পাকস্থলীর ক্যানসারের ৮ লক্ষণ, অবহেলা করলেই বিপদ
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
পাকস্থলীর ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় স্পষ্ট কোনো লক্ষণ প্রকাশ করে না।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পাকস্থলীর ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় স্পষ্ট কোনো লক্ষণ প্রকাশ করে না। ফলে এ রোগের প্রাথমিক উপসর্গগুলোকে সাধারণ হজমের সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যেতে পারেন অনেকে। তবে দীর্ঘদিনের বদহজম, বুকজ্বালা, ক্ষুধামন্দা কিংবা অল্প খাবার খেয়েই পেট ভরে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলো অবহেলা করা উচিত নয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকস্থলীর ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেক সময় সাধারণ পেটের সমস্যার সঙ্গে মিলে যায়। এ কারণে উপসর্গগুলো দীর্ঘস্থায়ী হলে কিংবা ক্রমেই বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
পাকস্থলীর ক্যানসারের সম্ভাব্য ৮ লক্ষণ
পাকস্থলীর ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে এমন আটটি লক্ষণ হলো—
১. দীর্ঘস্থায়ী বদহজম: বারবার বদহজম হওয়া কিংবা দীর্ঘদিন ধরে হজমের সমস্যা চলতে থাকা এবং সাধারণ চিকিৎসায়ও উপশম না হওয়া।
২. একটানা বুকজ্বালা: নিয়মিত ওষুধ সেবনের পরও বুকজ্বালা না কমা বা বারবার এ সমস্যা ফিরে আসা।
৩. হালকা বমি বমি ভাব: স্পষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই দীর্ঘদিন বমি বমি ভাব অনুভব করা।
৪. ক্ষুধামন্দা: খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া কিংবা স্বাভাবিকের তুলনায় কম খাওয়া।
৫. অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়া: সামান্য খাবার খাওয়ার পরই পেট ভরা অনুভব করা, ফলে স্বাভাবিক পরিমাণ খাবার খেতে না পারা।
৬. খাওয়ার পর পেট ফাঁপা: খাবার খাওয়ার পর প্রায়ই পেট ফুলে থাকা বা অস্বস্তি অনুভব করা।
৭. পেটের ওপরের অংশে অস্বস্তি: পেটের ওপরের দিকে দীর্ঘস্থায়ী বা অকারণ ব্যথা কিংবা অস্বস্তি অনুভব করা।
৮. অকারণে ওজন কমে যাওয়া: খাদ্যাভ্যাস বা শারীরিক পরিশ্রমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না এলেও শরীরের ওজন কমতে থাকা।
রোগ বাড়লে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে
পাকস্থলীর ক্যানসার অগ্রসর হলে উপসর্গ আরও তীব্র হতে পারে। এ সময় পেটে একটানা ব্যথা, বমি, রক্তস্বল্পতার কারণে অস্বাভাবিক ক্লান্তি এবং খাবার গিলতে অসুবিধা দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া বমির সঙ্গে রক্ত বের হওয়া, পেটে তরল জমে পেট ফুলে যাওয়া এবং ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে রোগ শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়লে এ ধরনের উপসর্গ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
বদহজম, বুকজ্বালা, বমি বমি ভাব কিংবা পেট ফাঁপার মতো উপসর্গের পেছনে ক্যানসার ছাড়াও বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই এসব লক্ষণ দেখা দিলেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে কয়েক সপ্তাহ ধরে উপসর্গ স্থায়ী হলে, ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে কিংবা দৈনন্দিন জীবনযাপনে বাধা সৃষ্টি করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
বিশেষ করে অকারণে ওজন কমে যাওয়া, অল্প খাবারেই পেট ভরে যাওয়া, খাবার গিলতে অসুবিধা এবং দীর্ঘস্থায়ী পেটের অস্বস্তিকে অবহেলা করা ঠিক নয়। আর বমির সঙ্গে রক্ত বের হলে বা গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
খাদ্যাভ্যাস, ক্ষুধা, ওজন ও হজমের স্বাভাবিক অবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখা দিলে সেদিকে নজর রাখা জরুরি। সময়মতো চিকিৎসকের কাছে গেলে উপসর্গের প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা সম্ভব।
এসব লক্ষণ থাকলেই পাকস্থলীর ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। সঠিক কারণ জানতে চিকিৎসকের মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা জরুরি।

