হঠাৎ বাইকের মাইলেজ কমে যাচ্ছে? জানুন সম্ভাব্য কারণ
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জ্বালানির বাড়তি দামের কারণে মোটরসাইকেলের ভালো মাইলেজ পাওয়া এখন চালকদের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেক সময় বাইকে বড় ধরনের কোনো সমস্যা না থাকলেও আগের তুলনায় পেট্রলের খরচ বেড়ে যায়। অনিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, ভুলভাবে বাইক চালানো কিংবা যন্ত্রাংশের ত্রুটির কারণে এমনটা হতে পারে।
বাইকের মাইলেজ কমে যাওয়ার পেছনে কী কী কারণ রয়েছে, তা জানা থাকলে অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি খরচ কমানোর পাশাপাশি মোটরসাইকেলের কর্মক্ষমতাও ধরে রাখা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক-
ভুল পদ্ধতিতে বাইক চালানো
হঠাৎ অ্যাক্সিলারেটর বাড়ানো, ঘন ঘন ব্রেক করা এবং অপ্রয়োজনে ইঞ্জিনের গতি বাড়ানোর ফলে জ্বালানি বেশি খরচ হতে পারে। দীর্ঘ সময় ক্লাচ চেপে রেখেও বাইক চালানো ভালো অভ্যাস নয়। এসবের পরিবর্তে মসৃণভাবে বাইক চালানো, পরিস্থিতি অনুযায়ী গিয়ার পরিবর্তন করা এবং অপ্রয়োজনীয় গতি বাড়ানো-কমানো থেকে বিরত থাকা উচিত। এতে জ্বালানি সাশ্রয় হতে পারে।
নিম্নমানের বা দূষিত পেট্রল ব্যবহার
জ্বালানির গুণগত মান মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে। নিম্নমানের বা দূষিত পেট্রল ব্যবহারের কারণে ইঞ্জিনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর ফলে বাইকের পারফরম্যান্স কমে যেতে পারে এবং জ্বালানি খরচও বাড়তে পারে। তাই বিশ্বস্ত পেট্রল পাম্প থেকে জ্বালানি নেওয়া এবং প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক মানের পেট্রল ব্যবহার করা জরুরি।
নির্ধারিত সময়ে ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন না করা
ইঞ্জিনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের মধ্যে ঘর্ষণ কমাতে ইঞ্জিন অয়েল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘদিন একই অয়েল ব্যবহার করলে এর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। এতে ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি খরচেও প্রভাব পড়তে পারে। তাই বাইকের ম্যানুয়ালে উল্লেখ করা সময় বা দূরত্ব অনুযায়ী ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করতে হবে। পাশাপাশি অয়েলের পরিমাণও নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
এয়ার ফিল্টারে ধুলাবালি জমা
ইঞ্জিনে প্রয়োজনীয় বাতাস প্রবেশের পথ পরিষ্কার রাখতে এয়ার ফিল্টার গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন এটি পরিষ্কার না করলে ধুলাবালি জমে বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এতে ইঞ্জিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে জ্বালানি খরচ বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ধুলাবালিপূর্ণ রাস্তায় চলাচল করলে এয়ার ফিল্টার নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী এটি পরিষ্কার বা পরিবর্তন করতে হবে।
টায়ারে প্রয়োজনীয় বাতাস না থাকা
মোটরসাইকেলের টায়ারে বাতাসের চাপ কম থাকলে রাস্তার সঙ্গে টায়ারের প্রতিরোধ বেড়ে যায়। ফলে বাইক চালাতে বেশি শক্তির প্রয়োজন হতে পারে এবং জ্বালানি খরচও বাড়তে পারে। শুধু তা-ই নয়, টায়ারের চাপ ঠিক না থাকলে বাইকের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হতে পারে।
