ডায়েট করে ওজন কমানোর পর যেসব কারণে আবার তা বেড়ে যায়
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দীর্ঘদিন চেষ্টা করে ওজন কমানোর পর তা ধরে রাখা অনেকের জন্যে কঠিন হয়ে পড়ে। খাদ্যাভাস ও ব্যয়ামের রুটিন মেনে চলার পরও কারো কারো ওজন আবার বাড়তে থাকে। এর পেছনে রয়েছে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের পরিবর্তন, বিপাকীয় অভিযোজন, পেশির পরিমাণ কমে যাওয়া এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের নানা বিষয়।
ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওজন কমার পর শরীরের ক্ষুধা, হরমোন ও শক্তির ব্যয়ের ধরনে পরিবর্তন আসে। শরীরে সঞ্চিত শক্তি পুনরুদ্ধারের প্রবণতা ওজন কমিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
ক্ষুধা ও বিপাকক্রিয়ায় পরিবর্তন
শরীরের চর্বি থেকে নিঃসৃত লেপটিন হরমোন মস্তিষ্ককে শরীরে সঞ্চিত শক্তির পরিমাণ সম্পর্কে সংকেত দেয়। ওজন কমার সঙ্গে সঙ্গে চর্বির পরিমাণ কমলে লেপটিনের মাত্রাও কমতে পারে। এতে ক্ষুধা বেড়ে যায় এবং শরীরের শক্তি ব্যয়ের পরিমাণ কমে যেতে পারে।
অন্যদিকে ক্ষুধা বাড়াতে ভূমিকা রাখা ঘ্যেলিন হরমোনের মাত্রা ওজন কমার পরে বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে খাবার খেয়ে পেট ভরে যাওয়ার সংকেতও আগের মতো কার্যকর না-ও হতে পারে। ফলে খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা বাড়ে এবং পরিমিত খাওয়ার অভ্যাস ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
কঠোর ডায়েটে বাড়তে পারে ওজন ফিরে পাওয়ার ঝুঁকি
খুব কম ক্যালরি গ্রহণ, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা কিংবা খাদ্যতালিকা থেকে একাধিক খাদ্যগোষ্ঠী পুরোপুরি বাদ দেওয়ার মতো কঠোর ডায়েট শরীরে ক্লান্তি ও ক্ষুধা বাড়াতে পারে। শক্তির ঘাটতিতে দৈনন্দিন চলাফেরাও কমে যেতে পারে। ফলে শরীরের ক্যালরি খরচ কমে যায়।
ওজন কমানোর সময় পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ ও শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের অভাব হলে চর্বির পাশাপাশি পেশির পরিমাণও কমতে পারে। এতে শারীরিক শক্তি কমে যাওয়ার পাশাপাশি শরীরের শক্তির চাহিদাও হ্রাস পায়।
এ ছাড়া অপর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ, খাবারের সহজলভ্যতা এবং দৈনন্দিন রুটিনের পরিবর্তনও ওজন ফিরে পাওয়ার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। এসব বিষয় শরীরের জৈবিক পরিবর্তনের সঙ্গে মিলিত হয়ে দীর্ঘমেয়াদে ওজন নিয়ন্ত্রণকে জটিল করে তোলে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
ওজন কমানো ও তা ধরে রাখতে এমন খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় এবং ধীরে ধীরে চর্বি কমানো সম্ভব হয়। নিয়মিত শক্তিবর্ধক ব্যায়াম, হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সাঁতারের মতো শরীরচর্চা এবং পর্যাপ্ত প্রোটিন গ্রহণ পেশি ধরে রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি ইনসুলিনের কার্যকারিতা ও বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
ওজন নিয়ন্ত্রণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরির সময় বিএমআইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকিও বিবেচনা করা জরুরি। কারও ক্ষেত্রে জীবনযাপনের পরিবর্তনই যথেষ্ট হতে পারে, আবার কারও প্রয়োজন হতে পারে ওষুধ কিংবা অস্ত্রোপচার। কোন পদ্ধতি উপযুক্ত হবে, তা নির্ধারণ করতে ব্যক্তির সামগ্রিক স্বাস্থ্যাবস্থা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
সূত্র: এনডিটিভি

