‘কফি এনেমা’ নিয়ে যা বললেন জাহাঙ্গীর কবির
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কফি এনেমা নিয়ে চিকিৎসক সমাজের তীব্র সমালোচনার মধ্যে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন লাইফস্টাইল মডিফায়ার হিসেবে পরিচিত ডা. জাহাঙ্গীর কবির। একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এটি চিকিৎসা নয়, ডিটক্সিফিকেশনের সহায়ক উপায়।
ধারণা কোথা থেকে পেয়েছেন, জানতে চাইলে তিনি জাপানি সার্জনের বইয়ের কথা বলেন। তাঁর ভাষ্য, ‘এটা হচ্ছে একজন জাপানি বিজ্ঞানী হিরোমি সিনিয়া, তার বইতে এই কফি এনেমার উল্লেখ আছে এবং উনি আরো মোট তিনজন বিজ্ঞানীর উল্লেখ করেছেন যারা ইতোপূর্বে যেমন ১৯২০ সাল থেকে এটা মানে পরীক্ষামূলকভাবে তারা করেছেন।’
কেন এটি প্রয়োজন, তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি কোষ্ঠকাঠিন্য ও গ্যাসের সমস্যার প্রসঙ্গ তোলেন। বলেন, ‘এই যে প্রবলেমগুলো এটার কারণগুলো কি যে আমার পেটের ভিতরে এমন কিছু টক্সিন জমা থাকছে যেগুলো আসলে নরমাল ভাবে বের হচ্ছে না। এজন্য উনি গবেষণা করে দেখেছেন যে বেশ কিছু টক্সিনের নামও উনি উল্লেখ করেছেন যে এগুলো বের করতে হলে কফি এনেমা যদি করা হয় তাহলে সেক্ষেত্রে এটা বের হয়।’
কীভাবে কাজ করে, সে ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘উনি বললেন যে সিগমা রেক্টাম এখান থেকে যে সার্কুলেশনটা এই সার্কুলেশনটা পোর্টাল ভেইনে চলে যাচ্ছে অর্থাৎ কফির কিছু পোরশন সেটা ডাইরেক্ট লিভারে গিয়ে লিভারের যে বাইল ডাক্ট আছে... ওই ডাইলেটেশন করতেছে করে এই লিভারকে ডিটক্স করতে সে হেল্প করছে।’
বৈজ্ঞানিক প্রমাণ প্রসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, ভিত্তি মূলত কেস স্টাডি। নিজেদের প্রকাশনা নিয়ে বলেন, ‘আমাদেরও ইচ্ছা আছে যে এগুলো নিয়ে একটা আমরা সিরিজ কেস স্টাডি আমরা সামনে পাবলিকেশন করব সেই মর্মে তাদের যে ডাটাগুলো আমরা কালেক্ট করার চেষ্টা করছি।’
উপস্থাপক মনে করিয়ে দেন, এফডিএ বা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর অনুমোদন দেয়নি। সতর্কতা প্রসঙ্গে জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘তার কোন এনাল প্রবলেম আছে কিনা অর্থাৎ তার হেমোরয়েডস আছে কিনা বা ব্লিডিং এর কোন হিস্ট্রি আছে কিনা।’ কফির তাপমাত্রা নিয়ে বলেন, ‘আপনি গরম যদি দেন তাহলে তো পুড়ে যাবে।’ একই সঙ্গে শর্ত দেন, ‘অর্গানিক কফিবিন হতে হবে, সার্টিফাইড অর্গানিক।’
ইলেকট্রোলাইট প্রসঙ্গে তাঁর ভাষ্য, ‘আপনি যদি অনেক বেশি করেন তো ইলেক্ট্রোলাইট ইমব্যালেন্স হতে পারে। এজন্য আপনাকে যেমন ডাবের পানি খাওয়া বা একটু ডিটক্স ওয়াটার খাওয়া, পিঙ্ক সল্ট বা বোন ব্রোথ খাওয়া বা গ্রিন জুস খাওয়া, এগুলো হচ্ছে আমাদের সতর্কতা এবং আমরা তাদের ইলেক্ট্রোলাইটগুলো চেকে রাখি।’
তবে কফি এনেমা নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে অনেক। এই প্রসঙ্গে তিনি তুলনা টানেন কলোনোস্কপির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘যিনি কলোনোস্কপি করছে তাকে কি বলবেন তার তো একটা বড় নল পিছন দিয়ে ঢুকানো হচ্ছে।’ লিভার নিজেই পরিষ্কার হয় কি না, এমন প্রশ্নে বলেন, ‘তারও গোসলের দরকার আছে, তারও ডিটক্সিফাই হওয়ার দরকার আছে।’ ঝুঁকির প্রশ্নে তাঁর উত্তর, ‘ছুরি দিয়ে মানুষ খুন হচ্ছে, ছুরি দিয়ে মানুষের জীবন বাঁচানো হচ্ছে, আসলে প্রতিটি জিনিসেরই ভালো খারাপ দিক আছে।’
এটি রোগীরা নিজে নিজেই করেন বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘সে নিজে নিজে করতেছে, প্রথমে ২৫০ এমএল দিচ্ছে, ৫০০ এমএল দিচ্ছে, নিজের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বুঝে বুঝে।’
আইনি প্রশ্নে বলেন, ‘কেউ যদি নিজে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু করে এখানে পৃথিবীর কোন আইন নাই, দলিল নাই।’ তার দাবি, এতে অনেক মানুষ উপকার পাচ্ছে। সে কারণেই এই পদ্ধতি চালু আছে। তার ভাষ্যমতে, ‘উপকার না পেলে কেউ দিত না।’