এ কারণে নিয়মিত টায়ারের বাতাস পরীক্ষা করা জরুরি। বাইকের প্রস্তুতকারক নির্ধারিত চাপ বজায় রাখুন। সম্ভব হলে প্রতি দুই সপ্তাহে একবার এবং দীর্ঘ যাত্রায় বের হওয়ার আগে টায়ারের চাপ পরীক্ষা করে নিন।
নিয়মিত সার্ভিসিং না করানো
দীর্ঘদিন মোটরসাইকেল সার্ভিসিং না করালে ছোটখাটো যান্ত্রিক ত্রুটি বড় সমস্যায় পরিণত হতে পারে। স্পার্ক প্লাগের সমস্যা, ব্রেক আটকে থাকা, চেইনের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাব কিংবা ইঞ্জিনের ত্রুটি বাইকের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। এসব সমস্যার কারণে জ্বালানি খরচও বেড়ে যেতে পারে। তাই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সার্ভিসিং করানো এবং মাইলেজ হঠাৎ কমে গেলে যান্ত্রিক ত্রুটি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
অতিরিক্ত গতি ও ভুল গিয়ারে চলাচল
অতিরিক্ত গতিতে বাইক চালালে বাতাসের বাধা বাড়ে, যার ফলে ইঞ্জিনকে বেশি শক্তি ব্যয় করতে হয়। আবার বাইকের গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখে গিয়ার ব্যবহার করলেও ইঞ্জিনের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতে পারে। এতে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই রাস্তার অবস্থা, ট্রাফিক এবং বাইকের ইঞ্জিনের ক্ষমতা বিবেচনা করে নিরাপদ গতিতে চলতে হবে। পাশাপাশি ইঞ্জিনের গতি অনুযায়ী সঠিক সময়ে গিয়ার পরিবর্তন করা উচিত।
দীর্ঘ সময় সরাসরি রোদে বাইক রাখা
দীর্ঘক্ষণ রোদে পার্ক করে রাখলে মোটরসাইকেলের জ্বালানি ট্যাঙ্কসহ বিভিন্ন অংশের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তবে শুধু রোদে রাখার কারণেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেট্রল নষ্ট হয়ে মাইলেজ কমে যায়, এমনটি সব বাইকের ক্ষেত্রে বলা যায় না। আধুনিক মোটরসাইকেলে জ্বালানির বাষ্পীভবন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও থাকে।
তারপরও সম্ভব হলে ছায়াযুক্ত স্থানে বাইক পার্ক করা ভালো। বাইক থেকে পেট্রোলের গন্ধ পাওয়া গেলে, জ্বালানি লিক হলে কিংবা অস্বাভাবিকভাবে পেট্রল কমে গেলে দ্রুত মেকানিকের সাহায্য নেওয়া উচিত।
বাইকের মাইলেজ ভালো রাখতে করণীয়
মোটরসাইকেলের জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি চালানোর অভ্যাসেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মেনে চলতে পারেন—
- নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করুন।
- এয়ার ফিল্টার পরিষ্কার রাখুন এবং প্রয়োজন হলে বদলে নিন।
- টায়ারে প্রস্তুতকারকের নির্দেশিত চাপ বজায় রাখুন।
- হঠাৎ গতি বাড়ানো ও ঘন ঘন ব্রেক করা এড়িয়ে চলুন।
- বাইকের নিয়মিত সার্ভিসিং করান।
- দীর্ঘ সময় অপ্রয়োজনে ইঞ্জিন চালু রাখবেন না।
সবকিছু ঠিক রাখার পরও যদি বাইকের মাইলেজ হঠাৎ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। জ্বালানি লিক, ব্রেকের ত্রুটি, স্পার্ক প্লাগের সমস্যা কিংবা ইঞ্জিনের অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি এর পেছনে থাকতে পারে। তাই দ্রুত দক্ষ মেকানিক দিয়ে বাইক পরীক্ষা করালে সমস্যার কারণ শনাক্ত করা এবং বাড়তি জ্বালানি খরচ কমানো সহজ হবে।
