জমির দলিল করার আগে যে ৭টি বিষয় যাচাই করা জরুরি
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জমি কেনা অনেকের জীবনের অন্যতম বড় বিনিয়োগ। তবে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ছাড়াই দলিল তৈরি বা নিবন্ধন করলে ভবিষ্যতে আর্থিক ক্ষতি ও আইনি জটিলতার আশঙ্কা থাকে। তাই জমির মালিকানা থেকে শুরু করে দাগ-খতিয়ানের তথ্য—সবকিছু ভালোভাবে যাচাই করে দলিল সম্পাদন করা জরুরি।
জমির দলিল করার আগে যে সাতটি বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন, সেগুলো হলো—
১. বিক্রেতার পরিচয় ও আইনগত যোগ্যতা যাচাই
প্রথমেই বিক্রেতার পরিচয় এবং জমি বিক্রির আইনগত অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তিনি প্রাপ্তবয়স্ক কি না, দলিল সম্পাদনের সক্ষমতা আছে কি না এবং জমি হস্তান্তরে কোনো আইনি বাধা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা জরুরি।
২. জমির মালিকানা নিশ্চিত করা
বিক্রেতা সত্যিই জমিটির বৈধ মালিক কি না, তা নিশ্চিত হতে হবে। উত্তরাধিকারসূত্রে জমি পেয়ে থাকলে উত্তরাধিকার সনদ, সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র এবং মালিকানার ধারাবাহিকতা পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
৩. দাগ ও খতিয়ান নম্বর মিলিয়ে দেখা
দলিলে উল্লেখ করা দাগ ও খতিয়ান নম্বর সর্বশেষ পর্চা এবং সরকারি ভূমি রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস বা রেকর্ড রুম থেকে তথ্য যাচাই করুন।
৪. জমির সীমানা ও অবস্থান স্পষ্ট করা
দলিলে জমির সঠিক পরিমাণ, অবস্থান এবং চারপাশের সীমানা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকা উচিত। অস্পষ্ট বা ভুল বিবরণ ভবিষ্যতে জমি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করতে পারে। প্রয়োজনে সরেজমিনে জমি মেপে নিন।
৫. দলিলে কাটাকাটি ও অস্পষ্টতা এড়িয়ে চলা
দলিলের কোথাও কাটাকাটি, ঘষামাজা বা অস্পষ্ট লেখা থাকলে তা ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। কোনো সংশোধনের প্রয়োজন হলে তা যথাযথ নিয়মে উল্লেখ ও অনুমোদন করানো জরুরি।
৬. স্বাক্ষর ও সাক্ষীর বিষয়টি নিশ্চিত করা
দলিল সম্পাদনের সময় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর স্বাক্ষর এবং পরিচয় যাচাইয়ের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। সাক্ষী ও শনাক্তকারীর প্রয়োজনীয় তথ্য ও স্বাক্ষরও নিশ্চিত করুন। এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন ও নিবন্ধন কার্যালয়ের নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
৭. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা
দলিল সম্পাদনের আগে জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রাসঙ্গিক খতিয়ান বা পর্চা, জমির আগের দলিল, ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা এবং মালিকানার অন্যান্য প্রমাণপত্র প্রস্তুত রাখুন। এতে তথ্য যাচাই ও নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সহজ হয়।
জমির দলিল করার সময় এই সাতটি বিষয়ে সতর্ক থাকলে ভবিষ্যতে মালিকানা নিয়ে বিরোধ ও আইনি জটিলতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। মনে রাখতে হবে, জমি কেনা শুধু অর্থের লেনদেন নয়—এটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ। তাই দলিল চূড়ান্ত করার আগে সব কাগজপত্র যাচাই করুন এবং প্রয়োজনে অভিজ্ঞ ভূমি আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
