কাঁধের ব্যথা মানেই ফ্রোজেন শোল্ডার নয়, পার্থক্য চিনে রাখুন
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কাঁধে ব্যথা, হাত তুলতে পারছেন না— এমন উপসর্গ দেখলেই অনেকে ভাবেন, হয়তো ফ্রোজেন শোল্ডারে আক্রান্ত। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, এটাই সবচেয়ে বড় ভুল। প্রকৃতপক্ষে ফ্রোজেন শোল্ডার, যার পোশাকি নাম অ্যাডহেসিভ ক্যাপসুলাইটিস, সাধারণ মানুষের মধ্যে মাত্র ২ থেকে ৫ শতাংশের হয়। অথচ কাঁধের ব্যথা তার থেকে অনেক বেশি মানুষের হয়। অর্থাৎ, যারা নিজেদের গায়ে ফ্রোজেন শোল্ডারে আক্রান্ত রোগীর তকমা দিচ্ছেন, তাদের অনেকেরই হয়তো অন্য কোনও সমস্যা রয়েছে।
ফ্রোজেন শোল্ডার আর ঘাড়ে অন্য কারণে জড়তা আসার উপসর্গগুলির পার্থক্য বোঝা জরুরি। কারণ দুটো রোগের চিকিৎসা একেবারে উল্টো। ফ্রোজেন শোল্ডার সারাতে দরকার ধৈর্য আর হালকা, নিয়ন্ত্রিত ব্যয়াম। কিন্তু রোটেটর কাফে সমস্যা থাকলে সেই একই স্ট্রেচিংয়ে ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।
১ মিনিটের চেক-আপ, স্ক্যান ছাড়াই
এ ক্ষেত্রে কোনও স্ক্যান ছাড়াই তফাত বোঝা সম্ভব। চিকিৎসকেরা দুটো জিনিস মেলান। এক, অ্যাক্টিভ মুভমেন্ট আর দুই, প্যাসিভ মুভমেন্ট। অ্যাক্টিভ মানে রোগী নিজে হাত তুলছেন। আর প্যাসিভ মানে রোগী তার হাত একেবারে আলগা করে রেখেছেন, চিকিৎসক রোগীর হাত তুলে দিচ্ছেন। ফ্রোজেন শোল্ডারে দুটো করতেই সমস্যা হবে।
বিশেষ করে হাত বাইরের দিকে ঘোরানো আর সামনের দিকে তোলার সময় প্রচণ্ড যন্ত্রণা হবে। চিকিৎসক বলছেন, যদি রোগীর শুধু ভিতরের দিকে হাত ঘোরাতে সমস্যা হয়, কিন্তু বাইরের দিকে তিনি স্বাভাবিক ভাবেই হাত ঘোরাতে পারেন, তবে তা অন্য রোগের ইঙ্গিত। আবার বাইরের দিকে ঘোরানোর একেবারে শেষের দিকে যন্ত্রণা হলে, সেটা ফ্রোজ়েন শোল্ডার শুরুর লক্ষণ হতে পারে। কয়েক সপ্তাহ পর আবার যাচাই করে দেখা যেতে পারে।
কাঁধের স্থায়ী ব্যথার অন্য কারণগুলো কী?
রোটেটর কাফের সমস্যা: নিজে হাত তুলতে বেশি কষ্ট, চিকিৎসক তুলে দিলে কম।
শোল্ডার জয়েন্টে আর্থ্রাইটিস: দুই রকম মুভমেন্টই কমে যাবে, সাধারণ এক্সরেতেই ধরা পড়ে।
ক্যালসিফিক টেন্ডিনাইটিস: হঠাৎ তীব্র ব্যথা, কোনও চোট ছাড়াই।
ঘাড়ের নার্ভের সমস্যা: শিরশিরে ব্যথা, ঝিঁঝি ধরা, ঘাড় নাড়ালে যন্ত্রণার হ্রাস-বৃদ্ধি।
ল্যাব্রাল ইনজুরি: ক্লিক শব্দ, কাঁধ সরে যাচ্ছে বলে মনে হওয়া।
এসি জয়েন্টের ব্যথা: কাঁধের উপরে ব্যথা, বুকের আড়াআড়ি হাত নিলে বাড়া।
প্রদাহ: জ্বর, লাল হয়ে যাওয়া, ফুলে যাওয়া বা সকালে দুই কাঁধেই দীর্ঘক্ষণ শক্ত ভাব।
