৫৩-তে পা দিয়েছেন মালাইকা, ফিটনেস ধরে রাখতে যেসব নিয়ম মানেন অভিনেত্রী
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম
মালাইকা অরোরা। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বলিউড অভিনেত্রী মালাইকা অরোরা শুধু নাচের জন্যই পরিচিত নন। শরীরচর্চা ও সুস্থ জীবনযাপনের জন্যও তার আলাদা পরিচিতি রয়েছে। ২৩ অক্টোবর ২০২৬-এ ৫৩ বছরে পা দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। নিয়মিত যোগব্যায়াম, শক্তিবর্ধক ব্যায়াম, পরিমিত খাবার ও পর্যাপ্ত ঘুম—এসব অভ্যাসের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে নিজের ফিটনেস ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তিনি।
শরীরচর্চার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার ওপরও গুরুত্ব দেন মালাইকা। বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের জীবনযাপনের নানা দিক তুলে ধরেছেন তিনি। তার ফিটনেসের রুটিনে রয়েছে ঘরোয়া খাবার, খাবারের পরিমাণে সচেতনতা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত শরীরচর্চা। তার অভ্যাসগুলো থেকে সুস্থ জীবনযাপনের কয়েকটি দিক সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
যোগব্যায়ামে বিশেষ গুরুত্ব
মালাইকার ফিটনেস রুটিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ যোগব্যায়াম। দীর্ঘদিন ধরেই নিয়মিত যোগচর্চা করেন তিনি। তার অনুশীলনে রয়েছে সূর্য নমস্কার, অষ্টাঙ্গ বিন্যাস যোগ ও ধ্যান।
নিয়মিত যোগব্যায়াম শরীরের নমনীয়তা, ভারসাম্য ও পেশির শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক চাপ কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর সুফল পেতে নিয়মিত অনুশীলনের পাশাপাশি নিজের শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যায়াম বেছে নেওয়া জরুরি।
পেশি শক্তিশালী করতে শক্তিবর্ধক ব্যায়াম
মালাইকার শরীরচর্চা শুধু যোগব্যায়ামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তার বিভিন্ন ওয়ার্কআউট ভিডিওতে ওয়াকিং লাঞ্জেস, ডাম্বেল দিয়ে ব্যায়াম, মাউন্টেন ক্লাইম্বারস ও পেটের পেশির ব্যায়াম করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া পিলেটসও তার শরীরচর্চার অংশ।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশির পরিমাণ কমতে পারে। তাই নিয়মিত শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের পাশাপাশি নমনীয়তা ও ভারসাম্য বাড়ানোর অনুশীলনও গুরুত্বপূর্ণ।
ঘরে তৈরি সাধারণ খাবার
খাবারের ক্ষেত্রে জটিল ডায়েট পরিকল্পনার চেয়ে সাধারণ ঘরোয়া খাবারেই গুরুত্ব দেন মালাইকা। ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের প্রতি তার আগ্রহের কথা বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন তিনি। খাবারের পরিমাণের দিকেও নজর রাখেন। ঘি তার পছন্দের খাবারগুলোর একটি বলেও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
স্বাস্থ্যকর খাবার মানেই দামি উপকরণ বা কঠিন খাদ্যতালিকা নয়। ভাত, রুটি, ডাল, শাকসবজি, দই, ফলমূল ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার দিয়ে সুষম খাদ্যতালিকা তৈরি করা যায়। তবে খাবারের ধরন ও পরিমাণ নির্ভর করা উচিত ব্যক্তির বয়স, শারীরিক পরিশ্রম ও পুষ্টির চাহিদার ওপর।
খাবারের পরিমাণে সচেতনতা
মালাইকা খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেন। বড় প্লেটের পরিবর্তে ছোট বাটি বা কটোরিতে খাবার খাওয়া র অভ্যাসের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
পরিমিত খাবার খাওয়ার অভ্যাসে কতটা খাওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে সচেতন থাকা সহজ হতে পারে। তবে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের অর্থ কম খেয়ে থাকা নয়। শরীরের ক্ষুধা ও পরিতৃপ্তির সংকেত বুঝে প্রয়োজনীয় খাবার খাওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাবার খাওয়া
মালাইকা জানিয়েছেন, সাধারণত দুপুরের দিকে তার প্রথম পূর্ণাঙ্গ খাবার খাওয়া হয় এবং সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে খাওয়া শেষ করার চেষ্টা করেন। তার মতে, এই অভ্যাসকে কেবল ডায়েট হিসেবে দেখার বিষয় নয়।
পর্যাপ্ত ঘুম ও পানি পান
শরীরচর্চার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম ও পানি পানকেও গুরুত্ব দেন মালাইকা। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ঘুমের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন তিনি। দৈনন্দিন জীবনে পর্যাপ্ত পানি পান নিশ্চিত করার বিষয়েও সচেতন থাকার কথা জানিয়েছেন।
নিয়মিত অভ্যাস ধরে রাখা
মালাইকার ফিটনেসের অভ্যাস থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি শেখা যায়, তা হলো ধারাবাহিকতা। শুধু একটি নির্দিষ্ট ব্যায়াম বা খাবারের ওপর নির্ভর না করে শরীরচর্চা, সুষম খাবার, ঘুম ও নিজের যত্ন নেওয়ার মতো বিষয়গুলোকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সুস্থ থাকার জন্য হঠাৎ কঠোর ব্যায়াম শুরু করা কিংবা অতিরিক্ত বিধিনিষেধযুক্ত ডায়েট অনুসরণ করা জরুরি নয়। বরং নিজের শারীরিক সক্ষমতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাবার এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভ্যাস গড়ে তোলাই দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর।
মালাইকা অরোরার জীবনযাপনের এই দিকগুলো মনে করিয়ে দেয়, ফিটনেস কোনো সাময়িক লক্ষ্য নয়; বরং নিয়মিত যত্ন ও সচেতনতার মাধ্যমে গড়ে ওঠা একটি দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাস।
সূত্র: এনডিটিভি
