Logo
Logo
×

Advertisement

লাইফ স্টাইল

কিশমিশের ৭টি স্বাস্থ্য উপকারিতা জানুন

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম

কিশমিশের ৭টি স্বাস্থ্য উপকারিতা জানুন

সংগৃহীত ছবি

Advertisement

ছোট আকারের মিষ্টি শুকনো ফল কিশমিশে রয়েছে পটাশিয়াম, খাদ্য আঁশ, আয়রন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান। পরিমিত পরিমাণে কিশমিশ খাওয়া এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা হৃদ্‌যন্ত্রের সুস্থতা, হজমশক্তি ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। চিনিযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিবর্তে কিশমিশ বেছে নিলেও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা পাওয়া যায়।

চলুন জেনে নেওয়া যাক কিশমিশের সাতটি সম্ভাব্য স্বাস্থ্য উপকারিতা।

১. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে

কিশমিশে প্রচুর পটাশিয়াম এবং অল্প পরিমাণ সোডিয়াম রয়েছে। পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে। কিছু নিয়ন্ত্রিত গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কিশমিশ খেলে সিস্টোলিক রক্তচাপ সামান্য কমতে পারে।

আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলজিতে উপস্থাপিত একটি গবেষণায় প্রি-হাইপারটেনশনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দিনে তিনবার কিশমিশ খাওয়ার সঙ্গে প্যাকেটজাত স্ন্যাকস খাওয়ার তুলনা করা হয়েছিল। ফলাফলে কিশমিশ খাওয়া ব্যক্তিদের রক্তচাপ তুলনামূলক বেশি কমার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে শুধু কিশমিশের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

২. হৃদ্‌যন্ত্রের স্বাস্থ্য ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে

কিশমিশে থাকা খাদ্য আঁশ ও পলিফেনল হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। কিছু পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সমপরিমাণ ক্যালরিযুক্ত পরিশোধিত স্ন্যাকসের পরিবর্তে কিশমিশ খেলে খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল), রক্তচাপ এবং খাবার খাওয়ার পর ইনসুলিনের প্রতিক্রিয়ায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

এ ছাড়া কিশমিশের খাদ্য আঁশ পেট ভরা রাখতে সহায়তা করে। তবে এতে প্রাকৃতিক শর্করা থাকায় অতিরিক্ত খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাই বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

৩. হজমশক্তি বাড়ায় ও অন্ত্রের সুস্থতায় সহায়তা করে

কিশমিশে থাকা খাদ্য আঁশ মলত্যাগ স্বাভাবিক রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করতে পারে। এতে টারটারিক অ্যাসিডও রয়েছে, যা অন্ত্রের কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে বলে কিছু গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এক কাপ কিশমিশে আনুমানিক ৬ গ্রাম খাদ্য আঁশ থাকতে পারে। পাশাপাশি এতে ম্যাগনেশিয়াম ও ফসফরাসের মতো খনিজও রয়েছে। তবে পরিমাণ ও পুষ্টিমান কিশমিশের ধরন এবং কাপের আকার অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।

৪. মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে

মিষ্টি স্বাদের কারণে কিশমিশ দাঁতের জন্য ক্ষতিকর—এমন ধারণা প্রচলিত থাকলেও বিষয়টি পুরোপুরি সরল নয়। কিশমিশে থাকা ওলিয়ানোলিক অ্যাসিডের মতো উদ্ভিজ্জ উপাদান নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, এগুলো দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্রম দমন করতে পারে।

কিছু মানবদেহভিত্তিক গবেষণায় সাধারণ কিশমিশ খাওয়ার পর মুখের অম্লতার পরিবর্তনও পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। কিশমিশ খাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত দাঁত ব্রাশ ও মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি।

৫. পটাশিয়ামের ভালো উৎস, সোডিয়াম কম

কিশমিশে পটাশিয়াম বেশি এবং সোডিয়াম কম থাকায় এটি সুষম খাদ্যতালিকায় ভালো সংযোজন হতে পারে। পটাশিয়াম শরীরের তরলের ভারসাম্য, পেশির কার্যক্রম এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এক কাপ কিশমিশে আনুমানিক ১ হাজার ২৩৫ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম ও ১৮ মিলিগ্রাম সোডিয়াম থাকতে পারে। তবে কিশমিশে ক্যালরি ও প্রাকৃতিক চিনিও ঘনীভূত অবস্থায় থাকে। তাই একবারে বেশি না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।

৬. আয়রনসহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে

কিশমিশে উদ্ভিজ্জ উৎসের আয়রন রয়েছে, যা শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয়। এতে কপার, ম্যাঙ্গানিজ এবং কিছু বি-ভিটামিনও পাওয়া যায়। এসব পুষ্টি উপাদান লোহিত রক্তকণিকা তৈরি ও শরীরের বিভিন্ন বিপাকীয় কাজে ভূমিকা রাখে।

এক কাপ কিশমিশে আনুমানিক ৩.১ মিলিগ্রাম আয়রন থাকতে পারে। তবে কিশমিশের আয়রন শরীরে শোষিত হওয়ার হার প্রাণিজ উৎসের আয়রনের তুলনায় কম। তাই রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে শুধু কিশমিশের ওপর নির্ভর না করে আয়রনসমৃদ্ধ অন্যান্য খাবারও খেতে হবে। আয়রনের শোষণ বাড়াতে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার সহায়ক হতে পারে।

৭. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের জোগান দেয়

কিশমিশে থাকা পলিফেনলসহ বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদানের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এসব উপাদান শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। কিছু পর্যালোচনায় কিশমিশের মতো শুকনো ফলের পুষ্টি উপাদানের সঙ্গে প্রদাহের সূচক ও রক্তনালির স্বাস্থ্যের সম্ভাব্য ইতিবাচক সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।

তবে কিশমিশ খেলেই দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। নিয়মিত ফলমূল, শাকসবজি, পূর্ণশস্য ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

মনে রাখা দরকার, কিশমিশ পুষ্টিকর হলেও এতে প্রাকৃতিক চিনি ও ক্যালরি তুলনামূলক বেশি। তাই পরিমিত পরিমাণে খাওয়া ভালো। ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা বা বিশেষ খাদ্যনিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন থাকলে নিজের খাদ্যতালিকায় কিশমিশের উপযুক্ত পরিমাণ নির্ধারণে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।

সূত্র: দ্য ইকোনমিক টাইমস

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

চাকরির বাজারে এগিয়ে থাকতে যে ৫ দক্ষতা গড়ে তুলবেন

চাকরির বাজারে এগিয়ে থাকতে যে ৫ দক্ষতা গড়ে তুলবেন

প্রতিদিন একটা করে পেয়ারা খেলে শরীরে কী হয়?

প্রতিদিন একটা করে পেয়ারা খেলে শরীরে কী হয়?

জন্মের প্রথম ৭২ ঘণ্টায় শিশুর থাইরয়েড পরীক্ষা কেন গুরুত্বপূর্ণ

জন্মের প্রথম ৭২ ঘণ্টায় শিশুর থাইরয়েড পরীক্ষা কেন গুরুত্বপূর্ণ

কিশমিশের ৭টি স্বাস্থ্য উপকারিতা জানুন

কিশমিশের ৭টি স্বাস্থ্য উপকারিতা জানুন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম