিশোধিত চিনির বিকল্প হিসেবে মধু ব্যবহার করেন। স্বাদের পাশাপাশি মধু স্বাস্থ্যের জন্য আরও কিছু সম্ভাব্য উপকার দিতে পারে; এমটাই উঠে এসেছে সম্প্রতি এক গবেষণায়। অন্ত্রের স্বাস্থ্য, রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কার্যক্রমের ওপর মধুর সম্ভাব্য প্রভাব রয়েছে।
তবে পুষ্টিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, মধু মূলত চিনি ও ক্যালরিরই একটি উৎস। অতিরিক্ত পরিমাণে মধু খেলে ওজন বাড়তে পারে। পাশাপাশি চিনি সম্পর্কিত স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।
মধুও এক ধরনের চিনি
ফুলের মধুরস থেকে মৌমাছি মধু তৈরি করে। তারা সেই মধু প্রক্রিয়াজাত করে মৌচাকে খাদ্য হিসেবে সংরক্ষণ করে। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত মধু সাধারণত নিয়ন্ত্রিত মৌচাক থেকে সংগ্রহ করার পর ছেঁকে বাজারজাত করা হয়।
মধুর প্রধান উপাদান হলো বিভিন্ন ধরনের চিনি, বিশেষ করে ফ্রুক্টোজ ও গ্লুকোজ। হজমের সময় এগুলো দ্রুত শরীরে শোষিত হয়। এক টেবিল চামচ বা প্রায় ২০ গ্রাম মধুতে আনুমানিক ৬১ ক্যালরি এবং প্রায় ১৭ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের পুষ্টিবিশেষজ্ঞ বেথ সেরোনি বলেন, প্রাকৃতিক পণ্য হলেও মধুকে তরল চিনি হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত। অন্যান্য অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের মতোই মধুও পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
মধুতে পলিফেনল ও ফ্ল্যাভোনয়েডসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টও রয়েছে। এসব যৌগ ফ্রি র্যাডিক্যালকে নিষ্ক্রিয় করতে সাহায্য করতে পারে। ফ্রি র্যাডিক্যাল হলো অস্থিতিশীল অণু, যা কোষের ক্ষতি করতে পারে।
অন্ত্রের স্বাস্থ্যে সম্ভাব্য উপকার
গবেষণায় মধু পরিপাকতন্ত্রের ওপর কী ধরনের সম্ভাব্য প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিও পরীক্ষা করা হয়েছে।
মধুতে অলিগোস্যাকারাইড রয়েছে। এগুলো এমন এক ধরনের কার্বোহাইড্রেট, যা মানুষের পরিপাকতন্ত্রের এনজাইম দ্বারা পুরোপুরি ভাঙে না। এ কারণে গবেষকেরা অনুসন্ধান করছেন, মধু স্বাস্থ্যকর অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে পারে কিনা। তবে এর প্রভাব কতটা কার্যকর, তা নিশ্চিতভাবে জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
ওজন নিয়ন্ত্রণের দাবি নিয়ে সতর্ক থাকা দরকার
কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে পরিশোধিত চিনির তুলনায় মধু ক্ষুধা বা পেট ভরা অনুভূতিতে ভিন্ন প্রভাব ফেলতে পারে। তবে চিনি বাদ দিয়ে মধু ব্যবহার করলেই যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওজন কমবে, এমন নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পুষ্টি নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২,০০০ ক্যালরির খাদ্যতালিকা অনুসরণকারী একজন ব্যক্তির দিনে অতিরিক্ত চিনি ৫০ গ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। যুক্তরাজ্যে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রস্তাবিত সর্বোচ্চ সীমা আরও কম।
ক্যানসার নিয়ে গবেষণা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে
বিজ্ঞানীরা মধুতে থাকা বিভিন্ন যৌগের সম্ভাব্য ক্যানসারবিরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়েও গবেষণা করেছেন। বিশেষ করে মধুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী কার্যক্রমের কারণে এ বিষয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
তবে পরীক্ষাগারে এবং প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণায় পাওয়া ফলকে এমন প্রমাণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয় যে মধু খেলে ক্যানসার প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করা যায়।
মধুতে থাকা কোনো যৌগ মানুষের ক্যানসারের ঝুঁকি বা চিকিৎসায় বাস্তব ও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে কিনা, তা নির্ধারণের জন্য আরও ক্লিনিক্যাল গবেষণা প্রয়োজন।
সূত্র: সামা টিভি

